যশোর, বাংলাদেশ || মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যশোর শহরে যানজটে দুর্ভোগ

পার্কিং বেদখল, সড়ক দখল

শাহারুল ইসলাম ফারদিন

, যশোর

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট,২০২৬, ১০:০০ এ এম
পার্কিং বেদখল, সড়ক দখল

Subornovumi যশোর শহরে যানজটের নিত্যদৃশ্য ছবি:

যশোর শহরের বহুতল বাণিজ্যিক ভবনগুলোতে পার্কিংয়ের জায়গা ক্রমেই বাণিজ্যিক সম্পদে পরিণত হচ্ছে। অনুমোদিত নকশায় গাড়ি রাখার জন্য নির্ধারিত জায়গায় দোকান, গোডাউনসহ নানা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরি করে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ভবন মালিকরা এসব জায়গা থেকে নিয়মিত ভাড়া পেলেও ভবনে থাকা ব্যাংক, করপোরেট অফিস, সুপারশপ, শোরুম ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আসা মানুষের গাড়ি রাখার স্থান হয়েছে সড়কের ওপর। ফলে, একদিকে ভবন মালিক দেদারছে আয় করছেন, অন্যদিকে সংকুচিত হচ্ছে জনচলাচলের সড়ক।

শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা এমকে রোড, গাড়িখানা, মুজিব সড়ক, এইচএমএম রোডসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় দেখা গেছে, একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় পাশাপাশি কয়েকটি দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। ভবনের ওপরের তলায় ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, করপোরেট অফিস কিংবা অন্যান্য প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন। তাদের অনেকেই মোটরসাইকেল বা ব্যক্তিগত গাড়িতে আসেন। কিন্তু ভবনের নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা না থাকা কিংবা পার্কিংয়ের জায়গা দোকান ও গোডাউনের দখলে থাকায় গাড়ি রাখার জন্য তাদের রাস্তা, ফুটপাত অথবা আশপাশের খোলা জায়গা ব্যবহার করতে হচ্ছে।

আগে ব্যক্তিগত গাড়ি ছিল তুলনামূলক কম। এখন শহরের মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত পরিবারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের মধ্যে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার বেড়েছে। গ্রামাঞ্চল থেকেও হাজার হাজার মানুষ মোটরসাইকেলযোগে শহরে আসেন নানা কাজে। ফলে একটি বাণিজ্যিক ভবনের পার্কিংয়ের প্রয়োজনীয়তা শুধু ভবন মালিকের বিষয় নয়। ভবনে থাকা প্রতিটি প্রতিষ্ঠান এবং সেখানে আসা প্রতিটি গ্রাহকের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। পার্কিং না থাকলে সেই গাড়ির জায়গা শেষপর্যন্ত সড়কই হয়ে দাঁড়ায়। এমনকী এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরতদের বাহন রাখারও ব্যবস্থা রাখেনি ভবন মালিকরা।

শহরের প্রাণকেন্দ্র এমকে রোডের জেস টাওয়ার তার বড় উদাহরণ। প্রায় এক লাখ বর্গফুট আয়তনের ছয়তলা ভবনটিতে প্রায় ১৫০টি দোকান, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। নিচতলায় রয়েছে প্রায় ৬০টি শাড়ি, কাপড়, প্রসাধনী ও জুতার দোকান। অর্থাৎ, একই ভবনে বিপুলসংখ্যক প্রতিষ্ঠান ও মানুষের দৈনিক যাতায়াত। অথচ, ভবনের সামনে পর্যাপ্ত পার্কিং ব্যবস্থা নেই। ফলে ক্রেতা, ব্যাংকের গ্রাহক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে আসা মানুষের যানবাহনের চাপ পড়ে এমকে রোড ও আশপাশের এলাকায়।

দেখা গেছে, জেস টাওয়ারের মতো বাণিজ্যিক ভবনে দিনে ৫/৭ হাজার মানুষের যাতায়াত আছে। ভবনটিতে যদি প্রতিদিন মাত্র ৫০০ মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ি পার্কিংয়ের প্রয়োজন হয়, সেই জায়গা ভবনের ভেতরে না থাকলে সেগুলোর চাপ সরাসরি সড়কের ওপরে চলে যায়। শহরের এমন দশটি গুরুত্বপূর্ণ ভবনে একই পরিস্থিতি হলে সড়কে জনচলাচল কীভাবে সম্ভব?

