স্টাফ রিপোর্টার
, যশোর
যশোর সদর উপজেলার ভায়না গ্রামের চৌরাস্তা মোড়ের হাবিবুর রহমানের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ছয়জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে আটক চারজনকে অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে চার্জশিটে। মামলার তদন্ত শেষে সম্প্রতি আদালতে এ চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন।
অভিযুক্ত আসামিরা হলো, চট্টগ্রাম আকবর শাহ থানার দুই নম্বর ঝিলের বাসিন্দা ও ঝালকাঠি কাঁঠালিয়া উপজেলার দক্ষিণ চেচরিরামপুর গ্রামের মৃত সেলিম মৃধার ছেলে আলী হোসেন ওরফে বাবু মৃধা, খুলনার সোনাডাঙ্গার সোহরাওয়ার্দী কলেজ রোডের বানর গাতী এলাকার চিকনা পারভেজের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও সোনাডাঙ্গা থানার আল-আমিন মহল্লার বাচ্চু সরদারের ছেলে মাসুম সরদার, নাজিরঘাট মেইন রোডের বাসিন্দা মৃত শেখ ইরফান আলীর ছেলে আকরাম ওরফে আসলাম ওরফে আরমান, খুলনা সদর থানার জিএম চৌধুরী রোডের শিপইয়ার্ড এলাকার কিরনের বাড়ির ভাড়াটিয়া ও ঝালকাঠি কাঁঠালিয়া উপজেলা মহিষাকান্দি গ্রামের মৃত ইউনুস হাওলাদারের ছেলে জাহিদুল ইসলাম রাজু ওরফে রাজিউজ্জামান রাজু ওরফে রিপন ইসলাম ওরফে গলাকাটা রাজু, সাতক্ষীরা শ্যামনগরের নওয়াবেকী গ্রামের বাসিন্দা ও খুলনা সদরের রূপসা স্ট্যান্ড রোড চানমারীর ডাক্তার গলির মালেক গাজীর ছেলে আব্দুল্লাহ ওরফে আফিল গাজী এবং মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর থানার কাশিমনগর গ্রামের বছির উদ্দিন দেওয়ানের ছেলে আলমাছ দেওয়ান।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘরের লাইট জ্বলতে দেখে হাবিবুর রহমানের ঘুম ভেঙে যায়। তিনি দেখেন, ৩/৪ জন মুখোশপরা লোক ঘরের ভেতর দাঁড়িয়ে আছে। ওই ঘরে তিনি ও তার মাদরাসাপড়ুয়া মেয়ে ছিলেন। তিনি চিৎকার দিতে গেলে ডাকাতরা বলেন, ‘আমরা চোর না, ডাকাত। চিৎকার করলে একেবারে শেষ করে দেবো। তোর মেয়েরও সর্বনাশ করা হবে।’
এরপর ডাকাতরা তাকে চুপ থাকতে বলে কম্বলের মধ্যে মা ও মেয়েকে মুখ লুকিয়ে রাখার নির্দেশ দেয়। তাদের একজন অস্ত্র হাতে মা ও মেয়েকে পাহারা দিচ্ছিল। এরপর হাবিবুর রহমানের চোখ ও হাত বেঁধে ফেলে। এরপর ঘরের আলমারি খুলে সেখানে থাকা নগদ দুই লাখ টাকা এবং দশ ভরি সোনার গহনা নিয়ে চলে যায়। ডাকাত দলে মোট ৬/৭ জন ছিল।
এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ডাকাতদের আসামি করে ৫ নভেম্বর কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন হাবিবুর রহমান। এ মামলার তদন্তকালে আটক আসামিদের দেওয়া তথ্য ও সাক্ষীদের বক্তব্যে ডাকাতির সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় ওই ছয়জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। ঘটনার সাথে জড়িত থাকার প্রমাণ না পাওয়ায় বিভিন্ন সময়ে আটক রুবেল ফারাজী, কামরুল ইসলাম, সোহেল আবিদ ইসলাম ও জাহিদ হাসানের অব্যাহতির আবেদন করা হয়েছে।
চার্জশিটভুক্ত আকরাম, জাহিদুল, আব্দুল্লাহ ও আলমাছ দেওয়ান বর্তমানে পলাতক রয়েছে।