যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ৭ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ড্যাব যশোর জেলা শাখা

পুনর্জাগরণ নাকি সুবিধাবাদীদের ভিড়!

সৈয়দ শাহ মোস্তফা হাসমী

, যশোর

প্রকাশ : শুক্রবার, ৭ আগস্ট,২০২৬, ১০:০০ এ এম
পুনর্জাগরণ নাকি সুবিধাবাদীদের ভিড়!

চিকিৎসকদের অন্যতম প্রধান সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) যশোর জেলা শাখায় সদস্য সংখ্যা হঠাৎ বৃদ্ধি পাওয়া এবং নতুন কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে অভ্যন্তরীণ কোন্দল তীব্র আকার নিয়েছে। এক পক্ষের মত, এটি ‘সাংগঠনিক পুনর্জাগরণ’। তবে অন্য পক্ষের ভাষ্য, পরিস্থিতি অনুকূলে দেখে সুবিধাবাদীরা এখন সংগঠনে ভীড় জমিয়েছেন; যা অশনিসংকেত।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে সংগঠনে হঠাৎ করেই সাধারণ সদস্যদের ভিড় ও পদপ্রত্যাশীদের সংখ্যা ধারণাতীতভাবে বেড়েছে। তবে এই আকস্মিক সদস্য বৃদ্ধির পেছনে ‘সুযোগসন্ধানী’ ও ‘ভোল পাল্টানো’ চিকিৎসকদের আধিক্য বেশি বলে অভিযোগ তুলেছেন সংগঠনের জ্যেষ্ঠ ও ত্যাগীরা। তাদের মতে, যশোর জেলা ও সরকারি মেডিকেল কলেজে ড্যাবের কমিটিতে নিপীড়িত ও ত্যাগী চিকিৎসকদের প্রাধান্য দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা উচিত।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০১০ সালে ডা. এস এম আবু আহসান লাল্টুকে সভাপতি ও ডা. ইমদাদুল হককে সাধারণ সম্পাদক করে যশোরে ড্যাবের জেলা কমিটি গঠিত হয়েছিল। ২০১৯ সালে ড্যাবের কেন্দ্রীয় নির্দেশে সেই কমিটি ভেঙে দেওয়া হয়। পরে নতুন কমিটির তালিকা কেন্দ্রে পাঠানো হলেও অনুমোদন দেওয়া হয়নি, আবার তালিকা প্রত্যাখ্যানও করা হয়নি। ফলে, প্রায় দশ বছর ধরে ডাক্তার এস এম আবু আহসান লাল্টুর নেতৃত্বে ড্যাবের কার্যক্রম চলে আসছে। শহরের আরএন রোডে একটি চেম্বারে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু হয়। তখন ডাক্তার লাল্টুর নেতৃত্বে ডাক্তার মোজাম্মেল হোসেন, ডাক্তার শাহাবুল করিম, ডাক্তার শাহাবুদ্দিন আহম্মেদ, ডাক্তার শহিদুল ইসলাম মুরাদ, ডাক্তার আব্দুস সামাদ, ডাক্তার ফারুক এহতেশাম পরাগ, ডাক্তার ওবাইদুল কাদের উজ্জ্বল, ডাক্তার আব্দুল কাদের, আবু হায়দার মনিরুজ্জামানসহ ড্যাবের ত্যাগী নেতারা ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন অত্যাচারের মুখেও শক্ত হাতে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে গেছেন।

কিন্তু ৫ আগস্টের পর পরিস্থিতি বদলে যায়। বিরুদ্ধস্রোতে চলা সংগঠনের সেই সব ত্যাগী নেতার অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে সরকারনিয়ন্ত্রিত বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) অথবা আওয়ামী রেজিমের কট্টর সমর্থকদের সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সুবিধাভোগী ছিলেন ডা. রবিউল ইসলাম তুহিন, ডা. ওহেদুজ্জামান আজাদ, ডা. আলাউদ্দিন আল মামুন, ডা. শরিফুল আলম খান, মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. আহসান হাবীব, ডা. নাজমুল হকসহ বেশ কয়েক চিকিৎসক; যা সময়ের সাথে সাথে ভোল পাল্টে ড্যাবের নেতৃত্বে এসেছেন। এ নিয়ে জাতীয়তাবাদী ধারার চিকিৎসকদের মধ্যে ঘোর দ্বান্দ্বিক অবস্থা তৈরি হয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে নিয়ে বিষোদ্গার করছেন।

এদিকে, গত ২৮ জুলাই ড্যাবের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সভাপতি অধ্যাপক হারুন অর রশীদের সভাপতিত্বে খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক উপ-কমিটির সভায় যশোরসহ বিভিন্ন জেলার কমিটি গঠনের দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় যশোরের পরিস্থিতি তুলে ধরেন ডা. মো. ফারুক এহতেশাম পরাগ। পরে কেন্দ্রীয় নেতারা পরিস্থিতি বিবেচনায় দ্রুত সাংগঠনিক উপ-কমিটির মাধ্যমে যশোর জেলা ও মেডিকেল কলেজের আহ্বায়ক কমিটি গঠনের কড়া নির্দেশনা প্রদান করেন। একইসাথে আগামী ৮ আগস্ট সরকারপ্রধানের উপস্থিতিতে ড্যাবের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল করার জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

