বাগেরহাট প্রতিনিধি
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরের কটকা ও শেলারচর মোহনায় মাছ ধরার সময় অস্ত্রের মুখে ১২ জন জেলেসহ একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের ট্রলার অপহরণ করেছে বনদস্যু 'জাহাঙ্গীর বাহিনী'।
মঙ্গলবার (১৯ মে, ২০২৬) গভীর রাতে এই অপহরণের ঘটনা ঘটে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে ফিরে আসা অন্যান্য জেলেদের মাধ্যমে বিষয়টি জানাজানি হয়।
নিখোঁজ ট্রলারের মালিক ও স্থানীয় মৎস্যজীবী সমিতি সূত্র জানিয়েছে, চার দিন আগে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে জেলেরা গভীর সাগরে মাছ শিকারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে সুন্দরবনের কটকা সংলগ্ন সাগরের মোহনায় ১৫-১৬ জনের একদল সশস্ত্র বনদস্যু স্পিডবোটযোগে এসে তাদের ট্রলারের গতিরোধ করে।
দস্যুরা জলপাই রঙের বিশেষ পোশাক পরিহিত ছিল এবং তাদের হাতে দেশীয় পাইপগান ও রামদা ছিল। তারা অস্ত্রের মুখে ট্রলারে থাকা ১২ জন জেলেকে জিম্মি করে এবং ট্রলারের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সুন্দরবনের গহীন অরণ্যের দিকে চলে যায়।
অপহৃত সব জেলেদের বাড়ি বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার রুহিতা ও চরদুয়ানী গ্রামে।
অপহৃতরা হলেন— ট্রলার মালিক মাসুম (৫৮), মাঝি ইব্রাহিম (৪০), ইয়াসিন (২৫), হোসেন (৩০), তাওহীদ (২৮), সেলিম (২৫), জাকির মুন্সি (২৮), হানিফ (৩৫), হৃদয় (২৬), সুমন (২৭), মাহবুব (২৪) এবং আল-আমিন (২২)।
বুধবার (২০ মে) সকালে মৎস্যজীবী সমিতির এক নেতার মুঠোফোনে দস্যু বাহিনীর পক্ষে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি যোগাযোগ করে। অপহৃত জেলেদের জীবিত ফেরত পেতে হলে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিজন জেলের জন্য ২ লাখ টাকা করে মোট ২৪ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। টাকা না দিলে জেলেদের হত্যা করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেয় দস্যুরা।
ঘটনার পর থেকে নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, ‘আমরা খবর পাওয়ার পরপরই কোস্টগার্ড পশ্চিম জোন এবং বন বিভাগকে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়েছি। জেলেদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনাই এখন আমাদের মূল লক্ষ্য।’
সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. মাহাবুব হাসান জানান, ‘খবর পেয়ে শেলারচর ও কচিখালী ক্যাম্পের বনরক্ষীদের সমন্বয়ে সুন্দরবনের সম্ভাব্য রুটগুলোতে যৌথ তল্লাশি অভিযান শুরু করা হয়েছে।’
কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের (মোংলা) মিডিয়া কর্মকর্তা জানান, জেলেদের উদ্ধারে কোস্টগার্ডের দুটি দ্রুতগামী স্পিডবোট সাগরে ও সুন্দরবনের কটকা-সংলগ্ন খাটিয়াখালী খালে তল্লাশি চালাচ্ছে। জলদস্যুদের দমনে কোস্টগার্ডের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রয়েছে।