তসলিম শিমুল
, যশোর
নকআউট পর্ব শুরু হওয়ার আগেই ধারণা ছিল আফ্রিকার দলগুলো সহজে হার মানবে না। মাঠের লড়াইয়ে সেই বিশ্বাসেরই প্রতিফলন দেখা গেল। কেউ বিদায় নিয়েছে, কেউ ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে চলেছে; কিন্তু প্রায় প্রতিটি আফ্রিকান দলই প্রমাণ করেছে, শেষ বাঁশি বাজার আগে তারা কখনও আত্মসমর্পণ করে না।
কেপ ভার্দে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে। ভোজিনহা, সিডনি লোপেজরা ১২০ মিনিট পর্যন্ত চোখে চোখ রেখে লড়াই করেছেন, যা ফুটবলপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে।
কঙ্গো ইংল্যান্ডের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে দীর্ঘ সময় ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। গোলরক্ষক এমপাসির অসাধারণ সব সেভে বারবার হতাশ হয়েছেন বেলিংহামরা। শেষ পর্যন্ত হারলেও কঙ্গোর সাহসী ফুটবল প্রশংসা কুড়িয়েছে।
আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিশর ৭৮ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে সবাইকে চমকে দিয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ফল নিজেদের পক্ষে আনতে না পারলেও সালাহ-জিকোদের পারফরম্যান্স ছিল প্রশংসার দাবিদার।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে সেনেগাল ৮৫ মিনিট পর্যন্ত ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল। অতিরিক্ত সময়ে বিতর্কিত পেনাল্টির সিদ্ধান্তে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। তবুও সেনেগাল দেখিয়েছে, তারা এখন বড় দলের সঙ্গে সমানে লড়াই করতে পারে।
দক্ষিণ আফ্রিকা ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে অনেক এগিয়ে থাকা কানাডাকে ৯১ মিনিট পর্যন্ত গোলশূন্য আটকে রেখেছিল। শৃঙ্খলাবদ্ধ রক্ষণভাগ এবং দলীয় সমন্বয় ছিল তাদের বড় শক্তি।
নরওয়ের বিপক্ষে আইভরি কোস্ট পিছিয়ে পড়েও দারুণভাবে সমতায় ফিরেছিল। তবে শেষ দিকে হালান্ডের গোলে ১-২ ব্যবধানে হারতে হয়। তবুও তাদের লড়াই ছিল শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত।
ঘানা শক্তিশালী কলম্বিয়ার বিপক্ষে মাত্র এক গোলের ব্যবধানে হেরেছে। ফলাফল যতটা না আলোচিত হয়েছে, তার চেয়ে বেশি প্রশংসার দাবিদার ছিল তাদের সংগঠিত ও সাহসী ফুটবল।
আর মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে, তাদের সাফল্য আর কোনো দুর্ঘটনা নয়। নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে শেষ ষোলো এবং কানাডাকে বিদায় করে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে তারা আফ্রিকান ফুটবলের নতুন পতাকাবাহী হয়ে উঠেছে।
এই বিশ্বকাপে আফ্রিকার দলগুলোর সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল তাদের অদম্য মানসিকতা। তারা হয়তো সব ম্যাচ জিততে পারেনি, কিন্তু প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলেছে। অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শেষ মুহূর্তের চাপ সামলানোর সক্ষমতাও বাড়বে। সেদিন হয়তো বিশ্বকাপের শেষ ধাপগুলোতেও আরও বেশি সংখ্যায় দেখা যাবে আফ্রিকার প্রতিনিধিদের।
আফ্রিকার ফুটবল আজ আর শুধু প্রতিভার স্বাক্ষর নয়; এটি সংগ্রাম, আত্মবিশ্বাস এবং শেষ পর্যন্ত লড়ে যাওয়ার এক অনুপ্রেরণার নাম। এই বিশ্বকাপ সেই বার্তাই আরও একবার বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরেছে।
ধন্যবাদ পেতেই পারে আফ্রিকা এই লড়াই, এই সাহস আর এই অদম্য মানসিকতার জন্য।