এ নিদের্শনার পরে যশোর জেলা ও যশোর মেডিকেল কলেজ (যমেক) শাখায় ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব আরো বেড়েছে। এক পক্ষ অপর পক্ষকে ‘সুযোগসন্ধানী’ ও ‘ভোল পাল্টানো’ চিকিৎসক বলে অভিযোগ করছেন।

২০১০ সালে যশোর মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয়। সে সময় পর্যন্ত ড্যাবের সদস্য সংখ্যা ঠিক ছিল। পরে মেডিকেল কলেজের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে কলেজে নতুন চিকিৎসক ও শিক্ষক বদলি হয়ে যশোরে আসেন। আবার নতুন নতুন ছাত্ররা এমবিবিএস পাস করে চিকিৎসক হয়েছেন। তাদের অনেকে আওয়ামী আমলে স্বাচিপ-এর সাথে জড়িত ছিলেন। কিন্তু বর্তমানে তারা জার্সি পাল্টে ড্যাবের সদস্য হয়েছেন। নিজের অবস্থান সংহত করতে ডা. তুহিন সুবিধাবাদীদের এই সুযোগ দিয়েছেন বলে অভিযোগ।

এদিকে, আগে যারা যশোরে ড্যাব-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, ফ্যাসিবাদী জমানায় তাদের দৌড়ের ওপর রাখা হয়। এখন পরিস্থিতি অনুকূলে আসায় তারা যশোরে বদলি হয়ে এসেছেন। ফলে ড্যাব-এর সদস্য সংখ্যা স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। তারা মাটি কামড়ে থাকা ত্যাগী সংগঠকদের সাথে মিলে ড্যাবের মানবিক ও পেশাগত কর্মসূচিতে ভূমিকা রেখে চলেছেন। কিন্তু হঠাৎ করেই ডাক্তার রবিউল ইসলাম তুহিনের অনুসারীরা নেতৃত্বে ‘যশোর জেলা ও যমেক শাখার একটি নতুন আহ্বায়ক কমিটির’ একটি তালিকা সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ করা হচ্ছে। ড্যাব সদস্যদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টির জন্য এই তৎপরতা বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংগঠনের এক জ্যেষ্ঠ ত্যাগী নেতা বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে যশোরে ড্যাবের অনেক সদস্যকে বদলি, মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। ডা. রবিউল আলম, ডা. নাহিদ কামাল চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। ডা. লাল্টুকে একের পর এক সিলেটসহ বিভিন্ন দূরবর্তী স্থানে বদলি করা হয়। একইভাবে ডা. ইমদাদুল হক, ডা. রাশেদ রেজা প্রমুখদেরও একের পর এক বদলির মাধ্যমে চরম হয়রানি করা হয়। ফ্যাসিবাদী আমলে যশোর জেনারেল হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. হাসান আল মামুনকে চাকরিচ্যুত করা হয়। পরে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটুকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে পদায়ন করা হলেও তাকে যোগদানে বাধা দেওয়া হয়। কারণ তিনি ড্যাবের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে নাগরিকদের চাপের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয় স্বাচিপ। এরও পর মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে তিনি হাসপাতালের দায়িত্ব নিতে পেরেছিলেন। মেডিকেল অফিসার ডা. রবিউল আলমকে পুলিশ হাসপাতালে বদলি করা হয়। একপর্যায়ে তিনি মানসিক নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে সরকারি চাকরি ছেড়ে দেন। এছাড়া, ড্যাবের প্রথম সারির সাংগঠনিক কর্মী ডা. ফারুক এহতেশাম পরাগকে বিভিন্ন স্থানে বদলি ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে।

যশোর জেলা স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদ (স্বাচিপ) নেতা ডা. কামরুল ইসলাম বেনু, ডা. এম এ বাশার, ডা. আতিকুর রহমান, ডা. সালাউদ্দিন আহমেদসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে সেই সময় চরম স্বেচ্ছাচারিতা, বিরুদ্ধমত অনুসারীদের শায়েস্তা করতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণের অভিযোগ ওঠে। ডা. ওবায়দুল কাদের উজ্জ্বল, ডা. নিলুফার ইসলামসহ কয়েক ড্যাব সদস্যকে বদলি করা সম্ভব হয়নি। কিন্তু হাসপাতালে তাদের কোণঠাসা করে রেখে জীবন বিষিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। শুধু যশোর শহরেই নয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতেও স্বাচিপ নেতাদের কথায় ড্যাব সদস্যদের যখন-তখন বদলি ও নির্যাতন অব্যাহত ছিল বলে দাবি করা হয়। তখন ডা. শরিফুল আলম, মেডিকেল কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ডা. আহসান হাবীব, ডা. নাজমুল হকসহ কয়েকজনকে ড্যাব সদস্য স্বাচিপ নেতাদের কথায় ‘উঠবস’ করতে দেখা যায়।

