যশোর, বাংলাদেশ || সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

সড়কের মৃত্যুফাঁদ থেকে মানুষকে রক্ষা করুন

প্রকাশ : সোমবার, ২৫ মে,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
সড়কের মৃত্যুফাঁদ থেকে মানুষকে রক্ষা করুন

২৩ মে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মাত্র দুটো জেলা- যশোর ও কুষ্টিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আটজনের মৃত্যু হয়েছে। নারী ও শিশুসহ নিহত এসব মানুষের মৃত্যু সড়ক ব্যবস্থার ভয়াবহতা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো। এদিন সারাদেশে সড়কে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন, যা আমাদের জাতীয় জীবনে সড়ক নিরাপত্তা সংকটের এক করুণ চিত্র।

সামনেই মুসলিমদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা। এই সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ নগর থেকে ছুটছেন গ্রামের বাড়িতে। মহাসড়কে বাড়ছে যানবাহনের চাপ, আর সেইসঙ্গে বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। একথা আগেভাগেই বলা যায়, সঠিক উদ্যোগ না নিলে প্রাণহানি আরও বাড়বে।

আমাদের মহাসড়কগুলো বিশ্বমানের কাছাকাছিও নয়। জনসংখ্যার ঘনত্ব বিপুল, ভূখণ্ড ছোট, সুপ্রশস্ত সড়ক নির্মাণের সুযোগ সীমিত। কিন্তু সমস্যা শুধু প্রস্থের নয়, অনেক জাতীয় মহাসড়কে একই লেনে ছোটে বাস, ট্রাক, আবার রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইকের মতো ধীরগতির বাহন। রাস্তার ওপর থেকে হাটবাজার আজও উচ্ছেদ করা যায়নি। যেখানে চলাচলের কথা ৬০ কিলোমিটার গতিতে, সেখানে কোনো গাড়ি ছুটছে ১২০ কিলোমিটারে, আবার কোনো গাড়ি ২০ কিলোমিটারের মতো ধীর গতিতে এগুচ্ছে। এই অব্যবস্থা দুর্ঘটনা ডেকে আনার অন্যতম প্রধান কারণ।

চালকদের মধ্যে আইনবিধি না মানার প্রবণতা উদ্বেগজনক। গাড়ির ফিটনেস ও চালকের প্রশিক্ষণে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। ঈদের সময় যাত্রী চাপ সামলাতে গাড়িচালক ও মালিকরা বেপরোয়া গতিতে যান চালাতে বাধ্য হন, আর তার মূল্য চোকাতে হয় অমূল্য প্রাণ দিয়ে।

এককথায়, আমাদের সড়ক-মহাসড়কগুলো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। মানুষ সুস্থভাবে বাড়ি ফিরতে পারবে কি না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

এমতাবস্থায় দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকায় গতিনিয়ন্ত্রণ ও সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা দরকার। হাইওয়ে থেকে অপ্রয়োজনীয় হাটবাজার ও ধীরগতির বাহন অপসারণ খুবই জরুরি কাজ। ফিটনেসবিহীন যান চলাচল বন্ধ এবং চালকদের লাইসেন্স প্রদানে কঠোরতা আরোপ করা সময়ের দাবি। ঈদের আগে ও সময়কালে ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ, বিশেষ করে অতিরিক্ত গতি ও ওভারটেকিং বন্ধে অভিযান চালানো দরকার। সর্বোপরি সড়ক বিভাগ, বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

ঈদ মানে আনন্দ, আর সেটা সম্ভব নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করেই। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও নাগরিক-সবার সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি। নয়তো এই মৃত্যুফাঁদে আরও কত পরিবার যে স্বজন হারাবে, তার ইয়ত্তা নেই।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)