মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
মাগুরার মহম্মদপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির স্থানীয় দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে আটজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এসময় দুই পক্ষের অনন্ত ১২টি বাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
রবিবার (৩১ মে) সন্ধ্যা থেকে শুরু করে সোমবার বিকেল পর্যন্ত কয়েক দফায় উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ঘুল্লিয়া গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, শহীদ জিয়া পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও মাগুরা জেলা যুবদল নেতা সোহেল রানা এবং বিনোদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুর জামান ভূগলের সমর্থকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে।
কয়েকদিন আগের সোমবার বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে শুকুর নামে এক ব্যক্তিকে আশরাফুর জামান ভূগলের সমর্থকরা বেধড়ক মারধর করে। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর জের ধরে রোববার (৩১ মে) রাতে উভয়পক্ষ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। রোববার প্রথম দফা সংঘর্ষের পর আজ সোমবার সকালে শেখপাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে আবার দফায় দফায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষে দুই পক্ষের মধ্যে আমজেদ মোল্যা, আরজিনা বেগম, আরিফ শিকদার, জুয়েল মোল্যাসহ অন্তত দশজন আহত হয়েছেন। পরে তাদেরকে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় জাহিরুল মোল্যা নামে একজনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়েছে।
দফায় দফায় চলা এই হামলার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষ চলাকালীন একের পর এক বাড়িঘরে হামলা চালানো হয়। এতে মতিন ফকির, আরজু মোল্যা, অলিয়ার ফকির, হান্নান মোল্যা, এরশাদ মোল্যা এবং আকবর শেখসহ দুই পক্ষের অন্তত ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছে।
আহতদের উদ্ধার করে মাগুরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে জখম গুরুতর হওয়ায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় জাহিরুল মোল্যাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মহম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি আশরাফুজ্জামান জানান, এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি ছিল, তবে এখন পরিস্থিতি ভালো। ফের সংঘর্ষ এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনা তদন্ত করছে এবং জড়িতদের আটকে অভিযান চালাচ্ছে।