সময়ের পরিবর্তনে এখন সেই চিকিৎসকরাই ডা. রবিউল ইসলাম তুহিন, ডা. ওহেদুজ্জামান আজাদ ও ডা. আলাউদ্দিন আল মামুনের নেতৃত্বে ড্যাবের ‘মূল ধারার’ সদস্য হিসেবে ক্ষমতা জাহির করছেন বলে এক পক্ষের অভিযোগ। এমনকী তারা ড্যাবের কমিটি দখলেও মরিয়া হয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ করা হচ্ছে।

সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ নেতারা জানান, সংগঠন বড় হলে সদস্য বাড়বে এটা স্বাভাবিক। তবে যারা বিগত দিনে স্বৈরাচারের দোসর বা সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন, তাদের রাতারাতি ড্যাবের জার্সি গায়ে দেওয়া মেনে নেওয়া যাবে না। কেন্দ্রকে সতর্ক থাকতে হবে।

অন্যদিকে সংগঠনের একাংশ, বিশেষ করে ‘সুবিধাবাদী’ তকমায় ভূষিতদের দাবি, পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে সাধারণ চিকিৎসকদের মাঝে ড্যাবের গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে; যা ইতিবাচক সাংগঠনিক জাগরণ। সে কারণে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাও জোরদার হয়েছে।

তবে যশোর ড্যাবের একাধিক প্রবীণ নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিগত দিনে যারা সংগঠনের কোনো কার্যক্রমে ছিলেন না এবং বিপরীত মতাদর্শের অনুসারীদের সঙ্গে গা ভাসিয়ে দিয়েছিলেন, পটপরিবর্তনের পর তারাই এখন ড্যাবের বড় পদ পেতে জোর লবিং চালাচ্ছেন। এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতিত ও ত্যাগী চিকিৎসকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। এই প্রক্রিয়াকে তারা ‘সাংগঠনিক পুনর্জাগরণ’ হিসেবে না দেখে, সুযোগসন্ধানীদের অনুপ্রবেশ হিসেবেই দেখছেন।

এ ব্যাপারে ড্যাব যশোর জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ডা. এস এম আবু আহসান লাল্টু বলেন, ‘যাদের বিরুদ্ধে কেন্দ্রে নালিশ করা হয়েছিল, তাদের অনেকের নাম সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো কমিটির তালিকায় ছিল। স্বৈরাচারী সরকারের আমলে যারা স্বাচিপ নেতাদের সঙ্গে সখ্য রেখে চলেছেন, তারা এখন ড্যাবের নেতা হওয়ার চেষ্টা করছেন। কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির নতুন কমিটি গঠনের অনুমোদন দিয়েছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে কমিটি গঠন করা হবে।’

ডা. ফারুক এহতেশাম পরাগ বলেন, ‘বিগত সরকারের আমলে যারা ড্যাবের কোনো কার্যক্রমে ছিলেন না, তারাই এখন বড় পদ পেতে লবিং করছেন। সুবিধাবাদীরা ভুয়া কমিটি তৈরি করেছেন। ত্যাগী ও নিষ্পেষিত চিকিৎসকদের নিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে ভোটের মাধ্যমে কমিটি গঠন করতে হবে।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, সুবিধাবাদী চক্র ৪৯ জনকে সদস্য করেছেন, যাদের অধিকাংশ আওয়ামী লীগ ও জামায়াত সমর্থিত।

অন্যদিকে, ডা. মেজবাউর রহমান জানান, গত ২৮ জুলাই কেন্দ্র একটি কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। তাকে আহ্বায়ক করা হতে পারে বলে তিনি শুনেছেন। যদি কেউ নতুন কমিটি নিজে নিজে গঠন করেন, তবে সে কমিটি নিশ্চিতভাবে ভুয়া। তিনি মূলধারার চিকিৎসকদের নিয়ে কমিটি গঠনের আহ্বান জানান।

এ ব্যাপারে ডা. শরিফুল ইসলাম খান ও ডা. নাজমুল হকের কাছে জানতে চাইলে তারা কোনো মন্তব্য করতে চাননি।

তবে, কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছেন। ড্যাবের কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, যশোরে এখনও পর্যন্ত কোনো কমিটি ঘোষণা হয়নি। প্রধান পৃষ্ঠপোষক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, সভাপতি ডা. হারুন আল রশিদ ও সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ডা. মেহেদী হাসানের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি নিশ্চিত করেন যে, ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর যারা সক্রিয় হয়েছেন, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদে আনার কোনো ইচ্ছা কেন্দ্রের নেই। যশোর জেলা বিএনপিও এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় ড্যাবের সঙ্গে একমত।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)