যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

বিশ্বকাপের স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে যেসব কিংবদন্তির

তসলিম শিমুল

প্রকাশ : শুক্রবার, ১০ জুলাই,২০২৬, ০১:০০ পিএম
বিশ্বকাপের স্বপ্ন অধরা রয়ে গেছে যেসব কিংবদন্তির

ফুটবল ইতিহাসে এমন অনেক কিংবদন্তি আছেন, যাদের অর্জনের তালিকা ঈর্ষণীয়। কেউ জিতেছেন একাধিক ব্যালন ডি’অর, কেউ আবার ক্লাব ফুটবলে অসংখ্য শিরোপা। কিন্তু ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি কখনোই হাতে তোলা হয়নি তাদের। ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল রাউন্ড শেষে সেই তালিকায় আরও কয়েকটি আলোচিত নাম যুক্ত হয়েছে।

জর্জ বেস্ট (উত্তর আয়ারল্যান্ড)

১৯৬৮ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী জর্জ বেস্টকে সর্বকালের অন্যতম সেরা প্রতিভাবান ফুটবলার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে উত্তর আয়ারল্যান্ড কখনোই তার সময়ে বিশ্বকাপের মূলপর্বে জায়গা করে নিতে না পারায় বিশ্বকাপে খেলার সুযোগই পাননি তিনি। এটিই ছিল তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় আক্ষেপ।

ফেরেঙ্ক পুসকাস (হাঙ্গেরি)

হাঙ্গেরির কিংবদন্তি ফেরেঙ্ক পুসকাস জাতীয় দলের হয়ে ৮৫ ম্যাচে ৮৪ গোল করেছিলেন। ১৯৫৪ বিশ্বকাপে তার নেতৃত্বে হাঙ্গেরি ফাইনালে উঠলেও পশ্চিম জার্মানির কাছে ৩-২ গোলে হেরে যায়। ‘মিরাকল অব বার্ন’ নামে পরিচিত সেই ম্যাচে গোল করেও বিশ্বকাপ জয়ের স্বাদ পাননি পুসকাস।

জিকো (ব্রাজিল)

‘হোয়াইট পেলে’ নামে পরিচিত জিকো ১৯৭৮, ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপ খেলেছেন। ১৯৮২ সালের দুর্দান্ত ব্রাজিল দলটির অন্যতম তারকা হয়েও ট্রফি জেতা হয়নি তার। জাতীয় দলের হয়ে ৭১ ম্যাচে ৪৮ গোল করলেও বিশ্বকাপে সাফল্য অধরাই থেকে যায়।

ইউসেবিও (পর্তুগাল)

১৯৬৫ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী ইউসেবিও মাত্র একবার বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। ১৯৬৬ আসরে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেও পর্তুগাল সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে যায়। এরপর আর বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতা হয়নি তার।

ইয়োহান ক্রুইফ (নেদারল্যান্ডস)

টোটাল ফুটবলের জনক হিসেবে পরিচিত ইয়োহান ক্রুইফ ১৯৭৪ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসকে ফাইনালে তুলেছিলেন। পুরো টুর্নামেন্টে দাপট দেখিয়েও ফাইনালে স্বাগতিক পশ্চিম জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন ভেঙে যায় তাদের।

মিশেল প্লাতিনি (ফ্রান্স)

১৯৮৩ থেকে ১৯৮৫ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার ব্যালন ডি’অর জেতা মিশেল প্লাতিনি ফ্রান্সের হয়ে ৭২ ম্যাচে ৪১ গোল করেন। ১৯৮২ ও ১৯৮৬- দুই বিশ্বকাপেই সেমিফাইনালে উঠলেও দু’বারই পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরে বিদায় নিতে হয় ফরাসিদের।

রবার্তো ব্যাজ্জিও (ইতালি)

ইতালির কিংবদন্তি রবার্তো ব্যাজ্জিও ১৯৯৪ বিশ্বকাপে দলকে ফাইনালে তুলেছিলেন। তবে ব্রাজিলের বিপক্ষে টাইব্রেকারে তার পেনাল্টি ক্রসবারের ওপর দিয়ে উড়ে গেলে বিশ্বকাপ হাতছাড়া হয় ইতালির। ১৯৯৩ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ী রবার্তো ব্যাজ্জিওর ক্যারিয়ারেও বিশ্বকাপ ট্রফি যোগ হয়নি।

ডেভিড বেকহ্যাম (ইংল্যান্ড)

১৯৯৮, ২০০২ ও ২০০৬- টানা তিনটি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক ছিলেন ডেভিড বেকহ্যাম। তবে তার নেতৃত্বে ইংল্যান্ড কখনোই কোয়ার্টার ফাইনালের বাধা পেরিয়ে সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি।

অলিভার কান (জার্মানি)

জার্মানির কিংবদন্তি গোলরক্ষক অলিভার কান ২০০২ বিশ্বকাপে ফাইনালের আগে পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করেছিলেন। কিন্তু ফাইনালে ব্রাজিলের কাছে ২-০ গোলে হেরে শিরোপার স্বপ্ন ভেঙে যায়। ক্লাব পর্যায়ে অনেক সাফল্য পেলেও বিশ্বকাপ জেতা হয়নি তার।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল)

ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ আন্তর্জাতিক গোলদাতা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ২০০৬ সাল থেকে টানা ছয়টি বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছেন। বিশ্বকাপে তার গোলসংখ্যা ১১। ২০২৬ আসরে ৪১ বছর বয়সেও শিরোপার স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন। তবে স্পেনের কাছে হেরে বিদায় নেয় পর্তুগাল। পাঁচটি ব্যালন ডি’অর ও অনেক ক্লাব শিরোপা জিতলেও বিশ্বকাপ ট্রফি অধরাই রয়ে গেছে তার।

নেইমার (ব্রাজিল)

২০১৪ থেকে ২০২৬ পর্যন্ত চারটি বিশ্বকাপে খেলেছেন নেইমার। বিশ্বকাপে করেছেন নয় গোল। অলিম্পিক স্বর্ণ, কনফেডারেশনস কাপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বর্ষসেরা ফুটবলারের স্বীকৃতি থাকলেও বিশ্বকাপ শিরোপা জেতা হয়নি ব্রাজিলের এই তারকার। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে নরওয়ের কাছে হেরে বিদায় নেয় ব্রাজিল, আর শেষ পর্যন্ত অপূর্ণই থেকে যায় নেইমারের বিশ্বজয়ের স্বপ্ন।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)