গোলাম মোস্তফা
, যশোর
‘কোনো প্রার্থী পর পর দুইবারের বেশি পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন না। তবে একবার বিরতি দিয়ে পুনরায় পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করিতে পারিবেন’- ২০১৭ সালে ২৬ মে আলমগীর সিদ্দিকী হলে যশোর ইনস্টিটিউটের সাধারণসভায় সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ এ সিদ্ধান্ত মেনে নেন এবং গঠনতন্ত্রের সংশোধন করেন।
এ সংশোধনের কারণে ত্রিবার্ষিক নির্বাচনে যশোর ইনস্টিটিউটের বর্তমান কমিটি ২০ জনের মধ্যে ১৯ জন নির্বাচন অংশ নিতে পারছেন না। একজনের যোগ্যতা থাকলেও তিনি এবারের নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বলে জানা গেছে। ফলে এবারের নির্বাচনে ৪২ প্রার্থীর মধ্যে নতুন মুখ ৩৭ জন। বাকি ৫ জন ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় নির্বাচনে জিতেছিলেন।
যশোর ইনস্টিটিউটের অফিস সূত্রে জানা গেছে, যশোর পাবলিক লাইব্রেরি নামে ১৮৫১ সালে যা যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি যাত্রা শুরু করে। ১৯২৮ সাল থেকে যশোর ইনস্টিটিউটের একটি মুখ্য অঙ্গ সংগঠন হিসেবে পুনরায় যাত্রা শুরু করে। এটি ১৯৫১ সাল পর্যন্ত যশোর পাবলিক লাইব্রেরির নামে পরিচিত ছিল এবং তারপর এটিকে যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি নামে নামকরণ করা হয়।
দলিলপত্র থেকে জানা যায়, প্রথমদিকে ইনস্টিটিউটের নির্বাচন প্রতিবছর অনুষ্ঠিত হতো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪৩ সালে নির্বাচন ছাড়াই কমিটি দায়িত্ব পালন করে। ১৯৪৪ সাল থেকে আবার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু ১৯৪৮ সাল থেকে ১৯৫৩ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠান চলে মনোনীত কমিটি দিয়ে। ১৯৫৪ সাল ফের নির্বাচনের মাধ্যমে কমিটি গঠন করা হয়।
ফারুক আহম্মেদ নামে একজন সদস্য জানান, নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো বাধ্যবাধকতা না থাকায় একই ব্যক্তি দীর্ঘকাল ধরে বিভিন্ন পদে নির্বাচন করে আসছেন। একই ব্যক্তি পর পর ৮ বার নির্বাচন করার তথ্য রয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, তাদের কারণে নতুনরা কোনো জায়গা পায় না। রাজনৈতিকভাবে কেউ নির্বাচনে জিততে পারলে উন্নয়নে কোনো ভূমিকা না থাকলেও কয়েকজনের জোট করে ব্যক্তিগত ও পরিবারের লোকজনকে সদস্য করে সারাজীবন ইনস্টিটিউটে নির্বাচনে অংশ নিয়ে জিতে চলেছেন। বার্ধক্যের সময় তিনি চলে গেলেও রাজনৈতিকপ্রভাবে তার ছেলেকে নিয়ে আসছেন। এভাবে উত্তরসুরী হিসেবে যশোরে ইনস্টিটিউটের মাঠে চলে এসেছেন কয়েকজন।
আব্দুস সামাদ নামে একজন সদস্য জানান, কয়েকযুগ ধরে যশোর ইনস্টিটিউট অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও লাইব্রেরি, টাউন ক্লাব, নাট্যকলা সংসদের গুণগত কোনো উন্নয়ন হয়নি।
কারণ হিসেবে তিনি জানান, এসময় কর্মকর্তারা গুণগত মানোন্নয়নের চেয়ে নাশতার প্রতি নজরসহ ব্যক্তিস্বার্থে সময় দিয়েছেন। যে কারণে ঐতিহ্যবাহী এ প্রতিষ্ঠান তার ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারেনি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যশোর ইনস্টিটিউট নির্বাচন ২০২৬ এর দুইটি প্যানেল থেকে ৪০ জন এবং দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থীসহ মোট ৪২ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এরমধ্যে পাঁচজন ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময় নির্বাচনে অংশ নিয়ে জিতেছেন। বাকিরা নতুন মুখ। ২০১৭ সালের গঠনতন্ত্র সংশোধন প্রস্তাব পাস হওয়ায় পুরাতনরা সবাই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারছেন না। সেকারণে এবারের নির্বাচনে ৩৭ জন নতুন মুখ।
সর্বশেষ কমিটির (২০২৩-২০২৬) সদস্যরা হলেন, মো. ইস্হক (অ্যাড.), আবু সেলিম রানা (অ্যাড.), অ্যাড. মোয়াজ্জেম হোসেন চৌধুরী টুলু, ডা. মো. আবুল কালাম আজাদ লিটু, রওশন আরা রাসু, অ্যাড. শাহরিয়ার বাবু, এস. নিয়াজ মোহাম্মদ, অ্যাড. চুন্নু সিদ্দিকী, মো. আবদুর রহমান কিনা, এসএম আজাহার হোসেন স্বপন, মিনারা খন্দকার, এএম মহিউদ্দীন লালু, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মুস্তাফিজুর রহমান মুস্তাক, মো. আহসান হাবীব পারভেজ, এমএ আকসাদ সিদ্দিকী শৈবাল, শেখ রাকিবুল আলম (জয়), সুখেন মজুমদার, চৌধুরী আশরাফুল ইসলাম মিলন, মো. মোক্তার আলী।
আব্দুর রানা নামে আরেকজন সদস্য জানান, যশোর ইনস্টিটিউট আমাদের সম্পদ। এটি রক্ষা করতে হবে। কোনো প্রলোভনে না, ইনস্টিটিউটের উন্নয়নে যাদের ভূমিকা বেশি তাকেই ভোট দিতে হবে।
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত যশোর ইনস্টিটিউটের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ করা হবে। নির্বাচনে তিন হাজার ২৯ জন তাদের ভোটারাধিকার প্রয়োগ করবেন।
নির্বাচনে এজেডএম সালেক (স্বপন) ও কবি কাসেদুজ্জামান সেলিমের নেতৃত্বে ‘সংস্কার ও উন্নয়ন সমিতি’ এবং আনিসুজ্জামান পিন্টু ও তরিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ‘পরিবর্তন ও উন্নয়ন পরিষদ’ ছাড়াও স্বতন্ত্র হিসেবে মো. নুরুননবী এবং মাহাবুর রহমান নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।