যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

নবগঙ্গা সেতু দ্রুত নির্মাণ করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটান

প্রকাশ : বুধবার, ১৪ অক্টোবর,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
আপডেট : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর,২০২৬, ১০:৫৮ পিএম
নবগঙ্গা সেতু দ্রুত নির্মাণ করে জনদুর্ভোগের অবসান ঘটান

যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন একটি অঞ্চলের আর্থসামাজিক অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শর্ত। একটি সেতু অনেক সময় মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করে, অর্থনীতির গতি বাড়ায় এবং শিক্ষা ও চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করে।

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার ফেদি বাজার ঘাট এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটি দীর্ঘদিনেও শেষ না হওয়ায় হাজারো মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। নির্ধারিত সময়ে নির্মাণকাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি বাতিল এবং জরিমানা আরোপের ঘটনা ঘটলেও মানুষের দুর্ভোগের অবসান এখনো অনিশ্চিত। এ পরিস্থিতি অত্যন্ত হতাশাজনক এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপের দাবি রাখে।

নড়াইল সদর ও লোহাগড়া উপজেলার মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে ১০ কোটি ৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের অক্টোবরের মধ্যে কাজ শেষ করার নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আইসিএল। দফায় দফায় সময় বাড়ানোর পর ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময় দেওয়া হলেও কাজ সম্পন্ন হয়েছে মাত্র ৭০ শতাংশ। অথচ ঠিকাদারকে ইতিমধ্যে প্রায় সাত কোটি দশ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যান প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি, তদারকির কার্যকারিতা এবং সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহারের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে।

নির্মাণকাজের দীর্ঘসূত্রতার সবচেয়ে বড় মূল্য দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। লোহাগড়ার পাঁচটি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষের জেলা সদরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে নবগঙ্গা নদী একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা। বর্তমানে মাত্র দুটি ছোট নৌকার ওপর নির্ভর করে ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হতে হচ্ছে ওই পাঁচ ইউনিয়নের মানুষকে। মুমূর্ষু রোগীর চিকিৎসা, শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় ও কলেজে যাতায়াত এবং ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহনে এই পরিস্থিতি মারাত্মক দুর্ভোগ সৃষ্টি করছে। বিকল্প পথে চলাচল করতে গিয়ে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি চিকিৎসার ক্ষেত্রে কয়েক মিনিটের বিলম্বও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।

নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৩৪ লাখ টাকা জরিমানা এবং চুক্তি বাতিলের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা যায়। তবে শুধু জরিমানা ও চুক্তি বাতিল করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। কেন দীর্ঘ সময়েও কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি, প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে যথাযথভাবে তদারক করা হয়েছিল কি না এবং বিল পরিশোধের সঙ্গে কাজের অগ্রগতির সামঞ্জস্য ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। সরকারি অর্থের সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে এসব প্রশ্নের স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক নিষ্পত্তি জরুরি।

এলজিইডির পক্ষ থেকে অসমাপ্ত ৩০ শতাংশ কাজ শেষ করতে চার কোটি ৯৮ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকার কথা জানানো হয়েছে। দ্রুত নতুন ঠিকাদার নিয়োগের আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে। এখন সবচেয়ে জরুরি হলো, এই আশ্বাসকে বাস্তব কাজে রূপ দেওয়া। দরপত্র প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে, নতুন ঠিকাদারের সক্ষমতা যাচাই করতে হবে এবং কাজ শেষ করার জন্য বাস্তবসম্মত, সুনির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণ করতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত অগ্রগতি পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় তদারকির মাধ্যমে পুনরায় যেন একই পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।

নির্মাণকাজ চলাকালে স্থানীয় মানুষের নিরাপদ নদী পারাপারের জন্যও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে অসুস্থ ব্যক্তি, শিশু ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগী হওয়া দরকার।

উন্নয়নের সুফল তখনই মানুষের কাছে পৌঁছায়, যখন প্রকল্প সময়মতো বাস্তবায়িত হয় এবং জনজীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। নবগঙ্গার ওপর সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে অসমাপ্ত অবস্থায় পড়ে থাকা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটাতে এলজিইডি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। সেতুটি কবে চালু হবে, সেই অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত নির্মাণকাজ শেষ করাই এখন সময়ের দাবি।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)