তসলিম শিমুল
, যশোর
বিশ্বকাপ শুরুর আগে কেপ ভার্দের নাম উচ্চারণ করলেও অনেকেই অবাক হতেন। মাত্র পাঁচ লাখ ৩০ হাজার মানুষের ছোট্ট একটি দ্বীপরাষ্ট্র, যাদের নকআউটে ওঠার সম্ভাবনা ধরা হয়েছিল মাত্র ১ শতাংশ। ফুটবল বিশ্লেষকদের চোখে তারা ছিল কেবল অংশগ্রহণকারী, প্রতিযোগী নয়।
কিন্তু ফুটবল বারবার প্রমাণ করেছে, পরিসংখ্যান সবসময় শেষ কথা বলে না।
অবিশ্বাস্য লড়াই, অসীম আত্মবিশ্বাস আর দুর্দান্ত দলীয় পারফরম্যান্সে স্পেন, উরুগুয়ে ও সৌদি আরবের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে তিনটি মূল্যবান ড্র করে ইতিহাস গড়েছে কেপ ভার্দে। প্রথমবারের মতো তারা নিশ্চিত করেছে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নিজেদের জায়গা।
এই স্বপ্নযাত্রার সবচেয়ে বড় নায়ক ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনহা। যে বয়সে অধিকাংশ ফুটবলার অবসরের কথা ভাবেন, সে বয়সে তিনি হয়ে উঠেছেন কেপ ভার্দের অভেদ্য প্রাচীর। স্পেনের বিপক্ষে সাতটি অবিশ্বাস্য সেভ, সৌদি আরবের বিপক্ষে আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ। তার গ্লাভস যেন পুরো জাতির স্বপ্ন আগলে রেখেছে।
ম্যাচ শেষে ভোজিনহার একটি বাক্য যেন পুরো দলের পরিচয় হয়ে উঠেছে, ‘আমরা ছোট হতে পারি, কিন্তু আমাদের হৃদয় অনেক বড়। আমরা লড়াই করতে জানি।’
এবার সেই রূপকথার সামনে এখন অপেক্ষা করছে সবচেয়ে কঠিন অধ্যায়। প্রতিপক্ষ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। একদিকে লিওনেল মেসির অভিজ্ঞতা, জুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফার্নান্দেজ, ম্যাক অ্যালিস্টার, রডরিগো দি পলদের সমন্বয়ে তারকাখচিত দল, অন্যদিকে সাহস আর স্বপ্নে ভর করে এগিয়ে চলা ছোট্ট কেপ ভার্দে।
কাগজে-কলমে ফেভারিট অবশ্যই আর্জেন্টিনা। তবে বিশ্বকাপের ইতিহাস বলে, নকআউট পর্বে কোনো দলকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। মাত্র ১ শতাংশ সম্ভাবনা নিয়ে যারা এখানে এসেছে, তারা ইতোমধ্যেই অসম্ভবকে সম্ভব করে দেখিয়েছে।
এখন প্রশ্ন একটাই, কেপ ভার্দের রূপকথা কি আরও এক অধ্যায় লিখবে, নাকি মেসিদের অভিজ্ঞতা থামিয়ে দেবে তাদের স্বপ্নযাত্রা?
উত্তর মিলবে মাঠে। তবে ফলাফল যাই হোক, কেপ ভার্দে ইতোমধ্যেই জিতে নিয়েছে কোটি কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়। কারণ তারা মনে করিয়ে দিয়েছে, ফুটবলে বড় নাম নয়, বড় স্বপ্ন আর অদম্য লড়াইয়ের মানসিকতাই ইতিহাস গড়ে।