সম্পাদকীয়
মুসলিম উম্মাহর অন্যতম বৃহৎ উৎসব ঈদুল আজহা সমাগত। ইসলামের ধর্মীয় বিধান অনুযায়ী, চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশে এই উৎসবটি উদযাপিত হবে ২৮ মে। এই দিনটি শুধু আনন্দ-উল্লাসের নয়, বরং ত্যাগের এক অনন্য শিক্ষা বহন করে।
ঈদুল আজহার মূল তাৎপর্য নিহিত রয়েছে হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এর চরম আত্মত্যাগের দৃষ্টান্তে। আল্লাহর নির্দেশে স্বীয় পুত্রকে কোরবানি করতে উদ্যত হওয়ার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছিলেন, তা আজও মানবজাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
এ উৎসবে সামর্থবান মুসলিমরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশে পশু কোরবানি করেন। তবে কোরবানির গভীর শিক্ষা হলো, আমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকা অহংকার, লোভ, হিংসা ও পশুত্বকে বিনাশ করার প্রচেষ্টা চালানো।
ইসলাম সব সময় সাম্য ও ভ্রাতৃত্বের বাণী প্রচার করে। তাই এই উৎসবে যাতে সব শ্রেণির মানুষ শামিল হতে পারে, সে ব্যবস্থাও ধর্মীয়ভাবেই বিরাজমান। কোরবানির গোশত তিন ভাগে বিভক্ত করে এক ভাগ নিজের জন্য, এক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের জন্য আর এক ভাগ গরিব-দুখীদের জন্য বণ্টন করার বিধান রয়েছে। এর মাধ্যমে সমাজের সম্পদের বৈষম্য কিছুটা হলেও দূর করার চেষ্টা করা হয়। একইসাথে শ্রেণিভেদ ভুলে যাওয়ার শিক্ষাও দেওয়া হয় এই উৎসবে।
ঈদুল আজহার দিনে মুসলিমরা নামাজ আদায়ের পর পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন। ধনী-গরিব নির্বিশেষে উৎসবের আমেজ সবার মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। ঈদের নামাজে একসঙ্গে মিলিত হওয়া হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে যাওয়ার চমৎকার ব্যবস্থা। মহানবীর (স.) নির্দেশিত পন্থা হলো, এক রাস্তা দিয়ে ঈদগাহে যাওয়া, ভিন্ন রাস্তা দিয়ে বাড়িতে ফিরে আসা। এর মাধ্যমে বহু মানুষের সঙ্গে দেখা-সাক্ষাৎ ও তাদের সুবিধা-অসুবিধার খোঁজ নেওয়া যায়।
আমরা এই পবিত্র উৎসবে উদার ও মানবিক হওয়ার অঙ্গীকার করি। বিশেষ করে বাংলাদেশের সমাজে এখন যে ধর্ষণের পৈশাচিকতা দৃশ্যমান হচ্ছে, আমরা যেন তা থেকে নিজেদের দূরে রাখতে পারি। মহান আল্লাহ যেন বিকৃতমনস্কদের সুপথে আসার তৌফিক দেন, সেই প্রার্থনা করি। ঈদুল আজহার উৎসব কেবল পশু কোরবানির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার জন্য নয়, বরং তা আমাদের চরিত্রের পশুত্ব বিনাশের মাধ্যম হয়ে উঠুক।
সুবর্ণভূমির সকল পাঠক, গ্রাহক, দর্শক, এজেন্ট, হকার, শুভানুধ্যায়ীসহ দেশবাসী জানাই ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।