রাব্বি আল-আমিন
, যশোর
দেশি গরুতেই জমে উঠেছে যশোরে কোরবানি পশুর হাটগুলো। ভারত থেকে গরু না আসায় খামারিরা খুশি হলেও আশানুরুপ দাম না পেয়ে তারা অসন্তুষ্ট।
ক্রেতারা বলছেন, উৎপাদন খরচের উসিলায় বিক্রেতারা শেষ মুহূর্তেও গরুর দাম ছাড়ছেন না।
এদিকে, নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে হাটগুলোয় বসানো হয়েছে জাল টাকা শনাক্ত মেশিন ও পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে যশোরে পশুর আটটি বড় হাট বসেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে ছোট আরো ২৫টি অস্থায়ী হাটে গরু-ছাগল বেচাকেনা হচ্ছে। শেষ মুহূর্তেও এসব হাটে কোনো ভারতীয় গরু না আসায় দেশি গরুতেই হাটগুলো জমে উঠেছে।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় সাড়ে ১৩ হাজার ছোট-বড় খামারি রয়েছে । যশোরের আটটি উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা পশুর মধ্যে প্রায় ৩৬ হাজার গরু, ৮১ হাজার ২৭৬টি ছাগল রয়েছে। আর চাহিদা রছেছে ৩০ হাজার গরু ও ৭০ হাজার ছাগলের। যশোরে ছাগল ও গরু মিলিয়ে চাহিদা রয়েছে এক লাখ দুই হাজারের মতো। চাহিদার চেয়ে ১৭ হাজার পশু বেশি অতিরিক্ত রয়েছে।
তবে, ব্যবসায়ী ও খামার মালিকদের অভিযোগ, এ বছর গরু লালন-পালনে খরচ বাড়লেও দাম বলছেন না ক্রেতারা।
বাবুল সরদার নামে এক খামার মালিক বলেন, এ বছর বিক্রয়ের জন্য ১৪টি গরু হাটে নিয়ে এসেছি। কিন্তু আড়াই লাখ টাকার গরু ক্রেতারা দুই লাখ টাকা দাম বলছে। প্রত্যেক খামারি গত বছরের তুলনায় এ বছর লোকসানের ভেতরে আছে। কারণ গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় গরু লালন-পালনে আমাদের এ বছর বেশি ব্যয় হয়েছে। সে কারণে অন্য বছরের তুলনায় এ বছর গরুর দামও একটু বেশি। কিন্তু ক্রেতারা সেটা না মানতে নারাজ। ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা গত বছরের মতো দাম বলছে। জানি না সব গরু বেচতে পারব কি না। এভাবে চলতে থাকলে খামারি ব্যবসা থেকে বেরিয়ে আসবো।
রুহুল কুদ্দুস নামে এক গরু ব্যবসায়ী জানান, তিনি কৃষক ও খামারিদের কাছ থেকে গরু কিনে নিয়ে বিভিন্ন হাটে বিক্রয় করেন। কিন্তু যে দামে গরু কিনছেন তার চেয়ে কম দামে বিক্রি করা লাগছে। কোরবানির গরু অন্য বছরের তুলনায় এবার তুলনামূলক অনেক কম দামে বিক্রয় হচ্ছে। এতে গরু ব্যবসায়ীদের অনেক লোকসান গুণতে হচ্ছে।
এদিকে, প্রসেনজিৎ কুমার নামে এক কৃষক বলেন, ভারত থেকে এবার গরু না আসায় কৃষকরা কিছুটা লাভের মুখ দেখছে। আমরা একটা-দুইটা করে গরু কোরবানি ঈদ সামনে রেখে লালন পালন করি। এবার হাটে প্রচুর গরু উঠেছে। কিন্তু তুলনামূলকভাবে আমরা দাম পাচ্ছি না ।
তবে, ক্রেতারা বলছেন, হাটে গরুর আমদানি ভালো হলেও উৎপাদন খরচ বেশির উসিলায় বিক্রেতারা শেষমুহূর্তেও গরুর দাম ছাড়ছেন না। এতে গরু কেনা মুশকিল হয়ে পড়েছে।
নুর ইসলাম এক ক্রেতা জানান, গোখাদ্যের দাম বৃদ্ধি কথা বলে এ বছর গরু-ছাগলের দাম বেশি চাইছে বিক্রেতারা। ক্রেতাদের চাহিদা বেশি হওয়ায় এবার হাটে দেশি গরুর সংখ্যা বেশি। কেনার সময় বিক্রেতাদের সাথে একটু দরদাম করা হচ্ছে। কিন্তু সন্তুষ্ট হতে পারছেন না।
তিনি বলেন, বেশ কয়েকটা হাট ঘুরেছি। প্রতিটা হাটের পরিবেশ অনেক ভালো । পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলার কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা রয়েছে। ক্রেতা-বিক্রেতারা দূর-দূরান্ত থেকে এসে নিরাপদে বেচাকেনা করতে পারছে।
যশোর বাগআঁচড়া সাতমাইল হাটের ইজারাদার কুদ্দুস আলী বিশ্বাস জানান, এবার হাটে গরুর অনেক আমদানি, কিন্তু বেচাকেনা কম। হাটে ক্রেতাদের তুলনায় গরুর সংখ্যা বেশি। ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী গরু পেলেও দাম বেশি হওয়ায় কিনতে পারছে না। অন্যান্য বছরে তুলনায় এ বছর বেচাকেনা অনেক কম।
যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিজারুল ইসলাম বলেন, প্রতিটা হাটে সিসি ক্যামেরা ও জাল টাকা শনাক্তের মেশিন বসানো হয়েছে। পোশাক ও সাদা পোশাকে পুলিশ ডিউটি করছে। গরুর হাটে কোনো ধরনের চাঁদাবাজি, এক হাটের গরু অন্য হাটে জোর করে নিয়ে যাওয়াসহ সার্বিকভাবে গরু বিক্রয় থেকে ক্রেতার বাসায় যাওয়া পর্যন্ত সকল দায়িত্বে ভূমিকা পালন করছি। কোনো ধরনের অনিয়মের খবর এলে আলাদা টিম আছে, তারা ব্যবস্থা নেবে। এ পর্যন্ত এ সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। হাটে কেনাবেচা সংক্রান্ত যাবতীয় কাজ যেনো সুশৃংখলভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য সকল ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ।
যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সিদ্দীকুর রহমান জানান, কোরবানির হাটগুলোয় প্রাণিসম্পদ বিভাগের কঠোর নজরদারিতে আছে। প্রতিটি হাটে ভেটেরিনারি টিম কাজ করছে। কোনো অসুস্থ পশু, পেটে বাচ্চাযুক্ত গাভী বা অস্বাস্থ্যকর উপায়ে মোটাতাজা করা পশু যাতে বিক্রি না হয় তা তদারকি করা হচ্ছে।