স্টাফ রিপোর্টার
যশোরের বাঘারপাড়ায় সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রেসক্লাব যশোরে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার।
ছবি:
যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলার ছয় নম্বর দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রক্রিয়ার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) দুপুরে প্রেসক্লাব যশোরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান খলশী ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ও সার-কীটনাশক ব্যবসায়ী মো. আব্দুস সাত্তার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সাত্তার জানান, সরকারি বিজ্ঞপ্তির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান 'মেসার্স ইরা ট্রেডার্স' এর নামে জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন (আবেদন নম্বর: বাঘারপাড়া-৫৯)। দীর্ঘ ২৮ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং সব যোগ্যতা থাকার পরও তাকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে আমি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছি। রাজনৈতিক হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও কারাভোগের কারণে পরিবার নিয়ে বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছি। আশা করেছিলাম বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও যোগ্যতা নিশ্চিত করা হবে, কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি।’
অভিযোগ তুলে এই ব্যবসায়ী বলেন, দোহাকুলা ইউনিয়নে যার অনুকূলে সার ডিলারশিপ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেই আব্দুর রশিদ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত এবং সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ রায়ের গাড়িচালকের ভাই। আব্দুর রশিদ বর্তমানে 'জিএম ট্রেডার্স' নামে অন্য একটি সার ডিলারের ব্যবসাও পরিচালনা করছেন। একজন ব্যক্তি কীভাবে একাধিক ডিলারশিপ পান এবং রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত না হয়ে পুনরায় নিয়োগ পান—তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে উত্থাপিত মূল দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—দোহাকুলা ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা; নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তির যোগ্যতা, রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ডিলারশিপের বৈধতা যাচাই করা এবং সরকারি নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসৃত হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা।
তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণপূর্বক যোগ্য আবেদনকারীকে সুযোগ দেওয়ার দাবিও জানান তিনি।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বিষয়টি ইতোমধ্যে যশোরের জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের অবহিত করা হলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। সংবাদ সম্মেলন থেকে বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের নেতাসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাঘারপাড়া উপজেলার দোহাকুলা ইউনিয়নের ছয় নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমান আলী, যুবদল সভাপতি মিলন হোসেন ও স্থানীয় বাসিন্দা নুরুজ্জামান আজাদি।