স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর: সাবেক শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে এক নারীকে নির্যাতন ও হামলার অভিযোগ - সুবর্ণভূমি
ছবি:
স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের একমাস পর সাবেক শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে এক নারীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজনসহ সাবেক শ্বশুর ও শাশুড়ির নামে আদালতে মামলা করেছেন ভুক্তভোগী তিশা খাতুন।
তিনি যশোর সদরের রামনগর ইউনিয়নের রাজারহাট এলাকার বাসিন্দা সালাম গাজীর মেয়ে।
তিশা খাতুনের অভিযোগ, চলতি বছরের মে মাসে ঝিকরগাছার বাসিন্দা রাসেল হোসেনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পরের মাসেই স্বামী বিদেশে চলে যান। এরপর বিদেশ থেকে ফোন করে তাকে ভয়ভীতি দেখানো এবং বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ করেন।
তার দাবি, স্বামীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় যৌতুকের টাকা চেয়ে তাকে হুমকি দেওয়া হয়। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও সমাধান হয়নি।
বিচ্ছেদের একমাস পর গত ১১ সেপ্টেম্বর রামনগর ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলীসহ কয়েকজনকে সাথে সাবেক শ্বশুর ভুক্তভোগী তিশাদের বাড়িতে যান। তারা বিয়েতে দেওয়া গহনা ও কাবিননামার টাকা ফেরত চান। অস্বীকৃতি জানালে সংঘবদ্ধভাবে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি ভুক্তভোগী তিশার গলায় থাকা সোনার চেইন, আংটি ও একজোড়া কানের দুল এবং বিছানার নিচে থাকা ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়া হয় বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে, মামলার আসামিরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। রামনগর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মোজাহার আলী বলেন, ঘটনার দিন আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম না। তবে এর আগে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগে একবার সেখানে গিয়েছিলেন বলে জানান।
অপর আসামি রামনগর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি জহির উদ্দিনের দাবি, তারা স্থানীয়ভাবে বিষয়টি সমাধানের উদ্দেশ্যেই ওই বাড়িতে যান। দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতির পরিস্থিতি তৈরি হলে তারা তা থামিয়ে সেখান থেকে চলে আসেন। মারধর, লুটপাট বা হুমকির সঙ্গে তারা জড়িত না বলে দাবি করেন তিনি।
ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি বিল্লাল হোসেনও অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রাজনৈতিকভাবে হেয় করার উদ্দেশ্যে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই নারীর সাবেক শ্বশুর মিজানুর রহমান বলেন, প্রকৃত ঘটনা জানতে হলে ওই এলাকার মোড়ল-মাতব্বরদের সাথে কথা বলেন। আমরা হামলা চালাইনি, বরং শিকার হয়েছি।
এদিকে, নিরাপত্তাহীনতার কারণে ভুক্তভোগি পরিবার স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছেন না বলে জানান ওই নারী। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা এবং নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন তার পরিবার।