যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

ভোটে টাকার ছড়াছড়ির অভিযোগ

অগণতান্ত্রিক চর্চা বন্ধে সরকারি পদক্ষেপ অপ্রতুল, ভোগান্তি সাধারণ মানুষের

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
অগণতান্ত্রিক চর্চা বন্ধে সরকারি পদক্ষেপ অপ্রতুল, ভোগান্তি সাধারণ মানুষের

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর সাম্প্রতিক অভিযোগটি বাংলাদেশের নির্বাচনি রাজনীতির পুনরাবৃত্ত দশারই চিত্র তুলে ধরে। ভোট সামনে রেখে প্রভাবশালী রাজনৈতিক দলগুলো ভোটারদের নগদ অর্থ ও বিভিন্ন প্রলোভন দেয়। এই অভিযোগ নতুন না হলেও বর্তমান প্রেক্ষাপটে এর তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও বিপজ্জনক। বাংলাদেশে নির্বাচনের সঙ্গে ‘টাকার ছড়াছড়ি’-র সম্পর্ক পুরনো এক গল্প হলেও, আজকের দিনে এই গল্পের পুনরাবৃত্তি জাতির কাছে অপ্রত্যাশিত।

গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে দেশের মানুষ যে স্বপ্ন দেখেছিল একটি নতুন, জবাবদিহিমূলক ও সুষ্ঠু বন্দোবস্ত গড়ে তোলার। একটি গণঅভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি হয় জনগণের অব্যক্ত কিন্তু তীব্র আকাক্সক্ষা একটি ন্যায়সঙ্গত রাজনৈতিক ব্যবস্থার। কিন্তু যদি অভ্যুত্থান-পরবর্তী পর্যায়েও একই দুর্বৃত্তায়িত অপসংস্কৃতি, একই অর্থকেন্দ্রিক, অগণতান্ত্রিক চর্চা অক্ষুণ্ন থাকে, তবে তা সেই গণআকাক্সক্ষার সাথে সাংঘর্ষিক। তাহলে প্রশ্ন করা অসঙ্গত হবে না যে, আমরা কি তাহলে শুধু মুখগুলো বদলাচ্ছি, ব্যবস্থাটাকে তার পুরনো বিকৃত রূপেই টিকিয়ে রাখছি?

সরকার ভোটের মাঠে টাকা প্রবাহ ঠেকাতে কিছু উদ্যোগ নিলেও তা নিতান্ত অপর্যাপ্ত। পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে দেরিতে। রোববার দিনগত মধ্যরাত থেকে ইলেক্ট্রনিক ও মোবাইল ব্যাংকিং-এ লাগাম টানার সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে একটি জরুরি পদক্ষেপ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই পদক্ষেপ কি সংগঠিতভাবে বড় অঙ্কের টাকা সংগ্রহ ও বিতরণকারীদের নিবৃত্ত করতে পারছে? দেখা যাচ্ছে এই পদক্ষেপের প্রধান শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ? তারা ইন্টারনেট ব্যাংকিং ও মোবাইল ব্যাংকিংয়ে বিড়ম্বনার মুখে পড়ছেন। ভোটের মাঠে টাকার ছড়াছড়ি ঠেকাতে গৃহীত সিদ্ধান্ত সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ালে তা গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।

কার্যত মূল সমস্যাটি অনাবৃতই রয়ে গেছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের হাতে কী পরিমাণ টাকা জমা হচ্ছে, তা কোথা থেকে আসছে এবং কীভাবে বিতরণ হচ্ছে, তার ওপর কোনও কার্যকর নজরদারি বা নিয়ন্ত্রণ নেই। ভোট কিনতে টাকার ব্যবহার একটি অপরাধ, এবং এটি প্রতিরোধ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা দৃশ্যমান নয়।

এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথ একটিইÑরাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক শক্তির সমন্বয়। নির্বাচন কমিশনকে অবশ্যই আরও সক্রিয়, দৃঢ় ও প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বউদ্যোগেই এই অসাধু পন্থা থেকে সরে আসতে হবে। মিডিয়া ও নাগরিক সমাজের ভূমিকাও আরও তীক্ষ্ণ হতে হবে।

গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে হলে ভোটকে অবশ্যই টাকার আধিপত্য থেকে মুক্ত করে জনগণের প্রকৃত মতামত প্রকাশের মাধ্যম করে তুলতে হবে। নতুবা শুধু ভোটারদের হাতে টাকা গুঁজে দেওয়া হবে না, ধ্বংস করা হবে গণঅভ্যুত্থানের সেই মহান আকাক্সক্ষাকেও। সময় এসেছে এই চক্র ভাঙার। না হলে, ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)