নুসরাত জাহান লিরা
, ইবি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) তিনটি বিভাগে বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অন্য বিভাগের শিক্ষকরা। সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে যোগ্য শিক্ষক থাকা সত্ত্বেও এই ব্যবস্থা বহাল থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্স অনুসরণ না করার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি এতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে জটিলতা ও অভ্যন্তরীণ সংকট বাড়ছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে ফার্মেসি বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে রয়েছেন বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. মিজানুর রহমান। চারুকলা বিভাগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান এবং কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সভাপতির দায়িত্বে আছেন বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. রশিদুজ্জামান।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সংশোধিত অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী, কোনো বিভাগে একাধিক শিক্ষক থাকলে পদমর্যাদা ও চাকরিকালের ভিত্তিতে সিনিয়র শিক্ষককে বিভাগীয় সভাপতি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার বিধান রয়েছে। ন্যূনতম সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদা থাকলেই এই দায়িত্ব পালনের যোগ্যতা অর্জিত হয়। একই পদে একাধিক শিক্ষক থাকলে চাকরিকালের দৈর্ঘ্য এবং প্রয়োজনে যোগদানের তারিখ বিবেচনায় সিনিয়র নির্ধারণের নিয়মও রয়েছে।
তবে, সংশ্লিষ্ট তিনটি বিভাগেই একাধিক সহকারী অধ্যাপক থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব অর্পণ করা হয়নি। ৫ আগস্ট-পরবর্তী সময়ে প্রশাসন এসব বিভাগে সভাপতির পদে পরিবর্তন আনে। সে সময় বিভাগগুলোতে সহকারী অধ্যাপক না থাকায় সাময়িকভাবে অন্য বিভাগের শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত প্রভাষকরা পদোন্নতি পেয়ে সহকারী অধ্যাপক না হওয়া পর্যন্ত এমন ব্যবস্থা চালু থাকে।
কিন্তু বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোতে সহকারী অধ্যাপক থাকলেও আগের সেই অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা বহাল রয়েছে। একইসঙ্গে পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় বিলম্ব হচ্ছে।
চারুকলা বিভাগের শিক্ষক রায়হান উদ্দিন ফকির ও ইমতিয়াজ আহমেদ ২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাদের চাকরির তিন বছর পূর্ণ হলেও নির্ধারিত সময়ে পদোন্নতি হয়নি। পরে গত বছরের অক্টোবরে অন্যান্য বিভাগের আপগ্রেডিং বোর্ড অনুষ্ঠিত ও সিন্ডিকেটে অনুমোদন পেলেও চারুকলা বিভাগের বিষয়টি ঝুলে থাকে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি তাদের আপগ্রেডিং বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩০ জানুয়ারির সিন্ডিকেট সভায় তা অনুমোদিত হয়।
একইভাবে, কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষক তন্ময় সাহা জয় ও উজ্জ্বল হোসেনের ক্ষেত্রেও পদোন্নতি বিলম্বিত হয়। ২০২৪ সালের ১২ অক্টোবর তিন বছর পূর্ণ হলেও প্রায় সাড়ে তিন মাস পর ২৫ জানুয়ারি তাদের আপগ্রেডিং বোর্ড অনুষ্ঠিত হয় এবং ৩০ জানুয়ারি সিন্ডিকেটে তারা সহকারী অধ্যাপক হিসেবে অনুমোদন পান। তবে পদোন্নতির পরও তাদের কাউকেই বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
অন্যদিকে, ফার্মেসি বিভাগে প্রশাসনিক জটিলতায় সভাপতির পদে পরিবর্তন আটকে রয়েছে। বিভাগের সহকারী অধ্যাপক অর্ঘ্য প্রসূন সরকারের মেয়াদ শেষে অন্য শিক্ষকরা শিক্ষা ছুটিতে থাকায় বহিরাগত শিক্ষককে দায়িত্ব দেওয়া হয়। সম্প্রতি শিক্ষা ছুটি শেষে সহকারী অধ্যাপক মাসুদ রানা ও মিলন কুমার ঘোষ বিভাগে যোগ দিলেও এখনো নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি নিয়োগ হয়নি।
নিজ বিভাগ থেকে সভাপতি না থাকায় বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হওয়ার কথা জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, বহিরাগত সভাপতিরা বিভাগের সিলেবাস, প্রয়োজন ও শিক্ষার্থীদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে যথেষ্ট অবগত নন। এছাড়া নিয়মিত বিভাগে সময় না দেওয়ায় জরুরি প্রয়োজনে তাদের পাওয়া যায় না এবং স্বাক্ষর বা সুপারিশ পেতে দেরি হয়।
শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, অন্য বিভাগ থেকে এসে দায়িত্ব নেওয়ায় প্রতিবার নতুন সভাপতিকে বিভাগ সম্পর্কে বুঝিয়ে দিতে সময় লাগে। চারুকলা বিভাগে গত চার বছরে তিনজন সভাপতি পরিবর্তনের ফলে সেশনজটও তীব্র হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মনজুরুল হক জানান, ফার্মেসি বিভাগের বিষয়টি আলাদা প্রেক্ষাপটে রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা ইতোমধ্যে উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। অন্য দুই বিভাগের ক্ষেত্রে, ৩০ জানুয়ারির সিন্ডিকেটে শিক্ষকরা পদোন্নতি পেয়েছেন। অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী সভাপতির নিয়োগের বিষয়টি প্রশাসনের বিবেচনায় রয়েছে। গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা ও ঈদের ছুটির কারণে সিদ্ধান্তে বিলম্ব হয়েছে, তবে শিগগিরই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।