যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

চার তারার ঐতিহ্য কি হুমকির মুখে!

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : শুক্রবার, ২৬ জুন,২০২৬, ০২:৪০ পিএম
চার তারার ঐতিহ্য কি হুমকির মুখে!

বিশ্বকাপের মঞ্চে জার্মানি মানেই ছিল নির্ভরতার প্রতিশব্দ। বিশেষ করে গ্রুপ পর্ব। এই ধাপটি একসময় ডাই-ম্যানশাফটের জন্য ছিল আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। ১৯৫৪ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৫টি আসরে গ্রুপ পর্বে তারা হেরেছিল মাত্র ছয়বার। অথচ গত এক দশকের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা এখন গ্রুপ পর্বেই হোঁচট খেয়ে তাদের ঐতিহ্যকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বকাপ ইতিহাসে জার্মানির গ্রুপ পর্বে মোট পরাজয়ের সংখ্যা ৯। এই নয় হারের এক-তৃতীয়াংশই এসেছে সর্বশেষ তিনটি আসরে। ২০১৮ সালে রাশিয়ায় মেক্সিকোর কাছে ০-১ গোলের অপ্রত্যাশিত হার দিয়ে শুরু। এরপর ২০২২ সালে কাতারে জাপানের কাছে ১-২ গোলে নাটকীয় পরাজয়। আর ২০২৬ আসরে ইকুয়েডরের কাছে হারের মধ্য দিয়ে টানা তিনটি বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে হারার লজ্জাজনক রেকর্ড গড়ে ফেলেছে তারা।

এর ফলাফলও হাতেনাতে পেয়েছে জার্মানি। ২০১৮ এবং ২০২২- টানা দুই আসরেই গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোতে পারেনি চার তারকা জার্সিধারীরা। যে দলটি নকআউট পর্বের নিয়মিত বাসিন্দা ছিল, সেই দলই এখন গ্রুপ পর্বের সমীকরণ মেলাতে গিয়ে নাস্তানাবুদ।

এই পতনকে শুধু পরাজয়ের সংখ্যা দিয়ে ব্যাখ্যা করা যাবে না। এটি একটি ধারাবাহিক অবনতির চিত্র। ২০১৮ থেকে ২০২৬, মাত্র তিনটি বিশ্বকাপেই জার্মানি হেরেছে তিনটি ম্যাচ। অথচ ১৯৫৪ থেকে ২০১৪ সালের ৬০ বছরে তাদের হার ছিল মাত্র ছয়টি। অর্থাৎ, আগের ছয় দশকে যে ব্যর্থতা, সাম্প্রতিক আট বছরেই তার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। পরিসংখ্যানের এই গ্রাফ স্পষ্ট করে দিচ্ছে, জার্মান ফুটবল কাঠামোতে গভীর কোনো সংকট তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষণ বলছে, জার্মানির এই পতনের মূলে রয়েছে তিনটি আন্তঃসম্পর্কিত কারণ। প্রথমত, ট্যাকটিক্যাল দৈন্য। একসময় জার্মানির 'মেশিন ফুটবল’ অনুমানযোগ্য ছিল না। এখন প্রতিপক্ষ কোচরা তাদের প্রেসিং, ট্রানজিশন এবং ডিফেন্সিভ লাইন সহজেই পড়ে ফেলছেন।

দ্বিতীয়ত, মানসিকতার সংকট। মিরোস্লাভ ক্লোজা, বাস্তিয়ান শোয়াইনস্টাইগার, ফিলিপ লাম, ম্যানুয়েল ন্যুয়ারদের মতো নেতৃত্বদানকারী ফুটবলারের অভাব এখন প্রকট। চার তারার ঐতিহ্যের বিশাল চাপ নতুন প্রজন্ম বহন করতে পারছে না। বড় ম্যাচে পিছিয়ে পড়লে ঘুরে দাঁড়ানোর সেই জার্মান মানসিকতা এখন অনুপস্থিত।

তৃতীয়ত, আক্রমণভাগের ধার কমে যাওয়া। সুযোগ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাব এবং শেষ মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্ত ম্যাচের ফল নির্ধারণ করে দিচ্ছে।

গ্রুপ পর্বে হার জার্মানির জন্য এখন আর শুধু ৩ পয়েন্টের ক্ষতি নয়। এটি তাদের ফুটবল পরিচয়ের সংকট। যে গ্রুপ পর্ব একসময় ছিল শক্তি প্রদর্শনের মঞ্চ, তা এখন আত্মসম্মান রক্ষার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ইকুয়েডরের মতো দলের কাছে হার প্রমাণ করে, জার্সির চারটি তারকা আর প্রতিপক্ষকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভয় পাওয়ায় না।

এখন প্রশ্ন একটাই, জার্মানির এই অবস্থা কি সাময়িক ছন্দপতন, নাকি একটি সোনালি যুগের স্থায়ী পতন? উত্তর খুঁজতে হলে ডাই-ম্যানশাফটকে শুধু খেলোয়াড় বদল নয়, মানসিকতা, কৌশল এবং ফুটবল দর্শনেও আমূল পরিবর্তন আনতে হবে। নাহলে গ্রুপ পর্বের এই অভিশাপ থেকে মুক্তি মেলা কঠিন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন