যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

মশার নগরী যশোর

শরিফ খান

প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল,২০২৬, ০৩:০৩ পিএম
মশার নগরী যশোর

যশোর পৌর এলাকায় মশার উপদ্রব এখন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দিন কিংবা রাত - কোনো সময়েই মিলছে না স্বস্তি।

মশার কামড়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন যশোর শহরের প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। অভিযোগ উঠেছে, মশা নিধনের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের বড় একটি অংশ ইতিমধ্যে ব্যয় হলেও বাস্তবে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি হয়নি। বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে মশার প্রকোপ, সঙ্গে বাড়ছে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগের আশঙ্কা।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, নালা-নর্দমা, ড্রেন, ঝোপঝাড় ও জমে থাকা পানিতে মশার অবাধ বংশবিস্তার চলছে। পৌর কর্তৃপক্ষের তদারকি ও কার্যকর উদ্যোগের অভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে মনে করছেন নাগরিকরা।

শহরের ঘোপ নোয়াপাড়া রোডের বাসিন্দা আরমান হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, অনেক প্রচার-প্রচারণা করা হলেও বাস্তবে মশা নিধনে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ে না। কয়েল, কয়েল বা মশারি- কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। দিন-রাত একই অবস্থা।

এই শহরের বাসিন্দা বাশার আহমেদ বলেন, দিনের বেলাতেই কয়েল জ্বালিয়ে বসে থাকতে হয়। না হলে মশার কামড়ে শরীর ফুলে যায়, প্রচণ্ড চুলকানি শুরু হয়। এটা কোনো স্বাভাবিক জীবন না।

চা-দোকানি মো. শহিদুল ইসলাম জানান, মশার কারণে দোকানদারি করা কষ্টকর হয়ে গেছে। দিনের বেলাতেও কয়েল জ্বালিয়ে রাখতে হয়, আর সন্ধ্যার পর তো কয়েলেও কাজ হয় না-এতো বেশি মশা!

সচেতন নাগরিক কমিটির সাবেক সভাপতি শাহীন ইকবাল বলেন, যশোর পৌরসভার প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ এখন মশা আতঙ্কে বসবাস করছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, সাধারণ মানুষ দৈনন্দিন কাজ করতে পারছে না। এটি একটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হয়েছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, মশা নিধনের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেটের প্রায় ৮০ শতাংশ ইতিমধ্যে ব্যয় হয়ে গেছে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এর দৃশ্যমান কোনো প্রভাব নেই। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশের কারণে মশার প্রজনন অব্যাহত রয়েছে।

যশোর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাহিদ হোসেন এ বিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য করেননি। তবে, পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন বাজেট বরাদ্দ না আসা পর্যন্ত বড় পরিসরে কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। পাশাপাশি তারা নাগরিকদের নিজ নিজ বাসা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

এদিকে স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে আশঙ্কাজনক হারে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যশোর জেলায় এক হাজার ৩৬৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়। যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয় ১৬১ জন, যার মধ্যে মারা যায় দুইজন। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ১১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যা বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই উদ্বেগ তৈরি করেছে।

যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, ডেঙ্গু ছাড়াও মশার মাধ্যমে বিভিন্ন রোগ ছড়ায়। তাই সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দিতে হবে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে আসন্ন বর্ষায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)