যশোর, বাংলাদেশ || বৃহস্পতিবার, ২৮ মে ২০২৬
Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi Subornovumi
Ad for sale 870 x 80 Position (1)
Position (1)
Ad for sale 870 x 100 Position (1)
Position (1)

লোহাগড়ায় ভ্যানচালকের গরুর মাংস নিয়ে চামড়া ফেলে গেল চোরেরা

লোহাগড়া (নড়াইল) প্রতিনিধি

প্রকাশ : মঙ্গলবার, ২৬ মে,২০২৬, ০৯:০৯ পিএম
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৮ মে,২০২৬, ০১:১৬ এ এম
লোহাগড়ায় ভ্যানচালকের গরুর মাংস নিয়ে চামড়া ফেলে গেল চোরেরা

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় এক ভ্যানচালকের শেষ সম্বল হরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। গোয়ালঘর থেকে একটি মূল্যবান ষাঁড় চুরি করে নিয়ে যাওয়ার পর সেটিকে জবাই করে মাংস নিয়ে গেছে চোরেরা। পরে পাশের একটি খালের পাড় থেকে গরুটির চামড়া উদ্ধার করা হয়।

উপজেলার লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের বাঁকা গ্রামে ঘটা এই ঘটনায় ভুক্তভোগী ভ্যানচালকের পরিবারটি এখন সর্বস্বান্ত। এই বিষয়ে লোহাগড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বাঁকা গ্রামের ভ্যানচালক জিয়ার শেখ ও তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম পরম যত্নে প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি দেশি জাতের ষাঁড় লালন-পালন করে আসছিলেন।

সোমবার (২৫ মে) রাত ৩টার দিকেও তারা গরুটিকে গোয়ালঘরে অক্ষত অবস্থায় দেখেন। তবে ভোর সাড়ে ৩টা থেকে ৫টার মধ্যে কোনো এক সময় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গোয়ালঘরের তালা ভেঙে ষাঁড়টি চুরি করে নিয়ে যায়।

সকালে গরুটিকে গোয়ালঘরে না পেয়ে জিয়ার শেখ চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও কোনো সন্ধান না পেয়ে তার স্ত্রী স্বপ্না বেগম লোহাগড়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।

এদিকে, মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে বাঁকা গ্রামের পশ্চিমপাড়ার খালপাড়ে একটি গরুর চামড়া পড়ে থাকতে দেখেন জিয়ার শেখ। গায়ের রঙ ও আকৃতি দেখে তিনি নিশ্চিত হন যে, এটি তার চুরি হওয়া ষাঁড়টিরই চামড়া। ধারণা করা হচ্ছে, রাতের আঁধারে চোরেরা গরুটি চুরি করে ওই নির্জন খালপাড়ে নিয়ে জবাই করে এবং মাংস নিয়ে চামড়াটি ফেলে রেখে যায়।

জিয়ার শেখ বলেন, 'আমি ভ্যান চালিয়ে খাই। কারও কোনো ক্ষতি করিনি। তাহলে কেন মানুষ আমার এই সর্বনাশ করলো? এই গরুটাই ছিল আমার শেষ সম্বল। আমি এখন সর্বস্বান্ত। যারা আমার অবুঝ পশুটাকে কেটে মাংস নিয়ে গেল, আমি আল্লাহর দরবারে তাদের বিচার দিলাম।'

লক্ষ্মীপাশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এস এম নুর মোহাম্মদ বলেন, 'এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। একজন দরিদ্র মানুষের রুটি-রুজির সম্বল এভাবে কেড়ে নেওয়া মেনে নেওয়া যায় না। আমি লোহাগড়া থানা পুলিশের প্রতি জোর দাবি জানাচ্ছি, যেন দ্রুত তদন্ত করে এই চোর চক্রকে আইনের আওতায় আনা হয়।'

লোহাগড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) বিজন কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। এই বিষয়ে পুলিশের তদন্ত চলমান রয়েছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউটিউব চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন

Ad for sale 270 x 200 Position (2)
Position (2)