মাগুরা প্রতিনিধি
মাগুরা সদর উপজেলায় কিশোর সুমন মোল্লা (১৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ মার্চ রাতে নিজ বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর সুমন মোল্লা নিখোঁজ হন। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে ২ এপ্রিল মাগুরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
এরপর ৩ এপ্রিল বিকেল ৫টা শহরের দক্ষিণ মীরপাড়া (মাঠপাড়া) এলাকায় আয়নার মোল্লার বাড়ির পাশের একটি বাগান থেকে অজ্ঞাত এক কিশোরের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। লাশটি আংশিক পচনধরা ও বিকৃত অবস্থায় ছিল। পরে স্বজনরা পোশাক দেখে লাশটি সুমন মোল্লার বলে শনাক্ত করেন।
ঘটনার পরপরই পুলিশ সুপারসহ জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং মামলার রহস্য উদ্ঘাটনে বিভিন্ন ইউনিটকে নির্দেশনা দেন। গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই জড়িতদের শণাক্ত করে পুলিশ।
প্রথম দফায় গ্রেপ্তার করা হয় মেহেনাজ হোসেন জিহাদ (২৪), জুয়েল হোসেন (২৩) ও শাকিব শেখকে (১৯)। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রধান আসামি তারিকুল ইসলামকে (২৬) মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টায় নারায়ণগঞ্জ জেলার সিদ্ধিরগঞ্জ থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিনে তার সহযোগী হৃদয় হোসেন (২৮)কেও আটক করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, মোবাইল ফোন বন্ধক রাখা নিয়ে বিরোধের জেরে ৩১ মার্চ রাতে সুমনের সঙ্গে আসামিদের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে তারা সুমনের মাথায় আঘাত করে তাকে অজ্ঞান করে ফেলে।
এরপর তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। মৃত্যু নিশ্চিত করতে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছুরিকাঘাত করা হয় এবং শ্বাসনালী কেটে দেওয়া হয়। পরে লাশটি পাশের বাগানে ফেলে রেখে পালিয়ে যায় তারা।
মাগুরা জেলা পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেন জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। আসামিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।