মো. মিজানুর রহমান
বাজারে যত হলদে বেল দেখা যায় তার অধিকাংশই গাছে পাকেনি। ধোঁয়ায় পাকানো। আমাদেরই কিছু লোক এই অপরিপক্ক বেল নিজের মুনাফার জন্য ধোঁয়ায় পাকিয়ে বাজারে এনেছে। আমরা বর্তমানে ধোঁয়ায় পাকা বেলের মধ্যে আছি। আপনি টিপে টেস্ট করতে পারবেন না যে, কোনটা কাঁচা, কোনটা পাকা। যখন ভেঙে খাবেন তখন বুঝবেন। আঠার গন্ধ না কি, পাকা গন্ধ।
জেন-জি, আলফা, বিটা, গামা বলে আমাদের বাচ্চাদেরকে উচ্চ শ্রেণিকরণের মাধ্যমে প্রশংসা করছি। আর তারা সেটা গায়ে মেখে মোলায়েমভাবে একটা সভ্যতাকে, একটি সংস্কৃতিকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে যাচ্ছে এবং আমাদেরই একটি অংশ ঘোলা জলে জাল ছাড়াই শোল, টাকি সব পকেটস্থ করছে। এর সব দায় আমাদের। জল নামতে নামতে ঘরের চৌকাঠে না ঠেকলে কেউ বিপক্ষ বক্তব্য দিচ্ছে না, দেবে না এবং আমরাই দিতে দিচ্ছি না।
কথারও আকার এবং ওজন আছে, যা চোখে মাপতে হয় এবং কানে ওজন করতে হয়। যারা আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, সাহিত্য এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান রাখে না তারও যদি এসবের সংস্কার নিয়ে হুংকার দেয় তা অবশ্যই আমাদের জন্য অশনি সংকেত। ঘোড়া যদি হাতি প্রসব করে বিষয়টি বিদঘুটে লাগাই স্বাভাবিক এবং আমরা তা সয়েও যাচ্ছি।
ভাঙন বেশ আগে থেকেই সভ্যতার গা হতেই শুরু হয়েছিলো এবং এটাই নিয়ম। তবে যেখান থেকে ভাঙন শুরু হয় সেখান থেকেই জোরদার সংস্কার জরুরি হয়ে পড়ে। জোরদার সংস্কার হয়তো হয়নি তবে কিছু মানুষ আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, সাহিত্য এবং ঐতিহ্যকে মনে-প্রাণে লালন করে আসছে এবং টিকিয়ে রেখেছে। এখন সংস্কারের নামে যদি কেউ পলেস্তরাসহ গাঁথুনির ইট খুলে নিয়ে যায় সেটা সত্যিই ভাববার বিষয়। আসলেই কি আমাদের এতো ভেবে কাজ নেই? দিন শেষে আমরা কি শুধুই আম পাবলিক? আমরা কাক ছাড়া কিছুই নই? গাছে বেল পাকলে কাকের কী- এমন মনোভাব নিয়েই কি আমরা জীবন কাটিয়ে দেবো?
মানুষের কথার ওজনের সাথে বয়সের ওজনের ভারসাম্য থাকা উচিত বলে আমি মনে করি। গল্পের ঘুঘু ঘরে চরতে দেখলে কিন্তু ভালো লাগবে না। আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, সাহিত্য এবং ঐতিহ্য যারা নষ্ট করে দিতে চায় তাদেরকে সরাসরি রোধ করতে না পারি উৎসাহ দেওয়া কোনো অবস্থাতেই উচিত হবে না। বরং যারা আমাদের সভ্যতা, সংস্কৃতি, সাহিত্য এবং ঐতিহ্যকে রক্ষার চেষ্টা করে, মনেপ্রণে লালন করে তাদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।
লেখক: কবি ও কথাসাহিত্যিক