যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

জমে উঠেছে যশোর ইনস্টিটিউট নির্বাচন, প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে

গোলাম মোস্তফা

, যশোর

প্রকাশ : সোমবার, ২০ এপ্রিল,২০২৬, ১১:০০ এ এম
আপডেট : সোমবার, ২০ এপ্রিল,২০২৬, ১২:১০ এ এম
জমে উঠেছে যশোর ইনস্টিটিউট নির্বাচন, প্রার্থীরা ছুটছেন ভোটারদের কাছে

দীর্ঘ ছয় বছর পর যশোর ইনস্টিটিউটের ত্রিবার্ষিক নির্বাচন আগামী ২৪ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইনস্টিটিউটপাড়ায় উৎসবের আমেজ চলছে। ২০টি পদে দুটি প্যানেল থেকে ২০ জন করে ৪০ জন এবং দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচনে লড়ছেন। এবারের নির্বাচনে মোট ভোটার তিন হাজার ২৯। প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর আপ্রাণ চেষ্টা করছেন।

যশোর ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন পদে পাঁচবারের বিজয়ী এজেডএম সালেক (স্বপন) ও কবি কাসেদুজ্জামান সেলিম ‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’ প্যানেল নিয়ে নির্বাচনে অবতীর্ণ হয়েছেন। যাদের ব্যালেট নম্বর ১ থেকে ২০। এ প্যানেলের অন্য প্রার্থীরা হলেন, সৈয়দ শাহাজান আলী খোকন, মো. শাহনেওয়াজ আনোয়ার লেনিন, অধ্যক্ষ ড. শাহনাজ পারভীন, অধ্যাপক মো. ইবাদত আলী, মো. আলমগীর হোসেন বাবু, চঞ্চল কুমার সরকার, মো. জিলুর রহমান মানিক, মো. হাচিনুর রহমান, মো. মাহমুদ হাসান বুলু, মো. আক্তারুজ্জামান, প্রফেসর শেখ জুলফিকার আলী মাসুম, শাহাবুদ্দীন আহমেদ সাবু, এসএম মুস্তাফিজুর রহমান কবীর, মো. সানোয়ার আলম খান দুলু, মো. এমরান সাদিক, অ্যাডভোকেট মো. আবুল কায়েস, মো. রায়হান সিদ্দিকী প্রবাল এবং অজয় দত্ত।

অপরদিকে ‘নতুন মুখ, নতুন ঐক্য, নতুন আলো’ স্লোগান নিয়ে আনিসুজ্জামান পিন্টু ও তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ‘পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ’ প্যানেল দিয়ে ২০ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। যাদের ব্যালট নম্বর ২১ থেকে ৪০। এই প্যানেলের প্রার্থীরা হলেন, অধ্যাপক মো. আবুল হাসিম রেজা, মো. মনজুর কাদের মঞ্জু, মো. ফেরদৌস হোসেন আলমগীর, মো. নাসির উদ্দীন মিঠু, অ্যাডভোকেট মোছা. মমতাজ খাতুন, মো. নাছিম উদ্দিন খান, মো. বদরুজ্জামান, মো. হাবিবুর রহমান রুবেল, সালমান হোসেন, মো. শাহাবুদ্দীন, মো. জাকির হোসেন, মো. জুবায়ের হোসেন, মো. শেখ সাদী হ্যাভেন, মো. আবুল কালাম আজাদ (মামুন আজাদ), এসএম তোজাম্মেল হক, শারমিন সুলতানা (সাথী) এবং নূর-ই-আলী-নূর-মামুন।

এছাড়া স্বতন্দ্র প্রার্থী হিসেবে মো. নুরুননবী (ব্যালট নম্বর ৪১) এবং মাহাবুবুর রহমান (ব্যালট নম্বর ৪২) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