একই রোডের হাটবাজার সুপারশপসহ মার্কেট, মোরশেদ সেন্টার, এমএস অর্কিড ভবন, স্বাধীনতা ক্যাসেল মার্কেট ও আরএস টাওয়ারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক ভবনে পার্কিংয়ের জায়গা রয়েছে। এসব ভবনে ফাস্টফুড, কোম্পানির আউটলেট, কম্পিউটার ব্যবসা, ব্যাংক ও আবাসিক হোটেলসহ নানা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কিন্তু পার্কিং সুবিধা থাকলেও তা গ্রাহকদের জন্য কার্যকরভাবে উন্মুক্ত না থাকার অভিযোগ রয়েছে। ফলে, ভবনের ভেতরে জায়গা থাকলেও বাইরে প্রধান সড়কে গাড়ি পার্কিং করে রাখতে দেখা যায়।

গাড়িখানা এলাকার আলাউদ্দিন টাওয়ারেও পার্কিং নিয়ে অভিযোগ রয়েছে। এম এম আলী রোডের নাজমা টাওয়ার, জহুরা মঞ্জিলসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভবন এবং এইচএমএম রোডের ড্রিম প্লাজা, প্রাইম সু, লিবার্টি গ্যালারি ও এনকে অর্কিডসহ বহু ভবনে পার্কিংয়ের জায়গা অন্য কাজে ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দড়াটানা মোড় থেকে কেন্দ্রীয় কারাগার হয়ে খাজুরা বাসস্ট্যান্ড সড়কের আর এস ভবনের পার্কিংয়ের জায়গায় ঢেউটিনের গোডাউন করা হয়েছে। দিনের বেলায় সেখানে সড়কের ওপর গাড়ি রেখে টিন ওঠানো নামানো হয়।

যশোর ক্যান্টনমেন্ট কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক জান্নাতুল ফেরদাউস বলেন, যশোর পৌর এলাকার প্রায় ৮৫ শতাংশ বহুতল ভবনে পার্কিং নেই। পার্কিং না থাকা এবং ভবনের সামনে রাস্তায় গাড়ি রাখার কারণে শহরের কয়েকটি এলাকায় যানজট স্থায়ী রূপ নিয়েছে। বহুতল ভবনে পার্কিং নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হবে।

একদিকে পার্কিংয়ের জায়গা দোকান বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করে ভাড়া আদায় করা হচ্ছে, অন্যদিকে ভবনে আসা মানুষকে রাস্তায় গাড়ি রাখতে হচ্ছে। ফলে একই জায়গা থেকে ব্যক্তিগত আয় এবং জনভোগান্তি দুটোই তৈরি হচ্ছে। ভবন মালিকের কাছে পার্কিংয়ের জায়গা বাণিজ্যিকভাবে বেশি লাভজনক হওয়ায় সেটি দোকান বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহারের প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।

এ সমস্যার আরেকটি দিক হলো ভবনের ভেতরের ব্যবসা যত বাড়ছে, বাইরে গাড়ির চাপও তত বাড়ছে। একটি ব্যাংকে প্রতিদিন শত শত গ্রাহক আসতে পারেন। একটি কর্পোরেট অফিসে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের গাড়ি থাকে। সুপারশপে ক্রেতারা ব্যক্তিগত গাড়ি নিয়ে আসেন। শোরুমে পণ্য কিনতে আসা ক্রেতারাও গাড়ি রাখেন। হাসপাতাল হলে যোগ হয় চিকিৎসক, রোগী, স্বজন ও অ্যাম্বুলেন্সসহ অন্যান্য যানবাহন। কিন্তু ভবনের পার্কিং যদি দোকান বা গোডাউন হয়ে যায়, তাহলে এসব যানবাহনের জন্য বিকল্প হিসেবে সড়ক ছাড়া আর কিছু থাকে না।

