চুয়াডাঙ্গা সংবাদদাতা
প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৫ দফা দাবিতে রোববার (১১ জানুয়ারি) সকালে চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি পালন করে চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাব।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একটি দেশকে ধ্বংস করতে হলে সে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করতে হয়, তেমনি শিক্ষক যদি অনৈতিকভাবে ঢুকে তাহলে একটি জাতি ধ্বংস হবে।
তারা বলেন, দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত শিক্ষাখাত। এখানে বদলিজনিত কারণে ঘুষ লেনদেন হয় প্রচুর। চুয়াডাঙ্গায় শিক্ষক নিয়োগে জালিয়াতির ঘটনা আমাদের লজ্জিত করেছে।
যে বৈষম্যের বিরুদ্ধে রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠেছে, সেই বাংলাদেশে কোনো জালিয়াতি বা প্রশ্ন ফাঁস সিন্ডিকেটের ঠাঁই হবে না।
চুয়াডাঙ্গার মাটিতে মেধাবীদের অধিকার নিয়ে কোনো ছিনিমিনি খেলতে দেওয়া হবে না।
বক্তারা আরো বলেন, শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা এখন মেধাবীদের কাছে এক আতঙ্কের নাম। জালিয়াতি আর প্রশ্ন ফাঁস আমাদের স্বপ্ন চুরির হাতিয়ার হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবিলম্বে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে ছাত্রসমাজ আরো কঠোর আন্দোলনে নামবে।
চুয়াডাঙ্গাতে দুজন ডিভাইসধারী আটক হয়েছে উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, হয়তো আরো চোখের আড়ালে রয়ে গেছে। মেধা নিয়ে খেললে বাংলাদেশ এক সময় মেধাশূন্য হয়ে যাবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা ডিবেট ক্লাবের প্রধান পৃষ্ঠপোষক আসলাম হোসেন, সদস্য ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা সদস্য সচিব রনি বিশ্বাস, সাবেক মুখপাত্র তামান্না খাতুন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদর উপজেলার সাবেক আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম নিরব।
মানববন্ধনের শেষে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এগুলো হলো জালিয়াতি চক্রের সদস্যদের দ্রুত বিচার করা, প্রশ্ন ফাঁসের নেপথ্যের মূল হোতাদের খুঁজে বের করে জনসম্মুখে আনা, নিয়োগ পরীক্ষায় নিñিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, দুর্নীতিমুক্ত ও মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং প্রশ্ন ফাঁস রোধে দীর্ঘমেয়াদী কঠোর আইন প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা।