ঝিনাইদহ প্রতিনিধি
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, তথ্যের গোপন করা এবং শিক্ষক নিবন্ধন সনদ জালিয়াতির পৃথক তিনটি মামলায় ঝিনাইদহের প্রভাবশালী চার ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
সম্প্রতি ঝিনাইদহ জেলা সমন্বিত দুদক কার্যালয় তদন্ত শেষে আদালতে এই চার্জশিটগুলো দাখিল করে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সভাপতি, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র এবং প্রয়াত সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের বোন।
দুদক ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহ শহরের আরাপপুর সিটি কলেজপাড়ার রোকনুজ্জামান বিশ্বাস রানি, যিনি জেলা বাস-মিনিবাস মালিক সমিতির সাবেক সভাপতি, তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগ ছিল।
দুদকের সাবেক সহকারী পরিচালক মোশাররফ হোসেন তদন্তে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে ২০২৫ সালে চার্জশিট দাখিল করেন (মামলা নম্বর: দুদক-১ ও স্পেশাল ট্রাইব্যুনাল ২/২২)।
অন্যদিকে, কালীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বিজুর বিরুদ্ধে ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত অনুসন্ধান চালিয়ে কালো টাকা সাদা করা ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পায় দুদক। তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি (স্পেশাল ৩/২১) গত ৮ এপ্রিল বিচারের জন্য যশোর আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া, জালিয়াতি মামলায় ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের বোন ফাতেমা খাতুন এবং তাকে জাল সনদে নিয়োগ দেওয়ার দায়ে কালীগঞ্জ সরকারি মাহতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ মণ্ডলের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দিয়েছে দুদক।
তদন্তে দেখা যায়, ফাতেমা খাতুন ২০১২ সালের শিক্ষক নিবন্ধনের একটি জাল সনদ ব্যবহার করে একের পর এক তিনটি কলেজে চাকরি করেছেন এবং সরকারি বেতন-ভাতা উত্তোলন করেছেন। সর্বশেষ সরকারি মাহতাব উদ্দিন কলেজে যোগদানের সময় সাবেক অধ্যক্ষ মজিদ মণ্ডল জেনে-বুঝে তাকে নিয়োগ দিয়ে জালিয়াতিতে সহায়তা করেন।
এসব মামলার বিষয়ে অভিযুক্ত রোকনুজ্জামান রানি ও মোস্তাফিজুর রহমান বিজু বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তারা এই মামলা আইনিভাবে মোকাবিলা করবেন।
ঝিনাইদহ দুদক কার্যালয়ের উপ-পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ জানান, তদন্তে প্রাথমিক সত্যতা মেলায় তিনটি মামলারই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে, যা এখন আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার অধীনে রয়েছে।