যশোর, বাংলাদেশ || বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

যশোরে বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ: মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ হেফাজতে ১

স্টাফ রিপোর্টার

, যশোর

প্রকাশ : বুধবার, ২৯ জুলাই,২০২৬, ১০:৫২ এ এম
যশোরে বিএনপি নেতাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ: মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশ হেফাজতে ১

যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকায় (যশোর-মাগুরা মহাসড়কের ঈগল তেল পাম্প সংলগ্ন স্থানে) ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক হাসান আলীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত পৌনে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে তারা যশোর-মাগুরা মহাসড়ক অবরোধ করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। এতে প্রায় আধা ঘণ্টা সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে এবং মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আন্দোলনকারীদের দাবির মুখে ইউনুস নামে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। এরপর অবরোধ তুলে নেন বিক্ষোভকারীরা। রাত সাড়ে ১১টার দিকে ইউনুসকে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

ভুক্তভোগী বিএনপি নেতা হাসান আলী অভিযোগ করে বলেন, তার বাবা হত্যা মামলার রায় ঘোষণার ঠিক প্রাক্কালে তাকে হত্যার এই চক্রান্ত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, স্থানীয় আশিক নামে এক যুবক প্রকাশ্যে রামদা নিয়ে তার ওপর হামলার চেষ্টা চালায়। এ সময় শিহাব নামে আরও একজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। হাসান আলী চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন ছুটে এলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যান।

হাসান আলীর দাবি, আশিক তার বাবা হত্যা মামলার আসামি বাছেরের ভাতিজা এবং ইউনুস তার ভাই। পরিকল্পিতভাবে টাকার বিনিময়ে এই হামলার চেষ্টা চালানো হয়েছে এবং এর পেছনে ইউনুসের সরাসরি ইন্ধন রয়েছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আশিক অতীতে ছাত্রলীগের এবং ইউনুস আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বর্তমানে তারা নিজেদের বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

ঘটনার বিষয়ে ইছালী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জীবন কুমার বলেন, রাতে স্থানীয় দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং এক পক্ষ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ তুলেছে। তবে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে এ ধরনের কোনো অস্ত্র বা আলামত উদ্ধার করতে পারেনি।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুম খান জানান, এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইউনুসকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এদিকে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, উভয় পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ বিরোধ চলে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বিষয়টি বড় আকার ধারণ করে। এ ঘটনার নেপথ্যে স্থানীয় বিএনপিরই অপর একটি পক্ষের ইন্ধন রয়েছে, যারা অভিযুক্তদের সমর্থন দিচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৯ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠিক একই স্থানে হাসান আলীর বাবা ও ইছালী ইউনিয়ন বিএনপির তৎকালীন সহ-সভাপতি খলিলুর রহমানকে হত্যা করা হয়েছিল। বর্তমান ঘটনাটির সঙ্গে তার বাবার হত্যাকাণ্ডের ধরন ও প্রেক্ষাপটের গভীর মিল রয়েছে বলে দাবি করেছেন হাসান আলী।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)