বিনোদন কেন্দ্র
এমএ মামুন
, দেবহাটা (সাতক্ষীরা)
ঈদুল আজহা উপলক্ষে সব বয়সী পর্যটকদের মুগ্ধ করতে নতুন সাজে সেজেছে দেবহাটা রূপসী ম্যানগ্রোভ মিনি সুন্দরবন। পরিপূর্ণ বিনোদন কেন্দ্রে রূপ দিতে সব ধরনের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।
যোগাযোগ ব্যবস্থা, সুপেয় পানি, বসার স্থান, বিশ্রাম কক্ষ, সেমিনার রুম, রান্নার স্থান, ইন্টারনেট ব্যবস্থাসহ বিভিন্ন সুবিধা রয়েছে এখানে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দেবহাটা উপজেলার শিবনগর এলাকায় নদী ভাঙ্গন রক্ষায় গড়ে তোলা বন এখন মানুষের বিনোদনের খোরাক জোগাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আদায়ে বিশেষ ভূমিকা রাখছে। সেই সাথে এই বিনোদন কেন্দ্রকে ঘিরে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে ইছামতি নদীর তীরে শিবনগর মৌজায় প্রায় ১৫০ একর জমি জুড়ে রয়েছে এ বিনোদন কেন্দ্রটি। এটি ‘রূপসী দেবহাটা ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্র’ নামে পরিচিত। ইছামতি নদীর তীরে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি এ ম্যানগ্রোভ পর্যটন কেন্দ্রটি এখন উপজেলায় মানুষকে গর্বিত করে। এই পর্যটন কেন্দ্রর সার্বিক উন্নয়নের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সহযোগিতা প্রদান করা হয়েছে।
পর্যটন কেন্দ্রটিতে অধিকাংশ সময় জেলা-উপজেলা প্রশাসনের পাশাপাশি বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং পারিবারিকভাবে বনভোজনের আয়োজন করা করা হয়।
এখানে বহু প্রজাতির ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রয়েছে। সুন্দরবনের আদলে বিভিন্ন প্রজাতির বৃক্ষের চারা এনে করা হয়েছে। যার ফলে সহজে সুন্দরবনের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। এখানে কেওড়া, বাইন, গোলপাতা, কাঁকড়া, নিম, সুন্দরী, হরকচাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ ও বনজ উদ্ভিদ রয়েছে। বনের পাশে ১০ একর জমির বুকে রয়েছে ‘অনামিকা লেক’। এই লেকে রয়েছে শান বাঁধানো পাকা ঘাট। রয়েছে ঘোড়ার পিঠে উঠা ও ইঞ্জিনচালিত বোটে চড়ার সুযোগ। শিশুদের জন্য জীবন্ত ও কৃত্রিম বিভিন্ন প্রজাতির পশুপাখি রাখা হয়েছে।
উপজেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, ঐতিহ্য ধরে রাখতে এবং আকর্ষণীয় বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। ম্যানগ্রোভে যাওয়ার দুটি রাস্তার মধ্যে একটি পাকা অপরটি ডাবল হেরিংবোন রয়েছে। আছে ট্রেইল ব্যবস্থা, রাত্রি যাপনসহ নানা সুবিধা।
শীতের প্রথম থেকে শুরু হয় পিকনিক উৎসব। কয়েক মাস ধরে চলতে থাকে উৎসবের আমেজ। বর্তমান স্থানটিতে প্রবেশ করতে হলে ২০ টাকা ফি দিতে হয়।
বিনোদন কেন্দ্রটির ম্যানেজার সোহেল রানা বলেন, সার্বিক নিরাপত্তা ও সুন্দর পরিবেশ যাতে বজায় থাকে, সে জন্য সর্বদা তৎপর আছি। এখানে ছুটির দিনে অসংখ্য মানুষ বেড়াতে আসেন। জায়গাটি নদীর তীরে হওয়ায় এখান থেকে টাকি পৌরসভা ও ভারত দেখা যায়। পর্যটকদের সুবিধায় পাকা রাস্তা, বিদ্যুৎ, নামাজের ঘর, বাথরুম, পানির লাইন সব কিছু ব্যবস্থা কার হয়েছে।
সাবেক উপজেলা নির্বাহী অফিসার বর্তমান উপ-সচিব আ.ন.ম তরিকুল ইসলামের উদ্যোগে বনটি গড়ে তোলা হয়।
দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিলন সাহা জানান, সব বয়সী মানুষের উপযোগী হিসেবে এই বিনোদন কেন্দ্রটি গড়ে তোলা হয়েছে। এখানে এলে সুন্দরবনে স্বাদ অনেকটাই মেটানো যাবে।