সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সাতক্ষীরায় পৃথক দুই অভিযানে দুটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছে প্রশাসন ও মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর।
এর মধ্যে সদর উপজেলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিয়ে আয়োজনের অপরাধে বরের বাবাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে কনের অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে কিশোরী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার বিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
অন্যদিকে, তালা উপজেলায় অভিযান চালিয়ে আরেকটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সাতক্ষীরা শহরের বাঁকাল এলাকায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর দ্বিতীয়বার বিয়ের আয়োজন করা হচ্ছে- এমন খবর পান জেলা মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক নাজমুন নাহার।
খবর পেয়ে তিনি কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ফিল্ড সুপারভাইজার আজিবুর রহমান ও করবী সুলতানা এবং প্রশিক্ষক তাছরিনা খাতুনকে ঘটনাস্থলে পাঠান। একই সময়ে সদর থানা-পুলিশের একটি দলও সেখানে পৌঁছায়।
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা ও পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বর সোহাগ হোসেন মেহেদী ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহেদ হোসেন এবং মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। ওই সময় কনের চাচার বাড়িতে ভোজের আয়োজন চলছিল। সেখানে বরের বাবা ও উভয় পক্ষের আত্মীয়স্বজনকে পান ভ্রাম্যমাণ আদালত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই কিশোরীর এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ের আয়োজন।
বাল্যবিয়ে আয়োজনের অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় কালিগঞ্জ উপজেলার নলতা গ্রামে বাসিন্দা বরের বাবা লুৎফর রহমানকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
এ ছাড়া কনের বাবা লিয়াকাত হোসেন ও স্বজনদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়। কিশোরী প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার বিয়ে না দেওয়ার নির্দেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
এদিকে, একই দিন দুপুরে তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নে পৃথক অভিযান চালিয়ে আরেকটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা হয়।
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর তালা উপজেলা কিশোর-কিশোরী ক্লাবের জেন্ডার প্রমোটার প্রসেনজিৎ ঘোষ ও প্রশিক্ষক রাজিবুল ইসলামের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
অভিযানের খবর পেয়ে বরের গাড়ি মাঝপথ থেকে ফিরে যায়। পরে ওই কিশোরীর বাবার কাছ থেকেও মুচলেকা নেওয়া হয় এবং বিয়ে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়।
মহিলাবিষয়ক অধিদপ্তর সাতক্ষীরার উপপরিচালক নাজমুন নাহার বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় দুটি বাল্যবিয়ে বন্ধ করা সম্ভব হয়েছে। বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে প্রশাসন ও অধিদপ্তরের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।