কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার সাফদারপুর রেলগেটে ইটবোঝাই একটি ট্রিলার রেললাইনে আটকে পড়ায় অল্পের জন্য ট্রেন দুর্ঘটনা এড়ানো গেছে।
তবে পরে মামলার ভয় দেখিয়ে ট্রিলারচালকের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে সাফদারপুর স্টেশনের এক চাবিম্যান ও এক মিস্ত্রির বিরুদ্ধে।
যদিও অভিযুক্তরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। অভিযোগের সত্যতা মিললে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে কোটচাঁদপুরের রিপন ব্রিকস থেকে ইটবোঝাই তিনটি ট্রিলার শালকুপা গ্রামের উদ্দেশে রওনা হলে সাফদারপুর-শালকুপা রেলগেটে একটি ট্রিলার রেললাইনে আটকে যায়।
স্থানীয়রা ট্রেনটি থামিয়ে দিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে সাফদারপুর স্টেশনের চাবিম্যান মিন্টু রহমান ও মিস্ত্রি মিঠু রহমান পরে ইটভাটায় গিয়ে প্রথমে ৪০ হাজার টাকা দাবি করেন।
টাকা না দিলে ট্রিলার, চালক ও ভাটার মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করার হুমকি দেন। পরে দর-কষাকষির একপর্যায়ে ১৭ হাজার টাকায় বিষয়টি মীমাংসা হয়।
ট্রিলারচালক লিয়াকত হোসেন বলেন, রেলের লোকজনের চাপে ভাটার মালিক ও পরিচিতজনদের কাছ থেকে ধার করে টাকা জোগাড় করতে হয়েছে।
ভাটার শ্রমিক কাওসার হোসেনও দাবি করেন, প্রথমে বেশি টাকা চাওয়া হলেও পরে ১৭ হাজার টাকায় সমঝোতা হয়।
তবে মিস্ত্রি মিঠু রহমান ও চাবিম্যান মিন্টু রহমান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তারা শুধু ট্রিলারটি দ্রুত রেললাইন থেকে সরিয়ে নেওয়ার জন্য ভাটায় গিয়েছিলেন; অর্থ লেনদেনের সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
সাফদারপুর স্টেশনের সহকারী স্টেশন মাস্টার তামিনুর রহমান বলেন, অর্থ আদায়ের অভিযোগ আগে জানা ছিল না। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, রেলকর্মীদের এ ধরনের অর্থ দাবি করার কোনো এখতিয়ার নেই।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেলওয়ের কালীগঞ্জ কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী (পিডব্লিউ) সাইফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।