সুবর্ণভূমি ডেস্ক
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি দেখানোর মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির একদিনের মাথায় জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমানের আদালত ৫০০ টাকার মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। পরীমনির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত (সুরভী) এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার পরীমনির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। বুধবার এ মামলায় পরীমনি স্বেচ্ছায় আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। পরে আদালত শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার এ মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। ওই দিন বাদীপক্ষ আসামির জামিন বাতিলের আবেদন করেন। অন্যদিকে পরীমনির আইনজীবী সময়ের আবেদন দাখিল করেন। আবেদনে বলা হয়, অ্যালার্জিজনিত রোগে আক্রান্ত থাকায় পরীমনি আদালতে হাজির হতে পারেননি। পরে আদালত সময়ের আবেদন নামঞ্জুর করে বাদীপক্ষের আবেদন মঞ্জুর করেন এবং পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আদেশ দেন।
২০২৪ সালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই ঢাকা জেলার পরিদর্শক মো. মনির হোসেন ঢাকার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, পরীমনি ও তার কস্টিউম ডিজাইনার জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিমের বিরুদ্ধে মারধর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে আরেক আসামি ফাতেমা তুজ জান্নাত বনির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়নি।
পরে ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেন এবং পরীমনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমিকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ২৫ জুন তারা ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির হয়ে জামিন পেয়েছিলেন।
এর আগে ২০২১ সালের ৬ জুলাই ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজীব হাসানের আদালতে বোট ক্লাবের সভাপতি ও ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদ বাদী হয়ে পরীমনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন পরীমনির সহযোগী ফাতেমা তুজ জান্নাত বনি ও জুনায়েদ বোগদাদী জিমি ওরফে জিম।
মামলার আরজিতে নাসির উদ্দিন উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা অ্যালকোহল সেবনে অভ্যস্ত। তারা সুযোগ বুঝে বিভিন্ন নামিদামি ক্লাবে ঢুকে অ্যালকোহল পান করেন এবং পার্সেল নিয়ে অনেক সময় মূল্য পরিশোধ করেন না। পরীমনি তার পরিচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে মিথ্যা মামলা করিয়ে হয়রানির ভয় দেখান। ২০২১ সালের ৯ জুন রাত ১২টার পর আসামিরা সাভারের বোট ক্লাবে প্রবেশ করে দ্বিতীয় তলার ওয়াশরুম ব্যবহার করেন। পরে তারা ক্লাবের ভেতরে বসে অ্যালকোহল পান করেন।
আরজিতে আরও বলা হয়, বাদী নাসির উদ্দিন মাহমুদ ও তার সহযোগী শাহ শহিদুল আলম রাত ১টা ১৫ মিনিটে ক্লাব ত্যাগ করার সময় পরীমনি উদ্দেশ্যমূলকভাবে নাসিরকে ডাক দেন এবং তাদের সঙ্গে কিছু সময় বসার অনুরোধ করেন। একপর্যায়ে পরীমনি অশ্লীল অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে নাসিরকে আকৃষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং একটি ‘ব্লু লেবেল’ অ্যালকোহলের বোতল বিনা মূল্যে পার্সেল দেওয়ার জন্য চাপ দেন। নাসির উদ্দিন রাজি না হওয়ায় পরীমনি তাকে গালমন্দ করেন। নাসির ও আসামিদের মধ্যে বাদানুবাদের একপর্যায়ে পরীমনি বাদীর দিকে একটি সার্ভিং গ্লাস ছুড়ে মারেন এবং হাতে থাকা মোবাইল ফোনও নিক্ষেপ করেন। এতে নাসির মাথা ও বুকে আঘাত পান।
বাদী মামলায় আরও উল্লেখ করেন, পরীমনি ও তার সহযোগীরা তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দিয়েছেন এবং বোট ক্লাবে ভাঙচুর চালিয়েছেন। এ ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্যই পরে পরীমনি সাভার থানায় বাদী হয়ে নাসির উদ্দিনসহ দুজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এনে মামলা করেছিলেন।