তারিক মোহাম্মদ
, ঝিকরগাছা (যশোর)
দুদিন পরেই ঈদুল আজহা। ঈদকে সামনে রেখে ঝিকরগাছার মার্কেট ও বিপণিবিতানগুলোতে জমে উঠেছে কেনাকাটা।
সকাল থেকে গভীররাত পর্যন্ত ক্রেতাদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে ঝিকরগাছা বাজার, কাপড়পট্টি ও বিভিন্ন শপিংমল এলাকা।
এবার ঈদের ছুটি প্রায় সাতদিন হওয়ায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় কর্মরত মানুষ আগেভাগেই নিজ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরতে শুরু করেছেন।
অনেকেই পরিবারের সদস্যদের আগে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। ফলে ঈদের আমেজ আরও আগে থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে উপজেলাজুড়ে। বাজারগুলোতে বেড়েছে ক্রেতাদের চাপ।
এদিকে, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে কৃষকরা সময়মতো মাঠের ধান ঘরে তুলতে পেরেছেন। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্বস্তি ফিরেছে এবং কৃষকদের মাঝেও ঈদের কেনাকাটায় বাড়তি উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
পুরন্দরপুর এলাকার মাসুদ হোসেন বলেন, এবার আবহাওয়া ভালো থাকায় কোনো ঝামেলা ছাড়াই ধান ঘরে তুলতে পেরেছি। ধানের ফলনও মোটামুটি ভালো হয়েছে। তাই পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে বাজারে এসেছি।
ঈদ উপলক্ষে শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সী মানুষের জন্য নতুন পোশাক, জুতা, কসমেটিকস ও নানা ধরনের ফ্যাশন সামগ্রী কিনতে ভিড় করছেন ক্রেতারা। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বাজার এলাকায় মানুষের উপস্থিতি কয়েকগুণ বেড়ে যাচ্ছে।
গার্মেন্ট ব্যবসায়ী বুলবুল আহমেদ জানান, ঈদ সামনে রেখে এবার বেচাকেনা বেশ ভালো হচ্ছে। প্রতিদিনই নতুন নতুন ক্রেতা আসছেন। বিশেষ করে তরুণ-তরুণীদের পোশাকের চাহিদা বেশি।
কসমেটিক দোকানি কদর আলী বলেন, ঈদে কসমেটিকসের চাহিদা সবসময়ই বেশি থাকে। এবারও মেয়েদের বিভিন্ন ধরনের প্রসাধনী ও গিফট আইটেম বেশি বিক্রি হচ্ছে। আশা করছি ঈদের আগমুহূর্তে বিক্রি আরও বাড়বে।
ক্রেতা হোসনেআরা পারভীন বলেন, দ্রব্যমূল্যের চাপ থাকলেও পরিবারের সবার জন্য কিছু না কিছু কিনতেই হয়। তাই বাজেটের মধ্যে থেকেই ঈদের কেনাকাটা করছি। বাজারে অনেক সুন্দর সুন্দর কালেকশন এসেছে।
তবে বাজারে মানুষের ভিড় বাড়লেও প্রশাসনের দৃশ্যমান তৎপরতা খুব একটা চোখে পড়ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে অনেকের। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মার্কেট এলাকায় বাড়ছে যানজট ও চুরি-ছিনতাই আতঙ্ক।
এ বিষয়ে ঝিকরগাছা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. গোলাম কিবরিয়া এক প্রশ্নের জবাবে জানান, মার্কেটগুলোতে সিভিল পোশাকে আমাদের লোক কাজ করছে। গুরুত্বপূর্ণ জায়গাগুলোতে পোশাকধারী পুলিশ মোতায়েনের ব্যবস্থা করা হবে।