পরকীয়ার অপবাদে
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
বাড়ির বারান্দার সিঁড়িতে চুপচাপ বসে ছিলেন সুচিত্রা রানী বিশ্বাস (৪০)। কথা বলতে গিয়ে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়ছিলেন। তার অভিযোগ, পরকীয়ার অপবাদ দিয়ে কয়েকজন বাড়িতে ঢুকে তাকে মারধর করেন। একপর্যায়ে তার মাথার চুল কেটে তার শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।
শুক্রবার বিকেলে ঝিনাইদহ সদরের করোতিপাড়া গ্রামে গিয়ে সুচিত্রার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা যায়।
সুচিত্রা ওই গ্রামের ইজিবাইক চালক মন্মথ বিশ্বাসের স্ত্রী। তাদের ছেলে মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস পাশের একটি বাজারে সেলুনে কাজ করেন।
সুচিত্রা বলেন, ‘‘বৃহস্পতিবার বিকেলে বাড়িতে কাজ করছিলাম। এমন সময় পাশের গ্রামের রসিদ নামে এক ব্যক্তি বাড়িতে এসে অভিযোগ করেন, আনোয়ার নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে আমার পরকীয়া সম্পর্ক রয়েছে। আমাকে বলা হয় ‘ভালো হয়ে যাও, না হলে বিপদে পড়বে।’’
অভিযোগ অস্বীকার করলে আরও চারজন বাড়িতে ঢুকে একজন ‘আনোয়ারের সঙ্গে তোর সম্পর্ক রয়েছে’ বলেই চুলের মুঠি ধরে মারধর শুরু করে। এ সময় তার কাপড়ও টানাহেঁচড়া করা হয়। এরপর অন্যরা তাকে ধরলে আনোয়ারের স্ত্রী কাচি দিয়ে সুচিত্রার মাথার চুল কেটে দেয়, মারধরও করে। একপর্যায়ে পোশাক টেনে খুলে শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখিয়ে দিয়ে চলে যায়।
রাতে স্বামী বাড়িতে ফিরলে সুচিত্রা তাকে ঘটনাটি জানান। পরে তারা সদর থানায় এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
ছেলে মৃত্যুঞ্জয় বলেন, ‘ঘরে ঘুমাচ্ছিলাম, মায়ের কান্নার শব্দ শুনে বের হয়ে দেখি, কয়েকজন মায়ের শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখাচ্ছে। বাধা দিলে তারা আমাকেও লাঠি দিয়ে মারধর করে ‘
স্থানীয়রা জানান, কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। এভাবে বাড়িতে ঢুকে একজন নারীকে মারধর, চুল কেটে দেওয়া ও শরীরে মরিচের গুঁড়া মাখানোর ঘটনা কোনোভাবেই ঠিক হয়নি।
তাদের দাবি, আনোয়ার দীর্ঘদিন ধরে শহরে থাকেন এবং গ্রামেও তেমন একটা আসেন না। ফলে সুচিত্রার সঙ্গে তার সম্পর্কের অভিযোগের সত্যতা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে রসিদ, আনোয়ার ও তার স্ত্রীর বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
ঝিনাইদহ সদর থানার ওসি আসাদুজ্জামান বলেন, ওই নারী বৃহস্পতিবার রাতে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। এখনও কেউ গ্রেপ্তার নেই। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।