স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোরে স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন (২৯) হত্যা মামলার প্রধান পলাতক আসামি সফিয়ার রহমান টুটুলকে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার দেওয়া তথ্য ও দেখানো স্থান থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি সুইচগিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে যশোর কোতোয়ালি থানার চূড়ামনকাটি এলাকা থেকে টুটুলকে গ্রেপ্তার করে পিবিআই যশোরের একটি দল। পরে দুপুর ১২টা ২৫ মিনিটে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নাজিরশংকরপুর এলাকার একটি কোল্ড স্টোরেজের পেছনে আধাপাকা বাড়ির পূর্ব পাশের জানালার সানশেডের ওপর থেকে চাকুটি উদ্ধার করা হয়।
পিবিআই সূত্র জানায়, গত ২০ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পূর্ব বারান্দীপাড়ার মাঠপাড়ার বাসিন্দা ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী আল-আমিন হোসেন দোকান থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। বারান্দীপাড়া লিচুতলা এলাকায় পৌঁছালে দুর্বৃত্তরা তাকে হত্যা করে লিচুতলা মাদরাসার পেছনের একটি মেহগনিবাগানে ফেলে যায়। পরে বিকেল সোয়া ৪টার দিকে তার মা ঘটনাস্থলে গিয়ে ছেলের মরদেহ দেখতে পান।
এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা করেন। ২১ আগস্ট দায়ের করা মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়। পরে পিবিআই যশোর স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
তদন্তের ধারাবাহিকতায় ২৬ আগস্ট হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে গোলাম রসুল (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে পিবিআই।
এরপর পিবিআইয়ের প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনা এবং পিবিআই যশোরের পুলিশ সুপার মো. কামরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে টুটুলের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানিয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে টুটুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই। মামলার তদন্তও চলমান রয়েছে।