অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে ব্যবসায়ী আনিছুর রহমান হত্যার ঘটনায় সুনির্দিষ্ট দুইজন ও অজ্ঞাত ২/৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী নাহিদা ইসলাম বাদী হয়ে থানায় মামলাটি করেন।
মামলার আসামিরা হলেন, উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামের শাহ মো. জুনায়েদের ছেলে শাহ মো. মাহমুদ (৩৮), একই গ্রামের মৃত নিছার আলীর ছেলে নাসির (৩২) ও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৬ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুয়াখোলা গ্রামে পীরবাড়ি মসজিদের সামনে আনিছুর রহমান তার নির্মাণাধীন ছয় তলা ভবনের (আনিছ ট্রেড ভ্যালি) ম্যানেজার রেজাউল ইসলামের সঙ্গে কথা বলছিলেন। এ সময় শাহ মো. মাহমুদ তার সহযোগী নাসিরসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন অস্ত্রধারী পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ভবনের ভেতরে ঢোকে।
একপর্যায়ে শাহ মো. মাহমুদ গালিগালাজ করে তার কাছে থাকা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে আনিছুর রহমানের মুখের বাম পাশে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত আনুমানিক পৌনে ৩টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আনিছুর রহমানের মৃত্যু হয়।
মামলার বাদী নাহিদা ইসলাম বলেন, ‘আমার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। দুইজনের নামসহ অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনের বিরুদ্ধে অভয়নগর থানায় মামলা করেছি।’
অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম নুরুজ্জামান বলেন, নিহত আনিছুর রহমানের স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে।
নিহত আনিছুর রহমান সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের তুলসীডাঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে। তিনি ব্যবসায়ীক কারণে অভয়নগর উপজেলার গুয়াখোলা গ্রামে স্থায়ীভাবে বসবাস করতেন। আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স জয়েন্ট ট্রেডিং কর্পোরেশন লিমিটেডের পরিচালক ও নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট, খাদ্যশস্য ও কয়লা ব্যবসায়ী সমিতির উপদেষ্টা ছিলেন তিনি।