খুলনা প্রতিনিধি
‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’-এর আওতায় পাঁচ বাহিনীর মোট ৫৯ জন ‘সক্রিয় জলদস্যু’ বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ র্যাব-৬ এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। ৩১ আগস্ট তারা র্যাবের কাছে আত্মসমর্পণ করে বলে বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সংস্থাটির সদর দপ্তর, খুলনায় আয়োজিক এক প্রেস ব্রিফিংয়ে জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিং করেন র্যাবের মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ।
ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, দস্যুমুক্ত নিরাপদ সুন্দরবন নিশ্চিত করতে এবছর ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানের ধারাবাহিকতায় অপরাধের পথ ছেড়ে এসব জলদস্যুরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জন্য আত্মসমর্পণ করে।
আত্মসমর্পণকারী বাহিনী ও তাদের সদস্যসংখ্যা হলো- বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আফতাব বাহিনীর আটজন এবং মিজান বাহিনীর সাতজন।
তাদের জমা দেওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদের মধ্যে রয়েছে- চারটি শর্টগান, ৪৭টি ওয়ানশুটারগান, চারটি পাইপগান, তিনটি এয়ারগান, একটি রাইফেলসহ মোট ৫৯টি অস্ত্র, ৫৪১ রাউন্ড তাজা গুলি, ১৪টি খালি কার্তুজ ও সাতটি ওয়াকিটকি।
আত্মসমর্পণকারী ব্যক্তিদের প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলেও র্যাব এর সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে মহাপরিচালক আহসান হাবীব পলাশ বলেন, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে গত ১ জুন থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তিনমাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে ১ সেপ্টেম্বর থেকে আবার বনে পর্যটক ও বনজীবীদের প্রবেশ উন্মুক্ত করা হয়েছে। তার ঠিক আগের দিনই এই দস্যুদের আত্মসমর্পণ স্থানীয় অর্থনীতি, বনজীবী ও পর্যটকদের সুরক্ষায় এক ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুন্দরবনকে সম্পূর্ণরূপে দস্যুমুক্ত রাখতে তাদের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অব্যাহত থাকবে।
অন্যান্য সক্রিয় দস্যুদেরও দ্রুত অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসারও আহ্বান জানান তিনি।