সুজায়েত শামীম সুমন
রাজনীতিতে অনেকেই নির্বাচনের সময় হাজির হন, কিন্তু অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের চিত্রটা একেবারেই আলাদা। গত দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশ, জেল-জুলুম আর অসংখ্য মামলার পাহাড় মাথায় নিয়ে তিনি মাঠ ছাড়েননি। যশোর-৩ আসনে ধানের শীষের এই প্রার্থী কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, বরং সংকটে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেছেন। শেষ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছেন। ভোটারদের ভাষায়- যে নেতা দুঃসময়ে ছায়ার মতো পাশে থাকেন, তার প্রতি সমর্থন জানানো কেবল রাজনৈতিক নয়, নৈতিক দায়িত্বও বটে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের পরিচয় দিতে গেলে অবধারিতভাবেই চলে আসে তার বাবা আধুনিক যশোরের রূপকার মরহুম তরিকুল ইসলামের নাম। ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সমাজকল্যাণ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলানো এই কিংবদন্তি নেতা যশোরের উন্নয়নে তার ধারেকাছেও নেই কেউ। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ কিংবা বিমানবন্দর আধুনিকায়ন- যশোরের প্রতিটি বড় অর্জনে তরিকুল ইসলামের নাম মিশে আছে। বিশেষ করে তার স্বপ্ন ছিল যশোরের ছেলে-মেয়েরা বাড়ির পান্তা ভাত খেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। তিনি সেই স্বপ্ন এবং আকাক্সক্ষা পূরণ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে।
দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতা এতোটাই ছিল যে, নিজের মন্ত্রণালয় না হওয়া সত্ত্বেও স্রেফ ব্যক্তিগত প্রভাব খাটিয়ে তিনি বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প আদায় করে আনতেন।
বাবার সেই উন্নয়নের মশাল এখন অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের হাতে। বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ নার্গিস বেগমের কনিষ্ঠ পুত্র অমিত নিজেও মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন শিক্ষাজীবনে। যশোর বোর্ডের মেধা তালিকায় স্থান পাওয়া এই ছাত্র ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। আকাশছোঁয়া ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ থাকলেও তিনি বেছে নিয়েছেন জনসেবার কণ্টকাকীর্ণ পথ। গত ১৭ বছর ধরে রাজপথে লড়াই করতে গিয়ে দেড় শতাধিক মামলার শিকার হয়েছেন, দিনের পর দিন জেল খেটেছেন, তবুও আপস করেননি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ যে নতুন দিগন্তের দেখা পেয়েছে, অমিত সেই দীর্ঘ সংগ্রামের একজন অগ্রণী সৈনিক।
ভোটারদের সামনে অমিতের সবচেয়ে বড় শক্তি তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ও আধুনিক দৃষ্টিভঙ্গি। ৫ আগস্ট-পরবর্তী অস্থিতিশীল সময়ে তিনি যেভাবে রাজপথে থেকে ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা দিয়েছেন, তা এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে। তার প্রচারণায় বারবার উঠে এসেছে সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গড়ার অঙ্গীকার। তিনি সাহসের সাথে ঘোষণা করেছেন, অপরাধী যদি তার দলের কর্মীও হয়, তবে তার জায়গা হবে কারাগারে। এমন স্পষ্টভাষী ও দায়বদ্ধ নেতৃত্বই আজ যশোরের বড় প্রয়োজন।
এই প্রশ্নের উত্তরে বলতে হয় উন্নয়নের বিশ্বস্ত উত্তরাধিকার, শিক্ষিত ও আধুনিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক সহাবস্থান ও শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তার দৃঢ় অবস্থানের কথা। বিশেষ করে ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর সরকারবিহীন পরিস্থিতিতে যখন সারা দেশে এক ধরনের অরাজকতা বিরাজ করছিল; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত তখন তার দলের নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে সাথে নিয়ে যশোরের প্রতিটা সেক্টরের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা দেওয়া, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘর সুরক্ষার চাদরে ঢেকে দেন। একজন নাগরিক এবং রাজনৈতিক কর্মী হিসাবে সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা অনুভব করেই তিনি সব সময় যশোরের মানুষের পাশে থেকেছেন।
ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে চলা তার প্রচার-প্রচারণায় অমিত যশোরবাসীর নিরাপত্তা তথা সন্ত্রাস ও মাদকের বিস্তার শক্ত হাতে দমন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করছেন। তিনি বলছেন, ‘সমাজবিরোধীরা যদি আমার ডানে-বায়ে বসা কেউ হয়; দলের যে পর্যায়ের নেতা কর্মী হোক না কেন, তার স্থান হবে কারাগারে।’ প্রকাশ্যে দেওয়া এই বক্তব্য এবং অঙ্গীকার নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো অনিন্দ্য ইসলাম অমিত যশোরের সন্তান; যাকে যশোরের সকল স্তরের মানুষ চেনে। তার কাছে পৌঁছাতে কোনো মাধ্যমের প্রয়োজন হয় না এবং আগামীতেও হবে না। সোমবার পৌরপার্কে অনুষ্ঠিত তরুণ ভোটারদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় তিনি দৃঢ়তার সাথে শিক্ষা খাতে উন্নয়নের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পরিবেশ সুনিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন।
তার ভাষায়, ‘আমি এখানকার সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে এখানকার মানুষের ভোটের অধিকারের জন্য লড়াই করেছি। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে লড়াই করেছি। আইনের শাসনের জন্য লড়াই করেছি। আমার বড় হওয়া, আমার পরিবার, জীবনাচার, সংগ্রাম- সবকিছু সম্পর্কেই যশোরবাসী জানে। আমি বিশ্বাস করি, অন্য যেকোনো প্রার্থীর চেয়ে তারা আমাকে ভালো চেনে। নির্বাচিত হলে এখানকার জনসাধারণের ভোটের মর্যাদা রক্ষার্থে আমার কী কী করা উচিত, সে বিষয়ও অন্য সব প্রার্থীর চেয়ে আমি ভালো জানি বলে মনে করি। ফলে অন্য যে কারো চেয়ে আমি বেশি কাজ করতে পারবো। এবং আজ যেমন দোয়া ও সমর্থন পেতে আমি ভোটারদের কাছে যাচ্ছি; পরবর্তীতে মানুষের অভিযোগ ও প্রয়োজনীয়তা জানার সরাসরি ব্যবস্থা রাখবো। আমাকে সুযোগ করে দিলে আমিও আমার পিতার ন্যায় রাষ্ট্রের কাছ থেকে উন্নয়ন প্রকল্প আদায় করে আনতে পারবো।’
অমিত কেবল পারিবারিক উত্তরাধিকার বহন করছেন না, তিনি ধারণ করছেন আধুনিক ও মেধাভিত্তিক রাজনীতির চেতনা। তিনি বিশ্বাস করেন, যশোরের সন্তান হিসেবে এখানকার মানুষের সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তা তার চেয়ে ভালো কেউ বুঝবে না।
তরুণ ভোটারদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের যে রূপরেখা দিয়েছেন, তা যশোরের হারানো ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত দেয়।
যশোরের বাতাস আজও তরিকুল ইসলামের উন্নয়নের ঘ্রাণ বয়ে বেড়ায়। মানুষ যখনই বড় কোনো পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখে, তারা অবচেতন মনেই তরিকুল ইসলামকে খোঁজে। পিতার সেই বিশাল শূন্যতা পূরণ করতে অমিত দাঁড়িয়েছেন এক বুক সাহস আর ভালোবাসা নিয়ে। তিনি কেবল একজন প্রার্থী নন, বরং যশোরবাসীর হারানো আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। নিজের ব্যক্তিগত সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য বিসর্জন দিয়ে তিনি যেভাবে রাজপথের লড়াইয়ে টিকে আছেন, তা প্রমাণ করে মাটির প্রতি তার টান কতটা গভীর। যশোরবাসী আজ বিশ্বাস করে, মরহুম তরিকুল ইসলামের রোপণ করা সেই উন্নয়নের চারাগাছটি অমিতের নিবিড় পরিচর্যায় আবারও বিশাল মহীরুহে পরিণত হবে। অমিতের বিজয়ের মাধ্যমেই যশোর ফিরে পাবে তার শৌর্য, সমৃদ্ধি আর চিরচেনা সেই গৌরবময় পরিচয়।