যশোর পৌরসভার ২০২৫ থেকে ২০২৬ অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী, পৌর এলাকায় মোট হোল্ডিং ২৫ হাজার ৩০৯টি। এর মধ্যে বাণিজ্যিক হোল্ডিং তিন হাজার ২১৮টি এবং আবাসিক হোল্ডিং ২১ হাজার ৯৪৫টি। বাণিজ্যিক হোল্ডিং মোট হোল্ডিংয়ের প্রায় ১২ দশমিক ৭২ শতাংশ। প্রতিটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে যানবাহনের চাপ সমান নয়। তবে ব্যাংক, হাসপাতাল, সুপারশপ, শোরুম, রেস্টুরেন্ট ও কর্পোরেট অফিসের মতো প্রতিষ্ঠানে মানুষের যাতায়াত বেশি হওয়ায় পার্কিংয়ের প্রয়োজনও বেশি।

বর্তমানে মোটরসাইকেল প্রায় প্রতিটি পরিবারের পরিচিত বাহন। অনেক পরিবারের একাধিক মোটরসাইকেল রয়েছে। একইসঙ্গে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে কয়েক বছর আগের পার্কিং চাহিদা দিয়ে বর্তমান শহরের যানবাহন ব্যবস্থাপনা করা সম্ভব নয়। অথচ ভবনের নকশায় রাখা পার্কিংয়ের জায়গা যদি দোকান বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হয়, তাহলে নতুন গাড়ির জন্য ভবনের ভেতরে কোনো জায়গা তৈরি হচ্ছে না। সেই চাপ সরাসরি সড়কে চলে যাচ্ছে।

শহরতলীর নুরপুর এলাকার জসিমউদদীন বলেন, ‘ব্যাংকের কাজে প্রায়ই শহরের নির্দিষ্ট ভবনে যেতে হয়। ভবনের ভেতরে গাড়ি রাখার জায়গা না থাকায় রাস্তার পাশে মোটরসাইকেল রাখতে হয়। জায়গা খুঁজতে গিয়ে অনেক সময় কয়েকবার ঘুরতে হয়। গাড়ি রাখার পর বের হওয়ার সময়ও যানজটে আটকে থাকতে হয়। ভবনের নিচের জায়গায় দোকান থাকলে সেখান থেকে ভাড়া আয় হচ্ছে, কিন্তু গাড়ি রাখার সমস্যাটা আমাদেরই বহন করতে হচ্ছে।’

শহরের কাজীপাড়া এলাকার সেলিম হোসেন নামে এক ব্যাংক কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিবার নিয়ে কেনাকাটা করতে ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার করি। মার্কেটের সামনে পর্যাপ্ত পার্কিং না থাকায় রাস্তায় গাড়ি রাখতে হয়। এতে একদিকে গাড়ির নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তায় থাকতে হয়, অন্যদিকে যানজট বাড়ে। বড় একটি ভবনে অনেক দোকান ও প্রতিষ্ঠান থাকলে সেখানে পর্যাপ্ত পার্কিং থাকা উচিত। পার্কিংয়ের জায়গা দোকান বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করলে এর ভোগান্তি সাধারণ মানুষকেই পোহাতে হয়।’

ওমর আলী নামে একজন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা বলেন, ‘অফিসে আসার সময় প্রতিদিনই গাড়ি রাখার জায়গা নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়। ভবনের সামনে পার্কিং না থাকায় সড়কের পাশে গাড়ি রাখতে হয়। একই জায়গায় ব্যাংক, অফিস, দোকান ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থাকায় সকাল থেকে মানুষের চাপ থাকে। অনেক সময় রাস্তার দুই পাশে গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকায় যান চলাচল স্থবির হয়ে যায়। পার্কিংয়ের জায়গা দখলমুক্ত করে ভবনের নিজস্ব গাড়ি রাখার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা দরকার।’

একটি ৩০ ফুট প্রশস্ত সড়কের দুই পাশে ছয় ফুট করে গাড়ি রাখা হলে ১২ ফুট জায়গা দখল হয়। অর্থাৎ মোট সড়কের ৪০ শতাংশ জায়গা যান চলাচলের কার্যকর ব্যবহার থেকে বাদ পড়ে। তখন থাকে ১৮ ফুট। দুই পাশে আট ফুট করে জায়গা দখল হলে ১৬ ফুট জায়গা চলে যায় এবং অবশিষ্ট থাকে মাত্র ১৪ ফুট। সেই জায়গা দিয়ে একসঙ্গে কার, বাস, রিকশা, ইজিবাইক, মোটরসাইকেল ও পথচারী চলাচল করতে গেলে স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হওয়াই স্বাভাবিক।

