বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে হুড়োহুড়ি, মায়ের মৃত্যু চোখের সামনে দেখলেন ছেলে
সুবর্ণভূমি ডেস্ক
ভারতের কলকাতার উত্তরাঞ্চলের চোরবাগান সর্বজনীন দুর্গাপূজার মণ্ডপে ভিড়ের চাপে পদপিষ্ট হয়ে অন্তত ১৭ জনের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। আহত হয়েছেন অন্তত ৩৫ জন।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) সপ্তমীর সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টির মধ্যে মণ্ডপে ঢোকা ও বেরনো নিয়ে হুড়োহুড়ি থেকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তবে মৃত্যুর সংখ্যা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। আহতদের কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সময় মায়ের সঙ্গে মণ্ডপে ছিলেন ২৫ বছর বয়সী সোনু পাল। চোখের সামনে মায়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন কুমোরটুলির বাসিন্দা এই যুবক। তার কথায়, ‘আমিও হয়তো বাঁচতাম না।’
সোনু জানান, সপ্তমীর সন্ধ্যায় মাকে নিয়ে চোরবাগানের প্রতিমা দেখতে গিয়েছিলেন তিনি। তখন বাইরে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছিল। বৃষ্টির কারণে মণ্ডপের ভেতরে থাকা দর্শনার্থীরা বেরতে চাইছিলেন না।
অন্যদিকে, বাইরে অপেক্ষায় থাকা দর্শনার্থীরা বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মণ্ডপে ঢোকার জন্য চাপ দিতে থাকেন। একপর্যায়ে ভিড়ের চাপ সামলানো সম্ভব হয়নি।
সোনুর ভাষ্য, চাপের মুখে মণ্ডপের ভেতরে থাকা লোকজন হুড়মুড় করে একে অপরের ওপর পড়ে যান। তিনিও চাপা পড়েছিলেন। কোনো রকমে নিজেকে সামলে মায়ের কাছে গিয়ে দেখেন, মা আর বেঁচে নেই।
প্রত্যক্ষদর্শীদের অভিযোগ, মণ্ডপে প্রবেশ ও বেরনোর ব্যবস্থা এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে যথাযথ ঘোষণা ছিল না। এতে দর্শনার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। তবে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে তদন্তের তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যায় চোরবাগান মণ্ডপের বেরনোর পথের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বৃষ্টি শুরু হলে বাইরে অপেক্ষমাণ দর্শনার্থীরা সামনে এগিয়ে যান। এতে অনেকে পড়ে গেলে পদপিষ্টের পরিস্থিতি তৈরি হয়।
আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
দুর্ঘটনার পর মণ্ডপে দর্শনার্থীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। পুলিশ, দমকল ও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যরা উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
ঘটনার পর আহতদের দেখতে হাসপাতালে যান পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
মৃত্যুর সংখ্যা ও দুর্ঘটনার কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।