যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ঝিনাইদহ পৌরসভা: বন্ধ হয়ে গেছে ৪৫ কোটি টাকার সুপার মার্কেট

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

প্রকাশ : বুধবার, ২২ এপ্রিল,২০২৬, ০২:১৬ পিএম
ঝিনাইদহ পৌরসভা: বন্ধ হয়ে গেছে ৪৫ কোটি টাকার সুপার মার্কেট

ঝিনাইদহ পৌরসভার মালিকানাধীন (সাবেক পৌর পার্কের) জায়গা দখল করে গড়ে উঠছে একের পর এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কোনো ধরনের প্রশাসনিক বাধা বা আইনি জটিলতা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে সেখানে চলছে দখলের পর দখল।

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই দখল কার্যক্রমে ইতোমধ্যে সেখানে ১৯টি দোকান নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ।
স্থানীয়দের দাবি, পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ এই জায়গাটি দখল হয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। ফলে, প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে সরকারি সম্পত্তি।

অন্যদিকে, একই স্থানের পেছনে উন্নয়ন সহায়তা সংস্থা বিএমডিএফ-এর সহযোগিতায় প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ছয়তলা বিশিষ্ট আধুনিক ঝিনাইদহ পৌর সুপার মার্কেটের কাজ প্রায় পাঁচ বছর ধরে বন্ধ রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই ভবনের নির্মাণকাজ আইনি জটিলতার কারণে মাঝপথে থেমে যায়। বর্তমানে ভবনের অসমাপ্ত অংশ পড়ে থাকায় সেখানে বৃষ্টির পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এতে আশপাশের পরিবেশও দূষিত হচ্ছে বলে জানিয়েছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝিনাইদহ পৌরসভার প্রধান ফটকের দক্ষিণ ও পশ্চিম পাশে দুইটি পৃথক ভবনে ১৯টি দোকান রয়েছে। ইটের গাঁথুনি আর রঙিন টিনের চালার দোকানগুলো বিভিন্ন রঙে চকচক করছে। এগুলো মাসিক ভাড়া পাঁচ হাজার থেকে ২৫ হাজার পর্যন্ত। এর পেছনেই পড়ে আছে ২০১৯ সালে নির্মাণ শুরু হওয়া বহুতল পৌর সুপার মার্কেট। যা ডোবায় পরিণত হয়েছে, বছরের অধিকাংশ সময় সেখানে পানি জমে থাকে। পৌরসভার কিছু লোক সেই পানিতে আবার তেলাপিয়া মাছও ছেড়েছে।

পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানান, ২০১৯ সালে ৬৭ শতক জমির উপর ছয়তলা বিশিষ্ট পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণ শুরু হয়। যে মার্কেটের নকশায় ছিল কিডস জোন, উদ্যোক্তা কর্নার, জিমনেশিয়াম, কমিউনিটি সেন্টার, মিনি আইটি পার্ক, আধুনিক গাড়ি পার্কিং সুবিধা, নারী উদ্যোক্তা কর্নাসহ বেশ কিছু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকায় ২০২০ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে এই নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

এই জমিতে পার্ক থাকায় ভবন নির্মাণের উপর নিষেধাজ্ঞা আসে উচ্চ আদালত থেকে, যে কারণে নির্মাণাধীন ভবনের অংশবিশেষ পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে।

এদিকে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর রাতারাতি এই নির্মাণাধীন ভবনের সামনের ধার ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে আরেকটি মার্কেট। যেখানে ১৯টি দোকান করেছে দখলদাররা। তারা নিয়মিত ব্যবসা করে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রভাবশালীরা রাতারাতি নিজেদের ইচ্ছামতো ঘর তৈরি করে নিয়েছে বলে অভিযোগ।

