সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, যশোরের পুনঃতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সাতক্ষীরার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির বিশেষ সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সোমবার (১৭ আগস্ট) থেকে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহ্ মো. কামরুজ্জামানের স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যশোর শিক্ষা বোর্ডের পুনঃতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কয়েকটি অভিযোগের সত্যতা জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরার পুনঃতদন্তে প্রমাণিত হয়েছে বলে জানানো হয়।
অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে-সহকারী শিক্ষক (কম্পিউটার) হিসেবে ত্রুটিপূর্ণ নিয়োগ ও যোগদান, রয়েল ইউনিভার্সিটি থেকে অর্জিত বি.এড সনদে ত্রুটি, দ্বিতীয় শ্রেণিতে স্নাতক পাসের আগে বিধিবহির্ভূতভাবে সিনিয়র স্কেল গ্রহণ, সেকায়েপের অর্থ বণ্টনে নীতিমালা লঙ্ঘন, বিধিবহির্ভূতভাবে অতিরিক্ত শাখা খোলা ও খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ এবং বিধিবহির্ভূতভাবে কিশোরী টয়লেট ও কমফোর্ট জোন বন্ধ রাখার অভিযোগ।
পত্রে আরও বলা হয়, যশোর শিক্ষা বোর্ডের প্রেরিত ব্যবস্থা গ্রহণের পত্র এবং বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির ৯ আগস্ট ২০২৬ তারিখের বিশেষ সভার সিদ্ধান্তের আলোকে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
একই সঙ্গে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কেন আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশনে আবেদন করা হবে না-এ বিষয়ে আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ জবাব দিতে ব্যর্থ হলে বিধিগত বিভাগীয় ব্যবস্থা হিসেবে আপিল অ্যান্ড আরবিট্রেশনে আবেদন করা হবে বলে পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে সরকারি বিধি অনুযায়ী মূল বেতনের (ইনক্রিমেন্টসহ) অর্ধেক হারে খোরাকি ভাতা হিসেবে বেতন-ভাতা পাওয়ার কথাও পত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া বিদ্যালয়ের শৃঙ্খলার স্বার্থে অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে বিদ্যালয়ের প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র সহকারী প্রধান শিক্ষকের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরার নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের সভাপতি শাহ্ মো. কামরুজ্জামান বরখাস্তের বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।