যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

স্পেন কেন ফেবারিট তা বুঝিয়ে দিলো সৌদিকে

সুবর্ণভূমি ডেস্ক

প্রকাশ : সোমবার, ২২ জুন,২০২৬, ১২:৫৪ পিএম
আপডেট : সোমবার, ২২ জুন,২০২৬, ০২:১১ পিএম
স্পেন কেন ফেবারিট তা বুঝিয়ে দিলো সৌদিকে

গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে দুর্বল কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র। ইউরোপের চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বকাপে এমন হতাশার শুরু অবিশ্বাস্য লাগছিল। প্রত্যাশার যে পর্বতসম চাপ স্পেনের কাঁধে, তার জবাব দিতে একটা জাদুকরি রাতের প্রয়োজন ছিল।

আটলান্টার মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে সৌদি আরবের বিপক্ষে ঠিক সেটাই উপহার দিলো ‘লা রোজা’রা।

৪ গোলের উৎসব আর মাঠজুড়ে ছড়ানো মায়াজালে স্পেন যেন জানান দিলো—তারা শুধু খেলতেই আসেনি, এসেছে বিশ্ব জয়ের লক্ষ্য নিয়ে।

ম্যাচের শুরুতেই রক্ষণাত্মক খোলসে ঢুকে পড়েছিল সৌদি আরব। অতিমাত্রায় পিছিয়ে এসে ৫-৪-১ ফরমেশনের যে ‘লো ব্লক’ তারা তৈরি করেছিল, তা আদতে কোনো ঢাল হতে পারেনি। উল্টো স্প্যানিশ মাঝমাঠের শিল্পীদের যেন আমন্ত্রণ জানাল ফাঁকা জায়গা খুঁজে নেওয়ার। সেই ফাঁক গলে ম্যাচের প্রথম ২৪ মিনিটেই ৩ গোল খেয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে চমকে দেওয়া দেশটি।

ম্যাচের বয়স তখন মাত্র ১০ মিনিট। বাঁ প্রান্ত ধরে ঝড়ের গতিতে এগিয়ে গেলেন মিকেল ওইয়ারসাবাল। রক্ষণ ভেঙে বক্সে বাড়ালেন এক আমন্ত্রণমূলক নিচু ক্রস। আর সেখানে বাজপাখির মতো ছোঁ মেরে বল জালে জড়ালেন স্প্যানিশ ফুটবলের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল। বিশ্বকাপে তার প্রথম গোল, হয়তো এক নতুন গল্পের শুরুও।

২১ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্পেন। কর্নার থেকে উড়ে আসা বল দানি ওলমোর ফ্লিকে চলে যায় ছয় গজ বক্সে। সৌদি ডিফেন্ডারদের ক্লিয়ার করতে না পারার খামখেয়ালিপনার মাঝে মাথা ছুঁইয়ে বলের দিক বদলে দেন এমেরিক লাপোর্ত। সেখান থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান ওইয়ারসাবাল। তিন মিনিট পর স্কোরলাইন ৩-০!

এবার মার্ক কুকুরেয়ার বুক দিয়ে নামানো ক্রস দানি ওলমো বাড়িয়ে দেন হেডে। আর নিখুঁত শটে নিজের জোড়া গোল পূর্ণ করেন ওইয়ারসাবাল। প্রথমার্ধের প্রথম তিনটি গোলেই সরাসরি জড়িয়ে থাকলো রিয়াল সোসিয়েদাদ স্ট্রাইকারের নাম। ৩৬ মিনিটে তো তার বাঁ পায়ের বাঁকানো শট ক্রসবারে লেগে ফিরে না এলে হ্যাটট্রিকটাই হয়ে যেত!

মাঝমাঠে ততক্ষণে রদ্রি ফিরে পেয়েছেন তার চেনা ছন্দ। খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা, রক্ষণ চেরা পাস দেওয়া-সবখানেই যেন তিনি একচ্ছত্র অধিপতি। ফুটবল যদি কবিতা হয়, তবে রদ্রি ছিলেন তার ছন্দ নিয়ামক।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে তার সেরা দুই ফরোয়ার্ডকে বিশ্রাম দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ওইয়ারসাবাল ও ইয়ামালকে তুলে মাঠে নামানো হয় ফেরান তোরেস ও ইয়েরেমি পিনোকে। তবে স্পেনের আক্রমণের ধার কমেনি। ৪৯ মিনিটে দলের চতুর্থ গোলটি আসে সৌদির দুর্ভাগ্য হিসেবে।

আলেক্স বায়েনার কর্নার থেকে কুকুরেয়া ভলি করেছিলেন। সৌদি গোলরক্ষক মোহাম্মদ আল-ওয়াইস দারুণ এক সেভ করলেও বল দুর্ভাগ্যবশত ডিফেন্ডার হাসান আল-তাম্বাকতির গায়ে লেগে জালে জড়িয়ে যায়। ৪-০ গোলের লিড নিয়ে ম্যাচ তখন রূপ নেয় একতরফা প্রদর্শনীতে।

৬৫ মিনিটে ব্যবধান ৫-০ হতে পারত। মিকেল মেরিনোর ডিফেন্স-চেরা থ্রু বল ধরে বক্সে ঢুকে পড়েছিলেন ফেরান তোরেস। কিন্তু গোলরক্ষক আল-ওয়াইসের কড়া প্রহরায় তার শটটি পোস্টের সামান্য বাইরে দিয়ে চলে যায়।

ম্যাচের শেষ মুহূর্তে ইনজুরি সময়ে পেদ্রো পোরোর ক্রসে ফেরান তোরেস বল জালে জড়ালেও দীর্ঘ ভিএআর চেকের পর অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

পুরো ম্যাচে সৌদি আরব নিজেদের প্রথম অন-টার্গেট শটটি নিতে পেরেছে ৮০ মিনিটের পর। আর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত বলের দখল আর ছন্দের যে মেলবন্ধন স্পেন দেখাল, তাতে একটি বিষয় নিশ্চিত।

কেপ ভার্দের বিপক্ষে স্রেফ একটা বাজে দিন কেটেছে তাদের। ‘এইচ’ গ্রুপের শীর্ষে ওঠা এই স্পেন সত্যিই বিশ্বকাপের বড় দাবিদার।

 

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)