মেহেরপুর প্রতিনিধি
মেহেরপুর শহরের রিকশাচালক গোলাম হোসেন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কালু হোসেন ও তার কথিত পরকীয়া প্রেমিকা বন্যা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (৬ মে) সকালে মেহেরপুর শহরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ন কবীর গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার কালু হোসেন মেহেরপুর শহরের আকুব্বার আলীর ছেলে ও নিহতের খালাতো ভাই। মামলার দুই নম্বর আসামি বন্যা খাতুন একই এলাকার রাজু আহমেদের স্ত্রী।
নিহত গোলাম হোসেনের স্ত্রী আলেয়া খাতুন বাদী হয়ে কালু ও বন্যাকে আসামি করে মেহেরপুর সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন (মামলা নম্বর-৬)। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তার চোখের সামনেই আসামিরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও নিহতের পরিবার জানায়, কয়েকদিন আগে গোলাম হোসেনের পাখিভ্যান (রিকশা) প্রতিবেশী বন্যা খাতুনের বাড়ির প্রাচীরে ধাক্কা লেগে সামান্য অংশ ভেঙে যায়। যদিও গোলাম হোসেনের পরিবার সেই প্রাচীর মেরামত করে দিয়েছিলেন, তবুও বন্যা খাতুন বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন।
নিহতের মা নবিছন নেছা ও স্ত্রী আলেয়া খাতুন অভিযোগ করেন, বন্যা খাতুনের সাথে কালু হোসেনের দীর্ঘদিনের পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল। প্রাচীর ভাঙা নিয়ে সৃষ্ট বাকবিতণ্ডার জেরে তার প্রেমিকাকে খুশি করতেই কালু হোসেন এই হত্যাকাণ্ড ঘটান।
গত মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ৭টার দিকে গোলাম হোসেনের বাড়িতে গিয়ে দ্বিতীয় আসামি বন্যা খাতুন তর্কে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে কালু হোসেন পেছন থেকে ধারালো দা দিয়ে গোলাম হোসেনের ঘাড়ে ও শরীরে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মেহেরপুর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মেহেরপুর সদর থানার ওসি হুমায়ন কবীর জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের বুধবার দুপুরে মেহেরপুর আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে।