আনোয়ার হোসেন
, মণিরামপুর (যশোর)
পরিকল্পনা অনুযায়ী খাল পুনর্খনন করতে না পেরে ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫৮ টাকা ফেরত পাঠিয়েছে যশোরের মণিরামপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) দপ্তর।
গত ২২ জুলাই চালানের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে এই অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে মশ্মিমনগর খালের বরাদ্দের আট লাখ ৭৭ হাজার এক টাকা ও মোবারকপুর খালের বরাদ্দের পাঁচ লাখ ৯১ হাজার ২৮৭ টাকা রয়েছে।
পিআইওর তথ্যমতে, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের আওতায় অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচির আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মণিরামপুর উপজেলার দু’টি খাল পুনর্খননের জন্য ৩৯ লাখ ২৫ হাজার ৫০২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। যার মধ্যে মশ্মিমনগর খালের ৯৫০ মিটার খননের জন্য ২৫ লাখ ৬৮ হাজার ৭৭৮ টাকা ও মোবারকপুর খালের ৫০০ মিটার খননের জন্য ১২ লাখ ৯১ হাজার ৭২৪ টাকা বরাদ্দ করা হয়। এছাড়া, খনন কাজ পরিদর্শনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) জন্য যাতায়াত ভাতা ৩০ হাজার টাকা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার জন্য ২৫ হাজার টাকা, খাল খননের ইউনিয়ন কমিটির জন্য ছয় হাজার টাকা ও ট্যাগ অফিসারের জন্য চার হাজার টাকা মোট ৬৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
বরাদ্দ পেয়ে মশ্মিমনগর খালের জন্য ৫৯ জন ও মোবারকপুর খালের জন্য ৩০ জন শ্রমিকের তালিকা করে মে মাসে খাল দু’টির খনন কাজ শুরু হয়। মশ্মিমনগর খাল হতে ১১ হাজার ৩৬২ দশমিক ৮৩ ঘনফুট ও মোবারকপুর খাল হতে পাঁচ হাজার ১৪৯ দশমিক শূন্য দুই ঘনফুট মাটি কাটার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়। কিন্তু নানা জটিলতার কারণে মশ্মিমনগর খাল হতে পাঁচ হাজার ১৭০ দশমিক ৯৫ ঘনফুট ও মোবারকপুর খাল হতে এক হাজার ৬৯২ দশমিক ৮৫ ঘনফুট মাটি কাটা সম্ভব হয়েছে।
উপসহকারী প্রকৌশলী সরোয়ার হোসেন বলেন, খাল পুনর্খনন করতে গিয়ে দেখা গেছে, মশ্মিমনগর খালটি অনেক সরু। কোথাও ১৫ ফুট আবার কোথাও ২০ ফুট চওড়া। খালের দুই পাড়ে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি। এজন্য এই খাল হতে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেকের বেশি মাটি তোলা সম্ভব হয়নি। আর মোবারকপুর খালের উপর স্থানীয়দের অর্থায়নে পাঁচ থেকে ছয়টি কালভার্ট রয়েছে। কালভার্টের গোড়া হতে মাটি তুললে কালভার্টের ক্ষতি হবে। এ আশঙ্কায় স্থানীয়রা শুরু থেকে খালখননে বাধা দিয়ে আসছিলেন। তাছাড়া খালের শেষ মাথায় ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি হওয়ায় স্থানীয়দের বাধার মুখে নকশা অনুযায়ী মোবারকপুর খাল খনন করা যায়নি। এই খালে ৫০০ ফুটের মধ্যে ৪০৭ ফুট দৈর্ঘ্যে খনন করা হয়েছে। বাকি ৯৩ ফুট মাটি খনন করা সম্ভব না হওয়ায় এ কাজে বরাদ্দের অর্থ ফেরত দিতে হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, খাল খননের বরাদ্দ আসার আগে পিআইও দপ্তরের কাছে পুনর্খনন করা যায় এমন দু’টি খালের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। তখন তারা খাল নির্বাচনে ব্যর্থ হয়।
সূত্রটি বলছে, ভবদহ অঞ্চল নামে পরিচিত মণিরামপুরের পূর্ব এলাকা প্রতিবছর ভারি বৃষ্টিতে তলিয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। বর্তমানে এই অঞ্চলের কুলটিয়া ও হরিদাসকাটি ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রাম পানিতে ডুবে আছে। এই অঞ্চলে খাল পুনর্খননের জন্য নির্বাচিত করা হলে বরাদ্দের টাকা ফেরত পাঠাতে হতো না।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সেলিম খান বলেন, খুব অল্প সময়ের মধ্যে খালের তালিকা চাওয়া হয়েছিল। তাছাড়া মণিরামপুরের বেশিরভাগ খাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিয়ন্ত্রণে খনন কাজ চলছে। নতুন সরকার খাল খননের উদ্যোগ নেওয়ার পর খনন না হওয়া মশ্মিমনগর ও মোবারকপুর খাল খননের জন্য নির্বাচিত করা হয়।
মশ্মিমনগর খাল খনন কমিটির সভাপতি স্থানীয় ইউপি সদস্য সনদ দত্ত বলেন, মশ্মিমনগর ইউনিয়নের কয়েকটি বিলের পানি এই খাল দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ঝাঁপার বাঁওড়ে পড়ে। খাল পুনর্খননের আগে বিলের পানি ৭-৮ দিন জমে থাকতো। খাল খননের পর স্রোত বৃদ্ধি পেয়ে দ্রুত পানি নিষ্কাশন হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) সেলিম খান বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী খাল দুটি খনন করা সম্ভব না হওয়ায় মোট বরাদ্দ হতে ১৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬৫৮ টাকা চালান রশিদের মাধ্যমে অধিদপ্তরে ফেরত পাঠানো হয়েছে। পুনর্খননের পর মশ্মিমনগর খালের দুই পাড়ে ৯০টি ও মোবারকপুর খালের দুই পাড়ে ৫০টি বিভিন্ন জাতের চারাগাছ রোপন করা হয়েছে।
টাকা ফেরত পাঠানোর বিষয়ে জানতে একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সম্রাট হোসেনের মোবাইলফোনে কল করা হয়েছে। তিনি ফোন ধরেননি। পরে ক্ষুদেবার্তা পাঠিয়েও তার বক্তব্য জানা যায়নি।