ব্যবসায়ীদের দাবি, দখলদাররা নিজেরা ঘর তৈরি করে সেগুলোর টাকার বিনিময়ে ভাড়া দিয়েছে। এখন মাসিক ভাড়া নিচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঝিনাইদহ শহরের হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সড়কের ধারে তালতলা এলাকায় দুই একর ১৮ শতক জমিতে একটি মিনি পার্ক ছিল। পরবর্তীতে সেখানে কমিউনিটি সেন্টার, একাধিক অফিস ও একটি মার্কেট গড়ে ওঠে। ২০১৯ সালে বিশ্বব্যাংক ও বাংলাদেশ মিউনিসিপাল ডেভলপমেন্ট ফান্ডের যৌথ অর্থায়নে ছয়তলা বিশিষ্ট পৌর সুপার মার্কেট নির্মাণ শুরু করা হয়। প্রকল্পের প্রয়োজনে সামনের পুরাতন মার্কেটটি ভেঙ্গে ফেলা হয়। পরে পার্কের অস্তিত্ব না থাকায় আদালতের নির্দেশে ভবন নির্মাণ বন্ধ হয়ে যায়। সুপার মার্কেটের বেজমেন্টের কাজ সম্পন্ন হয়ে যায়। বর্তমানে সেখানে বছরের অধিকাংশ সময় পানি জমে থাকে। যে পানিতে তৈরি হচ্ছে মশা।

এদিকে, সুপার মার্কেট নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর পড়ে ছিল জায়গা। ৫ আগস্টের পর সামনের অংশে রাতারাতি দখল করে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দোকান তৈরি করা হয়। কিন্তু যারা ঘর করেছে তাদের কেউ কেউ নিজেই ব্যবসা করছে, আবার কেউ কেউ ভাড়া দিয়েছে।

ওই মার্কেটের ফাস্ট ফুড ব্যবসায়ী রাজন মিয়া জানান, তিনি ওসমান গনি নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে তিন লাখ টাকায় তিন বছরের চুক্তিতে ঘর নিয়ে ব্যবসা করছেন। প্রতিমাসে ১৬ হাজার টাকা ভাড়া দিয়ে আসছেন।

তিনি বলেন, এখানে যারা ব্যবসা করছে- পৌরসভা তাদের ট্রেড লাইসেন্স দেয়নি। আমি আগে যেখানে ব্যবসা করতাম, সেই ট্রেড লাইসেন্স দিয়ে এখানে ব্যবসা করছি। এমনকী পৌরসভা থেকে কোনো বৈদ্যুতিক মিটারের ব্যবস্থা করেনি।

বাগাট ঘোষ মিষ্টান্ন ভান্ডারের মালিক সুব্রত ঘোষ জানান, আগে এই স্থানে তাদের ঘর ছিল। নতুন করে ঘর নির্মাণ করে নিয়েছেন। পৌরসভা থেকে দোকানের ট্রেড লাইসেন্স নিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু দেওয়া হয়নি।

ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম বলেন, পাঁচ লাখ টাকা জামানত দিয়ে ঘরটি নিয়েছি। আমিনুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে মাসিক ভাড়া দিচ্ছি। পৌরসভার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই বলে তিনি জানান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান, ১২ মাস এই বেজমেন্টে পানি আটকে থাকে। সেখানে পৌরসভার কিছু কর্মচারী তেলাপিয়া মাছ ছেড়েছেন। তারা বক্তব্য- পানিতে মশা বসলে মাছে ধরে খেয়ে ফেলবে।

তিনি বলেন, যারা দখল করে দোকান নিয়ে বসে আছে, তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় রয়েছে। অদৃশ্য শক্তির কারণেই পৌরসভা এই জায়গা দখলমুক্ত করতে পারছে না।
পৌরসভার বাজার পরিদর্শক নাজিরুল ইসলাম বলেন, আগে যাদের দোকান ছিল, তারা দখল করে দোকান ভাড়া দিয়েছে। আমরা কোনো ভাড়া আদায় করি না। দখলদাররা খুবই প্রভাবশালী। সেকারণে কোনো পদক্ষেপ নিতে পারছি না।

পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মুস্তাক আহমেদ বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জায়গাটি দখল হয়। তখন রোধ করার চেষ্টা করেও পারিনি। এই মার্কেটের ব্যবসায়ীদের ট্রেড লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. রাশেদ খান বলেন, নতুন মার্কেট নির্মাণের প্রয়োজনে পুরাতন মার্কেট ভেঙে দেওয়া হয়। কথা ছিল, পুরনো ব্যবসায়ীরা নতুন মার্কেটে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দোকান পাবেন। কিন্তু আইনি জটিলতায় মার্কেট নির্মাণ করা যায়নি। সেই সুযোগে পুরনো জায়গাটি দখল করে নিজেরাই ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)