সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
শ্যামনগর উপজেলায় দীর্ঘকাল ধরে মাত্রাতিরিক্ত লবণাক্ত পানি পান থেকে নিষ্কৃতি পেয়েছেন স্থানীয় অধিবাসীরা।
আগে বহুদূর থেকে সুপেয় পানি আনতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো মা-বোনদের।
বহুবছরের সেই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি মিলেছে তাদের। শিল্পপ্রতিষ্ঠান আবুল খায়ের গ্রুপের অর্থায়নে খাগড়াঘাট ও কৈখালী গ্রামে স্থাপন করা হয়েছে দুটি আধুনিক রিভার্স অসমোসিস পানি শোধনাগার। যার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মাধ্যমে বদলে গেছে দুটি গ্রামের হাজারো মানুষের দৈনন্দিন জীবন।
শনিবার দুপুরে শ্যামনগরের খাগড়াঘাট ও কৈখালী এলাকায় উপস্থিত থেকে নবনির্মিত এই সুপেয় পানি প্ল্যান্ট দুটির উদ্বোধন করেন আবুল খায়ের গ্রুপের সিইও শাবাব আহমেদ।
তিনি বলেন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর সুপেয় পানির সংকট ও মানবিক বিপর্যয় তাদের গভীরভাবে ব্যথিত করে। ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যেই তারা এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন আবুল খায়ের গ্রুপের সিআর প্রধান ফেরদৌস ফয়সাল, বারসিক-এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শাহিন ইসলাম, শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি সামিউল আজম মনির, সমাজসেবক মহিউদ্দীন সরদার, তাজউদ্দীন আহমেদ এবং সুপেয় পানি প্রকল্পের সভাপতি জমিদাতা নূর উদ্দীন সরদার।
বাস্তবায়িত এই প্রকল্পে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির পাশাপাশি যুক্ত করা হয়েছে অত্যন্ত আধুনিক ও অপচয়হীন স্মার্ট ব্যবস্থাপনা। ঢাকা ওয়াসার স্মার্ট প্রযুক্তির মতো প্রতিটি গ্রাহককে দেওয়া হয়েছে বিশেষ ডিজিটাল কার্ড, যা পাম্পের সামনে স্পর্শ করলেই পানি পড়ে এবং সরিয়ে নিলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। অসচ্ছল মানুষের সাধ্যের কথা বিবেচনা করে ব্যবস্থাটি সম্পূর্ণ ক্যাশলেস রাখা হয়েছে এবং প্রতি লিটার পানির পরিচালন খরচ ধরা হয়েছে মাত্র ৫০ পয়সা, যা স্থানীয় বাজারের চেয়ে অনেক কম। পল্লী বিদ্যুতের চাপ ও লোডশেডিং থেকে মুক্ত থেকে নিরবচ্ছিন্ন সচলতা নিশ্চিতে প্রতিটি প্ল্যান্টে দশটি করে সোলার প্যানেল বসানো হয়েছে।
জমি দান করে এই সংকট নিরসনে এগিয়ে আসা প্রকল্প সভাপতি নূর উদ্দীন সরদার জানান, লালচে আয়রন ও বিষাক্ত নোনা পানির বদলে এখন মানুষ তাদের ঘরের দুয়ারে নিরাপদ পানি পাচ্ছে। পানি সংগ্রহের দীর্ঘ দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার সাধারণ মানুষও।
খাগড়াঘাটের রহিমা বেগম ও কৈখালীর আমেনা খাতুন জানান, আগে শুধু বছরের দু-তিন মাস বৃষ্টির পানি পাওয়া যেত। বাকি সময় বহুদূর হেঁটে নোনা পানি এনে পান করতে হতো। এখন থেকে কলের নলেই তাজা মিষ্টি পানি মেলায় জীবনমানের পরিবর্তন ঘটবে।