যশোর, বাংলাদেশ || শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

সম্পাদকীয়

নেতাদের নৈতিক স্খলন বনাম সৎ লোকের শাসনের স্লোগান

প্রকাশ : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই,২০২৬, ০৯:০০ এ এম
নেতাদের নৈতিক স্খলন বনাম সৎ লোকের শাসনের স্লোগান

কিছুদিন আগে জাতীয় সংসদে একজন মন্ত্রী জামায়াত ও ইসলাম সম্বন্ধে কিছু কথা বলেছিলেন। তার কথার সারাংশ হলো, নামের সাথে ইসলাম যুক্ত থাকলেই তা ইসলাম হয় না। উদাহরণ হিসেবে তিনি বিএনপি সেক্রেটারি জেনারেল এবং রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ করেছিলেন। তার ভাষায়, ফখরুল ইসলাম যেমন ইসলাম না, তেমনি জামায়াতে ইসলামীও ইসলাম না।

উপমহাদেশের রাজনীতিতে জামায়াতে ইসলামী নানা সময়ে নানা কারণে আলোচনা ও বিতর্কে এসেছে। এর মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের বিরোধিতা করে দলটি কার্যত গোটা পূর্ববাংলার মানুষের সমর্থন হারায়। দেশের স্বাধীনতা তারা ঠেকাতে পারেনি, যার খেসারত তাদের দিতে হয়েছে শীর্ষ নেতাদের ফাঁসি কার্যকরের মধ্যে দিয়ে। অবশ্য যে বিচারিক প্রক্রিয়ায় দলটির নেতাদের ফাঁসির আদেশদান ও কার্যকর করা হয়, তা নিয়ে যথেষ্ট বিতর্কের অবকাশ আছে।

নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দলটি বাংলাদেশের এখনকার বাস্তবতায় দ্বিতীয় বৃহত্তম সংগঠন। ইতিহাসে সর্বাধিক আসন নিয়ে তারা জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসেছে। ফলত দলটি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং বর্তমান সময়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতাধর হয়ে উঠেছে।

এই দলটির প্রধান স্লোগান ‘আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই’। কিন্তু একটু ক্ষমতাধর হয়ে ওঠার পর তাদের নেতারা যে ধরনের কেলেঙ্কারিতে জড়িয়ে পড়ছেন, তা এককথায় ভয়াবহ। সৎ লোকের শাসন বাস্তবায়ন করতে হলে দলের নেতাদের সৎ থাকা পূর্বশর্ত। দেখা যাচ্ছে, স্লোগানের সঙ্গে তাদের দলের কিছু নেতার নৈতিক অবস্থান যোজন যোজন দূরে।

সম্প্রতি সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে ঘিরে ভাইরাল হওয়া ভিডিও ও কথিত দ্বিতীয় বিয়ে এবং এক কিশোরীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ছবি ভাইরাল হয়। এই কেলেঙ্কারি ঢাকতে সংসদ সদস্য মিথ্যাচার ও জালিয়াতি করে চলেছেন। এর আগে নড়াইলের এমপি আতাউর রহমান বাচ্চু সরকারি অনুদানের টাকা নিজের মেয়ে ও আত্মীয়স্বজনকে দেওয়ার চেষ্টা করে ধরা পড়েন। দলটির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যদিও এসব ঘটনায় ‘বিভ্রান্তি’ ও ‘বিব্রত’ বোধ করছে এবং শৃঙ্খলা জোরদারের কথা বলছে, কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায়, এসব কি শুধুই ‘নতুন এমপিদের ভুল’, নাকি দলটির সাংগঠনিক সংস্কৃতির প্রতিফলন?

গাজী নজরুল ইসলাম এমপি নিজের বক্তব্যে প্রথমে বলেন, ভিডিওটি ‘ষড়যন্ত্রমূলক’, পরে নিজেই ওই নারীকে দ্বিতীয় স্ত্রী বলে দাবি করেন। যদিও তথ্য-প্রমাণে দেখা যাচ্ছে, স্ত্রী দাবি করা নারীর সঙ্গে তার বৈবাহিক স্ট্যাটাস দাঁড় করাতে ঢাকা থেকে নির্দেশনা দিয়েছেন এমপি। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। জালিয়াতি ঢাকার আর কোনো পথ নেই। আবার ঢাকায় এক কিশোরীর সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্ত কাটানোর ভিডিওও ভাইরাল হয়েছে। বলা হচ্ছে, যার মাধ্যমে প্রবীণ এই এমপির নৈতিক স্খলন জনসমক্ষে চলে এসেছে।

জামায়াত গণমাধ্যমে বিবৃতি দিয়ে বলেছে, তথ্য সংগ্রহের পর এমপি গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু একের পর এক অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়া নেতাদের দিয়ে দলটি কীভাবে সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠান করবে, সেই প্রশ্ন কিন্তু রয়েই যাচ্ছে।

বিশেষ করে, নড়াইল ও সাতক্ষীরার ঘটনা দুটি প্রকাশ করে যে, ক্ষমতার কাছাকাছি এসেই কিছু নেতা স্বজনপ্রীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছেন। আবার কুষ্টিয়া সদর আসনের সংসদ সদস্য একের পর এক বালখিল্য বক্তব্য দিয়ে চলেছেন। এই ধরনের লোককে যে দল সংসদ সদস্য হিসেবে মনোনয়ন দেয়, তাদের বিবেচনাবোধ ও দায়িত্বশীলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা অমূলক নয়।

মোদ্দা কথা হলো, আগাগোড়া বিতর্কিত জামায়াতকে নিয়ে যারা সৎ লোকের শাসনের স্বপ্ন দেখছেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। দলটি আসলে ধর্মীয় অনুভূতি কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে চায়। সৎ লোকের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো আলামত তাদের মধ্যে আগেও ছিল না, এখনও নেই। দেশের মানুষ যত দ্রুত এই কথা বুঝবে, ততই মঙ্গল।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)