দেশের শীর্ষস্থানীয় এই সাংস্কৃতিক সংগঠনের নির্বাচনে ভোট প্রার্থনার জন্য প্রার্থীরা দলে দলে ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন। সশীরে প্রচারণার কাজ চলছে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত। অনেক ক্ষেত্রেই প্রার্থীদের সাথে সমর্থক, সহযোগীরাও থাকছেন। ভোটারদের অনেকেই যশোরের বাইরে অবস্থান করছেন। তারাসহ অন্যদের ভোট প্রার্থনায় আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারও লক্ষণীয়।

শনিবার বিকেলে আখতার হোসেন নামে এক ব্যক্তি পত্রিকা পড়ছিলেন যশোর ইনস্টিটিউটের পাঠাগার কক্ষে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পত্রিকা বা বই পড়ার রুমের সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হচ্ছে। এ অনুষ্ঠানের কারণে এখানে পড়াশোনা করা যায় না। দীর্ঘদিন ধরে এখানে অনুষ্ঠানের অনুমোদন না দিতে অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ শোনেননি।

এমএম কলেজের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী বর্তমানে এমফিল পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তিনি জানান, আগে যশোর ইনস্টিটিউটে রেফারেন্স বই মিলতো সহজেই। বতর্মানে এর সংকট দেখা দিয়েছে। লাইব্রেরি উন্নয়নে যারা কাজ করবেন তাদের ভোট দেওয়া উচিত বলে মনে করেন এই শিক্ষার্থী।

সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতির প্রার্থী অধ্যক্ষ ড. শাহনাজ পারভীন বলেন, ‘প্রথমবারের মতো যশোর ইনস্টিটিউট নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছি। ভোটাররা সাদরে গ্রহণে করে ভোট দেওয়ার আশ্বাস দিচ্ছেন। আশা করছি আমার প্যানেল (ব্যালেট নম্বর ১-থেকে ২০) বিজয়ী হবে।’

পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মমতাজ খাতুন বলেন, ‘ভোটারদের কাছে যাচ্ছি। দীর্ঘদিন পর নির্বাচন হওয়ায় ভোটারদের মধ্যে খুশির ভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে।’

সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতির ডেপুটি লিডার কাসেদুজ্জামান সেলিম বলেন, ‘যশোর ইনস্টিটিউটে আমার তিন পুরুষের বিচরণ। সম্মানিত ভোটাররা বিষয়টি জানেন। সেক্ষেত্রে নতুন করে ভোট চাওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে তাদের দোয়া এবং ভালোবাসার প্রয়োজন। আমি এবং আমার প্যানেলের সদস্যরা ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছি। আশা করছি বিপুল ভোটের ব্যবধানে আমাদের প্যানেল বিজয় লাভ করবে।’

পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদের টিম লিডার তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘যশোর ইনস্টিটিউটের ভোটাররা পরিবর্তন চান। দীর্ঘকাল ধরে এই ইনস্টিটিউটের কোনো উন্নয়ন হয় না। লাইব্রেরি, নাট্যকলা বিভাগ, টাউন ক্লাবের অবনতি ছাড়া উন্নতি হয়নি। সে কারণে ভোটাররা পরিবর্তন চান। ফলে ভোটাররা নতুন প্রার্থীদের ভোট দিতে ভুল করবেন না বলে আমি আশাবাদী।’

সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতির প্যানেল লিডার এজেএম সালেক (স্বপন) বলেন, ‘ইনস্টিটিউটের বিভিন্ন পদে পাঁচবার বিজয়ী হয়েছি। প্যানেল লিডার হিসেবে এবার নতুন। পূর্বের সাধারণ সম্পাদক ডা. আবুল কালাম আজাদ লিটুর অসমাপ্ত কাজগুলো শেষ করার পাশাপাশি আমরা ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানটির ব্যাপক উন্নতি করতে চাই।’

পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদের প্যানেল লিডার আনিসুজ্জামান পিন্টু বলেন, ‘সর্বত্রই নতুনের হাওয়া বইছে। ভোটাররা মহাখুশি। তারা আমাদের স্বাগত জানাচ্ছেন। প্রকৃত সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করবো।’

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)