জান্নাতুল বিশ্বাস
, কালিয়া (নড়াইল)
ক্রস ফ্রিজিয়ান শাহিওয়াল জাতের গরুটির নাম রাখা হয়েছে বাহুবলী। এর গায়ের রঙ কালা ও সাদা, ওজন ২৮ মণ। এটি প্রস্তুত করা হয়েছে আসছে কোরবানির ঈদের জন্যে।
নড়াইলের কালিয়া উপজেলার পেড়লী ইউনিয়নের খড়রিয়া গ্রামের মিনাপাড়ায় রাহুল ও রিয়া অ্যাগ্রো ফার্মে কুরবানির জন্য ২২টি গরু প্রস্তুত করা হয়েছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় বাহুবলী।
বিশাল এই ষাঁড়টি দেখতে আশপাশের এলাকা থেকে ভিড় করছেন উৎসুক জনতা। যত্ন আর পরিচর্যায় সন্তানের মতো লালন করা ষাঁড়টি বিক্রির জন্য দাম হাঁকাচ্ছেন ১০ লাখ টাকা। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে এবার বাজার মাতাবে নড়াইলের ‘বাহুবলী’।
খামার সূত্রে জানা গেছে, বাহুবলীর বয়স প্রায় ৪ বছর, দাঁত রয়েছে ২টি। গরুটির উচ্চতা প্রায় ৬ ফুট, দৈর্ঘ্য প্রায় ১৪ ফুট, ওজন প্রায় ২৮ মণ অর্থাৎ ১১০০ কেজি। খামারে বাহুবলীর খাদ্য তালিকায় রয়েছে কাঁচা ঘাস, ভুট্টা, চিটাগুড়, খৈল, লবণ ও গম ভাঙা। নিয়মিত পরিচর্যার অংশ হিসেবে দিনে দুই থেকে তিনবার সাবান ও শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়।
খামার সংশ্লিষ্টদের ভাষ্যমতে, বাহুবলী বাইরে বের হতে পারলেই কখনও কখনও তাণ্ডব চালায়, যাকে সামলাতে পরিবারের সদস্যদের বেশ বেগ পেতে হয়। খামারের কর্মীরা নিজ সন্তানের মত লালন পালন করছেন।
রাহুল ও রিয়া অ্যাগ্রো ফার্ম সূত্রে জানা যায়, ২০১৮ সাল থেকে খামারটি পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি বছরই তারা কোরবানির জন্য ষাঁড় প্রস্তুত করে। চলতি বছর কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারে মোট ২২টি ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে বাহুবলী সবচেয়ে বড়। বাহুবলীর সঙ্গে একই খামারের তিনটি শেডে ২২টি গরু লালন পালন করা হচ্ছে। বাহুবলীর পাশাপাশি আরও ২১টি শাহিওয়াল জাতের ষাঁড় প্রস্তুত করা হয়েছে খামারটিতে। যাদের প্রত্যেকটির ওজন ২০ থেকে ২৫ মণের মধ্যে।
ফার্মের মালিক রিপন মিনা বলেন, দুই বছর আগে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার হাট থেকে বাহুবলীকে কিনে আনি। সন্তানের মতো লালনপালন করেছি। এবার ঈদুল আজহায় বিক্রির জন্য তাকে প্রস্তুত করেছি। দাম চেয়েছি ১০ লাখ টাকা। হাটে নিতে চাচ্ছি না, বিক্রি করতে চাই খামার থেকেই।
খামারের পরিচর্যার দায়িত্বে থাকা পারুল ও আজিমুল বলেন, খামারের মধ্যে বাহুবলী সবচেয়ে বড়। এটি সাধারণত শান্ত থাকে, তবে মাঝে মাঝে অশান্ত হয়ে যায়। বিশালদেহীর হওয়াতে সচরাচর বের করা হয় না। প্রতিদিন প্রায় ৮০০ টাকার খাবার খায়। নিয়ম করে প্রতিদিন অন্তত দু’বার গোসল করানো হয়। পরিবারের সদস্যের মতো আমরা একে লালন-পালন করছি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. রাশেদুল হক বলেন, কালিয়ায় রাহুল ও রিয়া অ্যাগ্রো খামারে প্রায় ১১০০ কেজির একটি ষাঁড় রয়েছে। শুরু থেকে খামারটির বিষয়ে খোঁজখবর রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বড় গরুর তুলনায় মাঝারি ও ছোট গরুর চাহিদা বেশি। আমরা জেলার ছয়টি স্থায়ী পশুর হাটে ভেটেনারি টিমের মাধ্যমে পশু পরীক্ষা করে সুস্থ পশু বিক্রিতে কাজ করছি। আশা করছি এবার কোরবানি ঈদে খামারিরা তাদের পশুর ভালো দাম পাবেন।
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের তথ্য মতে, চলতি বছরে কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারিরা গবাদি পশু মোটা তাজা করেছেন মোট ৪৫ হাজার ৪৯৭টি। তার মধ্যে ষাঁড় ১৪ হাজার ৮৭৪টি, বলদ ৬৩৯টি, গাভী ৫ হাজার ১৪১, ছাগল ২৪ হাজার ৭৮৮ ও ভেড়া ৫৫টি। জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা রয়েছে ৩৯ হাজার ৭৩৩টি। পশু চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত থাকছে ৫ হাজার ৭৬৪টি।