ঝিনাইদহ সদর ও শৈলকুপা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় ভাইয়ের হাতে দুই ভাই নিহত হয়েছেন। শনিবার সদর উপজেলার বকশি-চাঁদপুর গ্রামে বড় ভাইয়ের কোদালের কোপ ও মারধরে ছোট ভাই এবং শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে সুপারি পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত হন। দুই ঘটনায় অভিযুক্ত দুই ভাইই পলাতক রয়েছেন।
সদর উপজেলার বকশি-চাঁদপুর গ্রামে নিহত সোহান মন্ডল (২৬) ইজাল মন্ডলের ছেলে। শনিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তার বড় ভাই সুমন মন্ডল।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কয়েক দিন আগে সুমন মন্ডল ও সোহানের স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়। এর জেরে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে গ্রামের মাঠে সোহানের সঙ্গে সুমনের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সুমন পাশে থাকা কোদাল দিয়ে সোহানের মাথার পেছনে কোপ দেন এবং তাকে মারধর করেন। সোহানের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ছুটে এলে সুমন পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয়রা সোহানকে উদ্ধার করে ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদউজ্জামান বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত সুমন মন্ডলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক উমা ইসলাম বলেন, সোহানের মাথার পেছনে কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। কোদালের কোপ ও মারধরের শিকার হওয়ার তথ্য দিয়ে তাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তবে হাসপাতালে আনার সময়ই তিনি মারা গিয়েছিলেন। ময়নাতদন্তের পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অন্যদিকে, শৈলকুপা উপজেলার ব্রহ্মপুর গ্রামে সুপারি পাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে ছোট ভাই রবিউল ইসলামের লাঠির আঘাতে বড় ভাই মজিবুল ইসলাম (৪৫) নিহত হয়েছেন। শনিবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। মজিবুল ওই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে মজিবুল বাড়ির একটি সুপারি গাছ থেকে সুপারি পাড়েন। এ নিয়ে শনিবার দুপুরে তার সঙ্গে ছোট ভাই রবিউল ইসলামের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই ভাইয়ের পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়। এ সময় রবিউলের লাঠির আঘাতে মজিবুল, তার স্ত্রী ও ছেলে গুরুতর আহত হন।
পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পথে মজিবুল মারা যান। আহত তার স্ত্রী ও ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর রবিউল পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী মিলি খাতুনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন এলাকাবাসী।
শৈলকুপা থানার ওসি হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ছোট ভাইয়ের লাঠির আঘাতে বড় ভাই নিহত হয়েছেন। এলাকাবাসী রবিউলের স্ত্রীকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। রবিউলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।