যশোরের কুরবানির হাট কাঁপাতে হাজির হচ্ছে বিসিএস ক্যাডার! সেই লক্ষ্যে প্রস্ততি সম্পন্ন বলে জানিয়েছেন খামারি মহিদুল জামান কাজল।
তিনি জানান, গরুর নাম ‘বিসিএস ক্যাডার’- শুনেই লোকজন হাসাহাসি করে। কিন্তু এই ‘বিসিএস ক্যাডার’ নামের যথাযথ কারণ রয়েছে।
যশোর সদর উপজেলার সীতারামপুরের মহিদুল জামান কাজলের খামারে এখন বিসিএস ক্যাডারসহ ৪২টি গরু প্রস্তত রয়েছে কুরবানির জন্যে।
জেলা পশুসম্পদ দপ্তর সূত্র জানায়, চলতি বছর কুরবানির জন্য হৃষ্ট-পুষ্ট গবাদিপশুর সংখ্যা এক লাখ ১৭ হাজার ৯৭৭। এ বছর চাহিদা রয়েছে এক লাখ তিন হাজার ১২৮টি। উদ্বৃত্ত থাকছে ১৪ হাজার ৮৪৯টি। জেলায় খামারির সংখ্যা ১৩ হাজার ৬৪০ জন। হৃষ্ট-পুষ্ট ষাঁড়, বলদ ও গাভীর সংখ্যা ৩৬ হাজার ২৫৯। এছাড়া ছাগল ৮১ হাজার ২৭৬ এবং ভেড়া রয়েছে ৪৪২টি।
প্রতি বছর কুরবানির হাটে দেখা মেলে বাহারি নাম ও বিশাল আকৃতির গরুর। এ বছর হাট কাঁপাবে যশোরের দানব আকৃতির গরু ‘বিসিএস ক্যাডার’। বেশ যত্ন করে গড়ে তোলা গরুটিকে দেখতে প্রতিদিন ভিড় জমাচ্ছেন লোকজন। খামার মালিকের দাবি, এটাই যশোরের সবচেয়ে সুদর্শন গরু।
ঈদুল আজহার বাকি এখনো প্রায় ১২ দিন। এরই মধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছে এই গরুটি। খামারি কাজল মাস দশেক আগে গরুটি ক্রয় করেন। এরপর অতি যত্নে লালন-পালন করে তার নাম রাখেন ‘বিসিএস ক্যাডার’। খামারে ঢুকলে প্রথমেই নজর পড়বে বিশালদেহী, উজ্জ্বল গায়ের রং আর রাজকীয় ভঙ্গির গরুটির দিকে।
খামারি কাজল বলেন, ‘‘কুরবানির জন্য আমার খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ৪২টি গরু। ‘বিসিএস ক্যাডার’ নামে ষাঁড়টি ব্রাহমা জাতের। এর ওজন এক হাজার কেজি। দাম বলেছি ১৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। সবচেয়ে বেশি ওজনের হোলস্টেইন ফ্রিজিয়ান (সাদা-কালো) গরুটির ওজন ১১শ’ কেজি। এর দাম রাখা হয়েছে ১১ লাখ টাকা।”
এছাড়া, পাকিস্তানের শাহীওয়াল জাতের একটি গরু রয়েছে, যার ওজন ৮৭৫ কেজি। এই গরুটির দাম ধরা হয়েছে সাড়ে আট লাখ টাকা।
গরুর এমন নামের কারণ কী- খামারি কাজল বলেন, ‘আমার খামারে কুরবানির জন্য প্রস্তুত ৪২টি গরু। এর মধ্যে বিশেষভাবে লালন-পালন করেছি ব্রাহমা জাতের এই সুন্দর গরুটিকে। এটি গোয়ালের সবচেয়ে সুন্দর গরু। তাই শখ করে এ নাম রেখেছি।’
তিনি জানান, এই প্রজাতির গরুর লালন-পালনে বেশ পরিশ্রম করতে হয়। যেমন পরিশ্রম করতে হয় কোনো ছাত্রকে বিসিএস ক্যাডার হতে। একজন ছাত্র ও তার অভিভাবকের কঠোর পরিশ্রম আর মানসম্মত প্রস্তুতির ফসল যেমন বিসিএস ক্যাডার, ব্রাহমা জাতের এই গরুটিও সেই মানের। এর পরিচর্যায়ও বেশ পরিশ্রম করতে হয়। আর আভিজাত্য ধরে রাখতে নেওয়া হয় বাড়তি যত্ন। শ্যাম্পু দিয়ে দুই বেলা গোসল, ২৪ ঘণ্টা ফ্যানের বাতাস আর মশার কামড় থেকে বাঁচাতে সর্বক্ষণিক কয়েলের ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, ‘ব্রাহমা জাতের এই গরুটিকে দেখতে এবং কেনার জন্য অনেকেই বাড়িতে ভিড় করছেন। এর দাম চেয়েছি সাড়ে ১৪ লাখ টাকা। কিন্তু এখনও কাক্সিক্ষত দাম পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘‘যেহেতু আমার খামারের সব গরুই প্রাকৃতিক খাবার খায়, সে কারণে আমি কোনো চিন্তা করছি না। আর ‘বিসিএস ক্যাডার’ এ বছর বিক্রি না হলেও কোনো সমস্যা নেই।”
প্রাকৃতিক খাবারের মধ্যে রয়েছে রাইস পলিশ বা কুঁড়ো, গম, ভুট্টা বা বুটের ভুষি, ছোলা ও ভুট্টা ভাঙা, কাঁচা ঘাস, বিচালি, সয়াবিন ও সরিষার খৈল, লবণ ইত্যাদি। খামারের গরুর জন্য প্রতিদিন ব্যয় প্রায় ১২ হাজার টাকা বলে জানান তিনি।
মহিদুল জামান কাজল সমবায় অধিদপ্তরের একজন অডিট অফিসার। ২০১৭ সালে ৫টি গরু নিয়ে শুরু করেন তার খামার। বর্তমানে রয়েছে ৪২টি গরু। কুরবানির ঈদ সামনে রেখে গরুগুলো প্রস্তুত করেছেন।
যশোরে কুরবানির পশুর বিষয়ে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান বলেন, যশোরের চাহিদা মিটিয়ে অন্য জেলায় পশু সরবরাহ করা যাবে। সাধারণত চট্টগ্রাম, সিলেট ও খুলনায় যায় এখানকার খামারিদের পশু।
তিনি বলেন, ‘অনেক খামারি অভিযোগ করছেন, খাবারের দাম বেশি হওয়ায় হৃষ্ট-পুষ্টকরণে খরচ বাড়ছে। তাদের পরামর্শ দিয়েছি, দানাদার খাবারের উপর চাপ কমিয়ে বেশি করে কাঁচাঘাস খাইয়ে হৃষ্ট-পুষ্ট করতে। এছাড়া বিজিবি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা নিশ্চিত হয়েছি, ভারতীয় গরু এবারও আসছে না।’