নাগরিক অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুদুজ্জামান মিঠু বলেন, ভবনের নকশা অনুমোদনের সময় পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হলেও পরে অনেক ভবন মালিক সেই জায়গা দোকান বা গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করেন। এটি দেখার দায়িত্ব পৌরসভার। কিন্তু কার্যকর তদারকি হচ্ছে না। যানজট নিরসনে পৌরসভা, ট্রাফিক বিভাগ ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

শুধু গাড়ি রাখাই নয়, ভবনের দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পণ্য ওঠানো নামানোর সময়ও সড়কের ওপর চাপ তৈরি হয়। একটি দোকান যদি পার্কিংয়ের জায়গা দখল করে, সেই দোকানে আসা ক্রেতার গাড়ি বাইরে থাকে। আবার দোকানের মালামাল পরিবহনের গাড়িও বাইরে অবস্থান করে।

যশোর জেলা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের ইনচার্জ মাফুজুর রহমান বলেন, শহরের বড় বড় মার্কেটের অধিকাংশের নিজস্ব পার্কিং ব্যবস্থা নেই। ওইসব মার্কেটে আসা মানুষ রাস্তার ওপর যানবাহন রাখেন। পাশাপাশি শহরের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল করায় যানজট তৈরি হয়। যানজট নিয়ন্ত্রণে শহরের প্রায় ৩০টি পয়েন্টে ট্রাফিক পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।

পৌরসভার প্রকৌশল বিভাগ পার্কিং লট বা স্পেস থেকে দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে নিতে কয়েক দফা নোটিস দিয়েছে। কিন্তু অনেক জায়গায় এখনও দোকান ও গোডাউন বহাল রয়েছে।

পার্কিংয়ের জায়গায় ব্যবসা পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। একদিকে পৌরসভা পার্কিংয়ের জায়গা থেকে দোকান সরানোর নোটিস দিচ্ছে, অন্যদিকে এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পৌরসভার ট্রেড লাইসেন্স শাখার দাবি, এসব দোকানে আগে ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হলেও বর্তমানে সেগুলোর কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে সরেজমিনে কয়েকটি স্থানে ব্যবসা চালু থাকতে দেখা গেছে।

পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জায়েদ হাসান বলেন, পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং ভবনের নকশা অনুযায়ী ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়ে পৌরসভা কাজ করছে। আইন অনুযায়ী পার্কিংয়ের জায়গা অন্য কাজে ব্যবহারের সুযোগ নেই। এ ধরনের স্থাপনা চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স যশোরের সহকারী পরিচালক মোহা. আব্দুস সালাম বলেন, বহুতল ভবনে পর্যাপ্ত পার্কিং লট এবং জরুরি চলাচলের জায়গা রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পার্কিংয়ের জায়গা অন্য কাজে ব্যবহার করা হলে জরুরি পরিস্থিতিতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি প্রবেশে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। ভবনের সামনের সড়ক যানবাহনে আটকে থাকলে অগ্নিনির্বাপণ ও উদ্ধার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান বলেন, অনেক ভবনে নকশা অনুযায়ী পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয় না। যারা আইন লঙ্ঘন করছে তাদের বিরুদ্ধে শিগগির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শহরের যানজট কমাতে পৌর হেরিটেজ মার্কেটে পার্কিং সুবিধা রাখা হয়েছে। প্রায় আট হাজার বর্গফুট জায়গায় ৩০০টি মোটরসাইকেল রাখা যাবে। প্রাইভেটকার রাখলে ৬৫টি প্রাইভেট কার এবং অন্তত ৩০টি মোটরসাইকেল রাখা সম্ভব। এই পার্কিং সুবিধা ব্যবহার বাড়ানো গেলে সংশ্লিষ্ট এলাকায় যানজট কমানো সম্ভব হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)