স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
বিশ্ব ফুটবলে রডরিগো দি পলের পরিচিতি আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডের অক্লান্ত যোদ্ধা হিসেবে। মাঠে তার আগ্রাসী খেলা, সতীর্থদের জন্য নিরলস পরিশ্রম আর লিওনেল মেসির অন্যতম বিশ্বস্ত সঙ্গী- সবই এখন ফুটবলপ্রেমীদের পরিচিত।
কিন্তু প্রতিটি ম্যাচের আগে তার একটি ছোট্ট অভ্যাস অনেকেরই নজর কাড়ে। স্টেডিয়ামে পৌঁছে লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে সঙ্গে নিয়ে তিনি মাঠে হাঁটতে হাঁটতে সেন্টার সার্কেলের কাছে যান। সেই সময় তার মুখে থাকে একটি ক্যান্ডি, আর হাতে থাকে আরেকটি ক্যান্ডির প্যাকেট।
অনেকেই ভাবতেন, এটি হয়তো শুধুই একটি অভ্যাস। কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে আছে ভালোবাসা, ত্যাগ আর কৃতজ্ঞতার এক গভীর গল্প।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দি পলের মা মনিকা সেই গল্পটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, ছোটবেলায় অনুশীলনে যাওয়ার আগে রডরিগোর দাদু তাকে কয়েকটি কয়েন দিতেন, যাতে সে নিজের পছন্দের ক্যান্ডি কিনতে পারে। ছোট্ট রডরিগো তখন বুঝতেই পারেনি, সেই টাকাই ছিল তার দাদুর বাসভাড়া।
নাতির মুখে হাসি ফোটানোর জন্য দাদু নিজের বাসভাড়ার টাকা দিয়ে দিতেন। আর নিজে দীর্ঘ পথ হেঁটে বাড়ি ফিরতেন। নিজের কষ্টের কথা তিনি কোনোদিন কাউকে বলেননি।
বহু বছর পরে সত্যিটা জানতে পারেন রডরিগো দি পল। তখন তিনি বুঝতে পারেন, প্রতিটি ক্যান্ডির ভেতরে লুকিয়ে ছিল তার দাদুর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা আর ত্যাগ।
আজ তিনি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। জিতেছেন ফিফা বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা। বিশ্বের অন্যতম সেরা মিডফিল্ডার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। কিন্তু জীবনের এত বড় সাফল্যের পরও তিনি সেই শৈশবের স্মৃতিকে ভুলে যাননি।
তাই প্রতিটি ম্যাচের আগে মুখে একটি ক্যান্ডি রাখেন। এটি কোনো কুসংস্কার নয়, কোনো ফ্যাশনও নয়। এটি তার দাদুর প্রতি নীরব শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসার প্রতীক।
যেমন লিওনেল মেসি গোল করার পর আকাশের দিকে তাকিয়ে তার প্রয়াত দাদিকে স্মরণ করেন, তেমনি রডরিগো দি পল প্রতিটি ম্যাচে একটি ক্যান্ডির মাধ্যমে স্মরণ করেন সেই মানুষটিকে, যিনি নিজের স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে নাতির স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছিলেন।
ফুটবল শুধু গোল, ট্রফি কিংবা জয়ের গল্প নয়। ফুটবল এমন অসংখ্য অদেখা ত্যাগ, ভালোবাসা আর সম্পর্কের গল্পও বলে। রডরিগো দি পলের ক্যান্ডির গল্প মনে করিয়ে দেয়, প্রতিটি সফল মানুষের পেছনে এমন একজন থাকেন, যিনি কোনো স্বীকৃতি চান না; শুধু চান প্রিয়জনের স্বপ্ন পূরণ হোক।