এম জুবায়ের মাহমুদ
, শ্যামনগর (সাতক্ষীরা)
সাতক্ষীরার শ্যামনগরের আটুলিয়ায় ওয়াপদা বেড়িবাঁধজুড়ে একের পর এক বক্সকল ও নাইটি পাইপ বসানো হয়েছে। এর ফলে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাস মৌসুমকে সামনে রেখে তারা আতঙ্কে রয়েছেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, পানি ওঠা-নামার জন্য বসানো এসব অবকাঠামোর কারণে বাঁধের গোড়ার মাটি ধীরে ধীরে সরে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে অনেক স্থানে ছোট-বড় ধস ও ফাটলও দেখা দিয়েছে।
শুক্রবার সরেজমিনে দেখা যায়, আটুলিয়া ইউনিয়নের বিড়ালাক্ষী এলাকার গাজীবাড়ি থেকে চান্দাঘেরি পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার বেড়িবাঁধে রয়েছে অন্তত তিনটি বক্সকল ও ১৬টি নাইটি পাইপ।
একই ইউনিয়নের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত নওয়াবেঁকী খেয়াঘাট-সংলগ্ন এলাকা থেকে বৈদ্যবাড়ি খেয়াঘাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার বাঁধে রয়েছে আরও চারটি বক্সকল ও ২৬টি নাইটি পাইপ।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এসব পাইপ ও বক্সকলের বেশিরভাগই ব্যক্তিস্বার্থে মাছের ঘেরের জন্য স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে এগুলো পুরো বেড়িবাঁধকেই দুর্বল করে তুলছে।
২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর বুড়িগোয়ালিনী কলবাড়ী এলাকায় একটি অবৈধ বক্সকল উচ্ছেদের মাধ্যমে প্রশাসনের অভিযান শুরু হয়েছিল।
স্থানীয়রা জানান, খাজা হ্যাচারির তৈরি ওই বক্সকলসহ কয়েকটি এলাকায় নাইটি পাইপ ভেঙে ফেলার পর কয়েকদিন এলাকায় স্বস্তি ফিরেছিল। তবে, অজ্ঞাত কারণে সেই অভিযান আর এগোয়নি।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের সঙ্গে ঘুস লেনদেনের মাধ্যমে বক্সকল ও নাইটি পাইপে পানি ওঠানামা চালু রাখা হয়- এমন তথ্যও জানিয়েছেন একাধিক ব্যক্তি।
কুপট এলাকার বাসিন্দা আব্দুল করিম মোল্লা বলেন, প্রতিবছর ঝড়ের সময় বাঁধ ভেঙে মানুষ পানিবন্দী হয়। তখন পানি উন্নয়ন বোর্ডকে এলাকায় দেখা যায়। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আর তদারকি থাকে না। এখন যেভাবে বাঁধ কেটে পাইপ বসানো হয়েছে, এতে বড় দুর্যোগে ভয়াবহ অবস্থা হবে।
বিড়ালাক্ষী এলাকার বাসিন্দা জাফর আলী সরদার বলেন, বাঁধ সংস্কারের জন্য সরকার বড় অঙ্কের বরাদ্দ দেয়। কিন্তু বাস্তবে সেই কাজের খুব সামান্যই চোখে পড়ে। কোথাও কোথাও কাজের নামে বাঁধের পাশের বড় বড় গাছের গোড়া থেকে মাটি তুলে ফেলায় গাছ মরে যাচ্ছে। এতে বাঁধ আরও দুর্বল হচ্ছে।
বিড়ালাক্ষী কুনের মাথা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংস্কারকাজ চলমান থাকলেও অনেক স্থানে বাঁধের ঢালে মাটি কেটে ফেলা হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজের সুবিধার্থে গাছের গোড়ায় বালু তুলে জিও ব্যাগ ডাম্পিং করে ক্ষতিগ্রস্ত করলেও তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না।
চান্দাঘেরি, সানাবাড়ি, শেখপাড়া, কুপট, খশালখালী ও খোন্তাকাটা এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, বক্সকল ও নাইটি পাইপের কারণে ইতিমধ্যে বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ভাঙনের চিহ্ন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পশ্চিম বিড়ালাক্ষী এলাকার বাসিন্দা মোজাহিদুল ইসলাম বলেন, সামনে ঝড় -জলোচ্ছ্বাসের সময়। এখনই সব অবৈধ পাইপ ও বক্সকল সরানো না হলে উপকূলের মানুষকে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
এ বিষয়ে আটুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আবু সালেহ বাবু বলেন, ‘প্রশাসনের উচিৎ ছিল এগুলো কঠোরভাবে বন্ধ করা। কিন্তু কীভাবে কি করছে জানি না, এখনও চলছে শুনেছি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শ্যামনগর পানি উন্নয়ন উপ-বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী ইমরান সরদার ফোন ধরে বলেন, ‘পরে কথা বলবো।’ কিন্তু এরপর তার সাথে আর যোগাযোগ সম্ভব হয়নি।