কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ শহরের বেদেপল্লিতে ড্রাগন ফল চুরি ও মাদক ব্যবসাকেন্দ্রিক বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এতে অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় স্থানীয় থানা ও ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত থেকে শুরু হয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষ চলে। আহতদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, সম্প্রতি মোবারকগঞ্জ রেলওয়ে বস্তি থেকে ড্রাগন ফল চোর সন্দেহে একজনকে আটক করেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী মিজান নামে এক মাদক ব্যবসায়ীকে ধরা হয়। তবে তাদের পুলিশে না দিয়ে সমঝোতার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে বেদেপল্লী ও স্থানীয় বাসিন্দারা দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন।
এরই জেরে সোমবার রাতে বেদেপল্লির একাংশের সর্দার মনিরুল ইসলাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা ইমাম হোসেন লাভলু ও রেজা ওরফে রেজা ডাকাত দলবল নিয়ে বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করেন। এই হামলার প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে গ্রামবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে হামলাকারী শামীম হোসেন ও ইমাম হোসেন লাভলুসহ কয়েকজনকে মারধর করে।
খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। পরে পরিবেশ বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে জেলা পুলিশ লাইনস থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এনে মোতায়েন করা হয়। বর্তমানে ওই এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে বলে দাবি করেছে পুলিশ।
কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুলফিকার আলী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।